সংবেদন শীল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : ২০২৫-২৬ সালের অ্যাসেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট দল বেন স্টোকস (Ben Stokes) নেতৃত্বে ইতিহাসের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। ৫ টেস্টের সিরিজে মাত্র একটি জয় তুলে নিয়ে তারা ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায়। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar) ইংল্যান্ডের এই ফলাফলের পর মন্তব্য করে বলেন, ইংল্যান্ডের দল ‘পেপার টাইগার’ বা বাংলায় বললে ‘কাগুজে বাঘ’। গাভাসকরের মতে, ইংল্যান্ডের বাজবল ধার হারিয়েছে এবং দীর্ঘ সফরের পরই তারা চরম হতাশার মুখে পড়েছে। গাভাসকর বিশ্লেষণ করেছেন, প্রথম তিনটি টেস্টে পার্থ (Perth), ব্রিসবেন (Brisbane) ও অ্যাডিলেড (Adelaide) মাঠে ইংল্যান্ডের ব্যর্থতা সিরিজের গতি স্থির করে দিয়েছিল। শুধুমাত্র চতুর্থ টেস্টে একটি জয় পাওয়ার মাধ্যমে তারা স্বস্তি পেয়েছিল, যা গত ১৪ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট জয় হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়েছে। গাভাসকরের মতে, দর্শকদের কাছে ইংল্যান্ডের এই পরাজয় কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা নয়, তবে তিনি বিশেষভাবে ইংলিশ মিডিয়ার (English Media) ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। মিডিয়া বাস্তবের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দলকে প্রশংসিত করেছে, যা বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেছে।
সুনীল গাভাসকর তার কলামে লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ডের খেলাধুলা সম্পর্কিত লেখালেখিতে বাস্তবতা প্রায়ই হার মানে। যারা কখনো সর্বোচ্চ স্তরে খেলেননি, তারাই সবচেয়ে বেশি হাইপ তৈরি করে। ফলে যখন দল মাঠে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে ধরা দেয়, হতাশা আরও গভীর হয়। অস্ট্রেলিয়ায় বা ভারতে টেস্ট সিরিজ জেতা ভীষণ কঠিন।’ গাভাসকর স্বীকার করেছেন, ভারতও সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে টেস্ট খেলতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তাঁর যুক্তি, ২০২২ সালে ব্রেন্ডন ম্যাকালাম (Brendon McCullum) টেস্ট টিমের কোচ হওয়ার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট কিছুটা শক্তি পেয়েছিল। নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে তারা ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিল। কিন্তু সেই চমক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং এবং মাঠের কৌশলেও বড় ফাঁক রয়ে গিয়েছে। গাভাসকরের মতে, ইংল্যান্ডের মিডিয়া বিদেশের পিচকে দোষারোপের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। ব্যাটাররাও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের খেলা বদলায়নি। পুরো সিরিজে একমাত্র জো রুট (Joe Root) ব্যাটিংয়ে নিজের যোগ্যতা দেখিয়েছেন। বাকি খেলোয়াড়রা চাপের সময় নিজের খেলার ছন্দ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গাভাসকর কড়া ভাষায় উল্লেখ করেছেন, ‘আজকাল মিডিয়ার চোখে নির্ভীক ক্রিকেট যেটি দেখায়, তা প্রায়শই কেয়ারলেস ক্রিকেট হিসেবে মেলে। সতর্কতা ও পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট।’
গাভাসকরের মন্তব্য ইংল্যান্ডের জন্য সতর্কবার্তা। সিরিজের ফলাফলের মাধ্যমে বোঝা যায়, মিডিয়ার প্রশংসা কিংবা শিরোনাম কখনও দলের বাস্তব ক্ষমতার প্রতিফলন নয়। ভারতীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার মনে করেন, খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা, কৌশলগত দক্ষতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার ক্ষমতা না থাকলে দল যত শক্তিশালী হোক, তা কার্যত ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে ধরা পড়ে। অ্যাসেজ সিরিজের এই ফলাফল ইংল্যান্ডের জন্য গভীর শিক্ষণীয়। পরবর্তী সফরে তাদের ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার পরিকল্পনা প্রয়োজন। গাভাসকরের মতানুযায়ী, শুধুমাত্র মিডিয়ার প্রশংসা বা হাইপ যথেষ্ট নয়; মাঠে ধারাবাহিকতা, অভিজ্ঞতা এবং কৌশলই শেষ পর্যন্ত সিরিজ নির্ধারণ করে। অন্যদিকে, সুনীল গাভাসকরের এই বিশ্লেষণ শুধু ইংল্যান্ডের জন্য নয়, সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বকে সতর্ক করে দেয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিজয় কেবলমাত্র দারুণ ব্যাটিং, বোলিং বা মিডিয়ার প্রশংসার ওপর নির্ভর করে না; মানসিক দৃঢ়তা, বাস্তবতা অনুধাবন এবং মাঠে কৌশলগত খেলার দক্ষতাই শেষ সিদ্ধান্ত দেয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit Sharma leadership, Gambhir reaction | রাঁচীর রাতের নায়ক রোহিত! গম্ভীরের সামনে মাঠে ফের ‘নেতা’ হয়ে উঠলেন শর্মা




