সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ জয়পুর : জয়পুরের জাতীয় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠান (National Institute of Ayurveda বা NIA) তার গৌরবময় ৫০ বছরের পথচলা পূর্ণ করে স্বর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করল বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আয়ুর্বেদ শিক্ষা, গবেষণা ও রোগীসেবার ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই সংস্থার স্বর্ণজয়ন্তী শুধু একটি সময়সীমা পূরণের উদ্যাপন নয়, বরং ভারতীয় প্রাচীন চিকিৎসা জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের সেতুবন্ধনের এক শক্তিশালী ঘোষণা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভজনলাল শর্মা (Bhajanlal Sharma), কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শ্রী প্রতাপরাও যাদব (Prataprao Jadhav), রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী ও আয়ুষ মন্ত্রী শ্রী প্রেমচন্দ বৈরবা (Prem Chand Bairwa) সহ আয়ুষ মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, গবেষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী ও বিশিষ্ট অতিথিরা। স্বর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে জাতীয় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ব্লক, উন্নত সিমুলেশন ল্যাব, নতুন ওপিডি ভবন ‘সুশ্রুত ভবন’, ডিজিটাল পডকাস্ট স্টুডিও এবং ঔষধি উদ্ভিদের সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য ‘ধন্বন্তরি উপবন’। এই সব উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা, গবেষণা এবং রোগীসেবার মান আরও এক ধাপ উপরে তুলে নেবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভজনলাল শর্মা (Bhajanlal Sharma) বলেন, ‘জাতীয় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠান ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা ঐতিহ্য ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে এক জীবন্ত সেতু। এই প্রতিষ্ঠানের ৫০ বছরের যাত্রা কেবল অতীতের গৌরব নয়, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যচর্চার দিশাও নির্ধারণ করে।’ তিনি আরও বলেন, রাজস্থান ঐতিহাসিকভাবেই আয়ুর্বেদের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার, এবং রাজ্য সরকার আয়ুষ ব্যবস্থাকে মূলধারার স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী শ্রী প্রতাপরাও যাদব (Prataprao Jadhav) তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জাতীয় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠানের পাঁচ দশকের যাত্রা অসংখ্য আয়ুর্বেদাচার্য, গবেষক ও চিকিৎসকের নিরলস পরিশ্রমের ফল। এই প্রতিষ্ঠান আজ ভারতের সমগ্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক দৃঢ় স্তম্ভ।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর নেতৃত্বে আয়ুষ ব্যবস্থার বিস্তারের কথাও তুলে ধরেন এবং জানান, আয়ুষকে প্রমাণভিত্তিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা ব্যবস্থায় রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। উপমুখ্যমন্ত্রী শ্রী প্রেমচন্দ বৈরবা (Prem Chand Bairwa) বলেন, ‘১৯৭৬ সালে একটি সাধারণ আয়ুর্বেদ মহাবিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ, এই পথচলাই জাতীয় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সাফল্য।’ তিনি আশ্বাস দেন যে রাজ্য সরকার ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটির পরিকাঠামো ও গবেষণার বিকাশে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে।
স্বর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাতীয় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পডকাস্ট স্টুডিও থেকে প্রথম সরকারি পডকাস্টের সূচনা। এই পডকাস্টের প্রথম পর্ব রেকর্ড করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিজেই। ডিজিটাল মাধ্যমে আয়ুর্বেদ শিক্ষা ও জনসচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। নতুন ওপিডি ব্লক ও আধুনিক অপারেশন থিয়েটার চালু হওয়ায় রোগীসেবার পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনই শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সিমুলেশন ল্যাব আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শিক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। উল্লেখ্য, স্বর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন শেষে জাতীয় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠানকে আয়ুর্বেদ শিক্ষা, গবেষণা, ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্ভাবন এবং প্রমাণভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার এক বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। শিক্ষা, মানবিকতা ও আধুনিকতার সমন্বয়ে আগামী দিনে এই প্রতিষ্ঠান যে ভারতের ‘গ্লোবাল হেলথ হাব’ হওয়ার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, সে বিষয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট সকলেই।
ছবি : সংগৃহীত




