সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : অন্ধ্রপ্রদেশে একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে হঠাৎই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে যখন শ্রীশৈলম মন্দিরে (Srisailam Temple) প্রতিদিন হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ভিড়, ঠিক সেই সময়ই মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে একটি টাকাবোঝাই গাড়ি উদ্ধারের ঘটনা রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় তাড়া তাড়া নোটের বান্ডিল। প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবরাত্রিকে কেন্দ্র করে শ্রীশৈলম মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মন্দিরের মূল প্রবেশপথে টোল ও নজরদারি চালানো হচ্ছিল নিয়মিত। সেই সময়ই একটি গাড়ি দীর্ঘ ক্ষণ ধরে মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ হয়। সাধারণত পুণ্যার্থীরা দ্রুত গাড়ি পার্ক করে দর্শনে প্রবেশ করেন, কিন্তু ওই গাড়িটির অস্বাভাবিক অবস্থান নজরে আসে কর্তব্যরত কর্মীদের।

সন্দেহ হওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়িটি থামিয়ে চালককে নামতে বলেন। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়। তল্লাশির সময়ই গাড়ির ভিতরে রাখা ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী থেকে পরপর নোটের বান্ডিল উদ্ধার হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই মন্দির চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ (Andhra Pradesh Police)। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া গাড়িটির নম্বরপ্লেট ও রেজিস্ট্রেশন খতিয়ে দেখে জানা যায়, সেটি মহারাষ্ট্র (Maharashtra) থেকে এসেছে। এই তথ্য সামনে আসতেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। মহারাষ্ট্র থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মন্দিরে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কেন আনা হল, সেই প্রশ্নই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু।
গাড়িতে চালক ছাড়াও আরও কয়েক জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের সকলকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক জেরায় যাত্রীরা দাবি করেন, তাঁরা স্বর্ণব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ‘আমরা স্বর্ণব্যবসায়ী। শ্রীশৈলম মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছি।’ তবে পুলিশের দাবি, গাড়িতে পাওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সঠিক উৎস সম্পর্কে তাঁরা কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। শিবরাত্রির সময়ে মন্দিরে বিপুল ভিড় থাকায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আগে থেকেই সতর্ক ছিল। এই পরিস্থিতিতে টাকাবোঝাই গাড়ি উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ‘শিবরাত্রির মতো বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মন্দির এলাকায় নগদ অর্থ বহন অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ৩০ লক্ষ টাকা আপাতত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গাড়িচালক ও যাত্রীদের আটক করে বিস্তারিত জেরা চালানো হচ্ছে। এই টাকা কোনও অবৈধ লেনদেন, কর ফাঁকি, নাকি অন্য কোনও বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আয়কর দফতর (Income Tax Department) ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও তদন্তে যুক্ত করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, শ্রীশৈলম মন্দির দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শৈব তীর্থক্ষেত্র। শিবরাত্রির সময়ে এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা আসেন। এমন সময়ে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি করছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ‘এত টাকা নিয়ে মন্দির চত্বরে আসার উদ্দেশ্য কী?’
পুলিশ অবশ্য আশ্বস্ত করেছে, মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি হয়নি। পাশাপাশি, নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্কতার কারণেই বড়সড় রহস্যজনক লেনদেনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।’ এই ঘটনার পর শ্রীশৈলম মন্দির এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি সন্দেহজনক গাড়ি ও যাত্রীর উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। শিবরাত্রির ভিড়ের মধ্যেই টাকাবোঝাই গাড়ি উদ্ধারের ঘটনা ধর্মীয় তীর্থক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে।এখনও পর্যন্ত তদন্ত চলছে। গাড়িতে উদ্ধার হওয়া অর্থের প্রকৃত উৎস এবং উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই রহস্য যে আরও গভীর হবে, তা বলাই বাহুল্য। পুলিশের জেরায় কী তথ্য সামনে আসে, তার দিকেই এখন তাকিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Birsa Harit Gram Yojana Jharkhand | গোশালার সারেই বদলাচ্ছে গ্রামবাংলার অর্থনীতি, ঝাড়খণ্ডে বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা




