বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : ভারতের আধ্যাত্মিক ও তীর্থ পর্যটন পরিকাঠামোকে আধুনিক ও টেকসই রূপ দিতে বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রক। দেশজুড়ে মন্দির করিডোর, তীর্থস্থান এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘প্রসাদ’ (PRASHAD) এবং ‘স্বদেশ দর্শন’ (Swadesh Darshan 2.0) প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তীর্থযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। লোকসভায় লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত (Gajendra Singh Shekhawat) জানান, ‘প্রসাদ’ ও ‘স্বদেশ দর্শন’ প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে মন্দির করিডর, বৌদ্ধ ও আধ্যাত্মিক পর্যটন কেন্দ্র এবং ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল আধ্যাত্মিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা।
কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট বা ডিপিআর (DPR) সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, পৌর সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রস্তুত করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যাতে তীর্থস্থানের ধর্মীয় তাৎপর্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অক্ষত থাকে, আবার একই সঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও যাত্রী পরিষেবার উন্নয়ন সম্ভব হয়। তীর্থ পর্যটনে ক্রমবর্ধমান ভিড়, পরিবেশগত চাপ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে একাধিক বাস্তবমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক কিউ ম্যানেজমেন্ট কমপ্লেক্স, অপেক্ষাকক্ষ, প্রবেশপথ প্রশস্তকরণ, সিসিটিভি নজরদারি, পার্কিং সুবিধা, পর্যটক তথ্য কেন্দ্র, শেষ মাইল সংযোগ ব্যবস্থা, পবিত্র ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা, অ্যামেনিটি সেন্টার এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এই সব উদ্যোগের লক্ষ্য তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা দেওয়া।
২০২৫ সালে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ ও আধ্যাত্মিক পর্যটন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে নাগার্জুন সাগরে বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার প্রকল্প এবং অহোবিলমকে আধ্যাত্মিক গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিহারে বোধগয়ায় বৌদ্ধ ধ্যান ও অভিজ্ঞতা কেন্দ্র নির্মাণ এবং সারান জেলার অম্বিকা ভবানী মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। হিমাচল প্রদেশে মা চিন্তপূর্ণী দেবী মন্দির, ঝাড়খণ্ডে রামরেখা ধাম, কেরালায় থালাসেরি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, কর্নাটকে রেণুকা ইয়াল্লাম্মা দেবী মন্দির ও বিদর জেলার পাপনাশ মন্দিরে পরিকাঠামো উন্নয়ন কাজ চলছে। মধ্যপ্রদেশে পীতাম্বরা পীঠ দাতিয়া এবং ঐতিহাসিক অর্ছা শহরের উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
রাজস্থানেও একাধিক উল্লেখযোগ্য প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সিকার জেলার শ্রী খাটু শ্যামজি মন্দির, বিকানেরের শ্রী কর্ণিমাতা মন্দির এবং ভিলওয়ারা জেলার মালাসেরি ডুঙ্গরি অঞ্চলে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ুতে রামেশ্বরমের আইকনিক রূপান্তর এবং নবগ্রহ মন্দিরগুলির উন্নয়ন প্রকল্প আধ্যাত্মিক পর্যটনের মানচিত্রে নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়াও, উত্তর-পূর্ব ভারতেও এই প্রকল্পের ছোঁয়া লেগেছে। মেঘালয়ের নর্তিয়াং আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, নাগাল্যান্ডের ইমপুর হেরিটেজ অভিজ্ঞতা, সিকিমের কাভি ঐতিহ্য প্রকল্প এবং মিজোরামের ভাংখিয়া অঞ্চলে মৌলিক সুবিধা উন্নয়নের কাজ চলছে। এর ফলে স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের মতে, ‘প্রসাদ’ ও ‘স্বদেশ দর্শন’ প্রকল্পের মাধ্যমে তীর্থ পর্যটনকে কেবল ধর্মীয় সফরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামগ্রিক, দায়িত্বশীল ও টেকসই পর্যটন মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকবে, তেমনই অন্যদিকে পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিকাশের পথও প্রশস্ত হবে।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi on India US Trade Deal | ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’, দেশের প্রত্যেকেরই লাভ হবে: এনডিএ বৈঠকে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর



