সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভারতের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে সোমনাথ মন্দির (Somnath Temple) -এর স্থান অনন্য উচ্চতায়। ১০২৬ খ্রীস্টাব্দে প্রথম আক্রমণের এক হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক তীর্থস্থানকে স্মরণ করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এই উপলক্ষ্যে তিনি একটি সম্পাদকীয় প্রবন্ধও শেয়ার করেন, যেখানে সোমনাথ মন্দিরকে ভারতের অটুট আত্মশক্তি, আত্মসম্মান ও সভ্যতার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর লেখায় ও সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ -এর (X) বার্তায় জোর দিয়ে বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বারবার আক্রমণের মুখোমুখি হয়েও সোমনাথ মন্দির মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘সোমনাথ শুধু মন্দিরের নয়, এটি ভারতমাতার সেই অসংখ্য বীর সন্তানের কাহিনি, যাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেও দেশের সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে রক্ষা করেছেন।’

অন্যদিকে, ২০২৬ সালকে তিনি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। কারণ এই বছরেই সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গে (Somnath Jyotirlinga) সংগঠিত প্রথম আক্রমণের এক হাজার বছর পূর্ণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘বারবার আঘাত সত্ত্বেও সোমনাথ অটল থেকেছে। কারণ এই মন্দিরের ভিত গড়ে উঠেছে আত্মসম্মান, বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের ওপর।’ নিজের পোস্টে প্রধানমন্ত্রী ‘জয় সোমনাথ’ ধ্বনির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক আবেগ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘হাজার বছর আগে শুরু হওয়া পরীক্ষার পর্ব আজও শেষ হয়নি, কিন্তু সোমনাথ প্রমাণ করে দিয়েছে, ভারতের আত্মা কখনও পরাজিত হয় না।’ তাঁর মতে, সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস মানে শুধু ধ্বংস ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতা নয়, বরং প্রতিটি ধ্বংসস্তূপের নিচে লুকিয়ে থাকা পুনর্জাগরণের অদম্য ইচ্ছাশক্তি।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও উল্লেখ করেন, সোমনাথ ভারতের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক। যুগে যুগে আক্রমণকারীরা ভেবেছিল, এই মন্দির ধ্বংস করলেই ভারতের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে প্রতিবারই ভারত আরও শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি লেখেন, ‘সোমনাথ সেই বিশ্বাসের নাম, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সভ্যতা অস্ত্র দিয়ে নয়, চেতনা দিয়ে বাঁচে।’
ভারতীয় ইতিহাসে সোমনাথ মন্দির বহুবার পুনর্নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি পুনর্নির্মাণ যেন এক-একটি নতুন চ্যাপ্টার, যেখানে জাতির সম্মিলিত আত্মমর্যাদা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর লেখায় এই ধারাবাহিকতাকে ‘ভারতীয় চেতনার অবিরাম প্রবাহ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, এই প্রবাহই ভারতকে হাজার বছরের পরীক্ষায় টিকিয়ে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, এই হাজার বছরের স্মরণ শুধুমাত্র অতীতের দিকে চেয়ে থাকা নয়, বরং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোম হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতা রক্ষার যে মূল্যবোধ পূর্বপুরুষরা আমাদের দিয়ে গেছেন, সেগুলি আগামী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত করাই এই স্মরণোৎসবের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
#SomnathSwabhimanParv হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই উপলক্ষ্যকে জাতীয় আত্মসম্মানের এক উৎসব হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সোমনাথের হাজার বছর পূর্তি ভারতবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যে দেশ নিজের শিকড় ভুলে যায় না, সেই দেশকে কোনও শক্তিই ভাঙতে পারে না। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন বিশ্বজুড়ে সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস ভারতের কাছে এক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত, যেখানে আঘাতের পর আঘাত এসেও বিশ্বাস ভাঙেনি, তা আরও দৃঢ় হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধার্ঘ্য, ভারতের দীর্ঘ সভ্যতাগত অভিযাত্রার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। সোমনাথ আজও দাঁড়িয়ে আছে, যেমন দাঁড়িয়ে ছিল শতাব্দী আগে, ভারতের আত্মসম্মানের অমলিন স্তম্ভ হয়ে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Piprahwa Buddha Relics Exhibition | ১২৭ বছর পর ঘরে ফিরল পিপরাওয়ার পবিত্র বুদ্ধাবশেষ, আজ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




