সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পার্বতী কাশ্যপ, কলকাতা : বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার দুনিয়ায় পারিশ্রমিক মানেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। তার উপর যদি ছবির নায়ক হন প্রভাস (Prabhas) এবং পরিচালক সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গা (Sandeep Reddy Vanga), তা হলে উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আসন্ন ছবি ‘স্পিরিট’ (Spirit) মুক্তির অনেক আগে থেকেই আলোচনায়। কখনও ছবির পোস্টার, কখনও উগ্র পৌরুষের ইঙ্গিত, আবার কখনও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিক সমস্ত কিছু নিয়েই এই ছবি ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, ‘স্পিরিট’ -এ প্রভাসের পারিশ্রমিক অঙ্ক ছুঁয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একই ছবিতে থাকা তিন অভিনেত্রীর সঙ্গে নায়কের এই পারিশ্রমিকের ফারাক আসলে কতটা?

‘স্পিরিট’-এর প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় আলোচনা। পোস্টারে দেখা যায়, অনাবৃত শরীর, নিম্নাঙ্গে লুঙ্গি, চোখে কালো চশমা, এক হাতে মদের বোতল, ঠোঁটের কোণে জ্বলন্ত সিগারেট। নায়কের পাশে ধূসর শাড়ি পরা একজন নারী সিগারেট ধরিয়ে দিচ্ছেন। এই দৃশ্য অনেকের কাছেই সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গার আগের ছবি ‘অ্যানিম্যাল’ -এর স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। কেউ কেউ পোস্টারে ফের ‘উগ্র পৌরুষ’-এর ছায়া খুঁজে পেয়েছেন। এই বিতর্কের মাঝেই সামনে এসেছে পারিশ্রমিকের অঙ্ক, যা নতুন করে আলোচনায় আগুন ঢেলেছে।
দক্ষিণী সিনেমা ও প্যান-ইন্ডিয়া ছবির বাজারে প্রভাস বর্তমানে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতা। সাধারণত একটি ছবির জন্য তিনি নেন প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। তবে শোনা যাচ্ছে, ‘স্পিরিট’-এর জন্য তিনি নিয়েছেন ১৬০ কোটি টাকা, অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ কোটি টাকা বেশি। প্রভাসের জনপ্রিয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং বক্স অফিসে টান সব কিছু নিয়েই এই অঙ্ক নাকি নির্ধারিত হয়েছে বলে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর। কিন্তু ছবির প্রধান অভিনেত্রী তৃপ্তি ডিমরীর (Triptii Dimri) পারিশ্রমিকের অঙ্ক শুনলে এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়। শোনা যাচ্ছে, ‘স্পিরিট’-এর জন্য তৃপ্তি পাচ্ছেন প্রায় ৬ কোটি টাকা। তুলনামূলকভাবে এই অঙ্ক অনেকটাই কম, বিশেষ করে যখন ছবির নায়ক পাচ্ছেন ১৬০ কোটি। যদিও ‘অ্যানিম্যাল’ -এর পর তৃপ্তির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং তাঁকে নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও তুঙ্গে, তবুও পারিশ্রমিকের এই বিশাল ফারাক প্রশ্ন তুলছে ইন্ডাস্ট্রির ভিতরের সমতা নিয়ে।
এই ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আর এক বিতর্কিত অধ্যায়। এক সময় ‘স্পিরিট’-এ কাজ করার কথা ছিল দীপিকা পাড়ুকোনের (Deepika Padukone)। তবে ছবির কাজ শুরুর আগেই মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সূত্রে জানা যায়, এই ছবির সময়েই দীপিকা আট ঘণ্টা কাজ করার শর্ত দেন। পরিচালক সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গা সেই শর্ত মানতে রাজি হননি। এই নিয়ে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে একাধিক মন্তব্যও শোনা যায়। শেষ পর্যন্ত দীপিকা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং নিজেকে এই ছবি থেকে সরিয়ে নেন। তাঁর জায়গাতেই নেন তৃপ্তি ডিমরী। এই পরিবর্তন ছবির কাস্টিং ও পারিশ্রমিকের অঙ্ক, দু’টি ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। ‘স্পিরিট’-এ তৃপ্তি ছাড়াও রয়েছেন আরও দুই পরিচিত মুখ কিয়ারা আডবাণী (Kiara Advani) ও কীর্তি সুরেশ (Keerthy Suresh)। সদ্য মা হওয়া কিয়ারা এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত জীবনের নতুন সূচনা উপভোগ করছেন। তবে কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি। শোনা যাচ্ছে, ‘স্পিরিট’ এবং ‘টক্সিক’ এই দুই ছবিতেই দেখা যাবে তাঁকে। ‘স্পিরিট’ -এর জন্য কিয়ারা নাকি পেয়েছেন প্রায় ৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক। একই অঙ্ক পেয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কীর্তি সুরেশ। অর্থাৎ নায়কের ১৬০ কোটির সামনে এই দুই অভিনেত্রীর পারিশ্রমিক যেন প্রায় অদৃশ্য।
আরও পড়ুন : SAMPANN pension system | ‘সম্পন্ন’ ডিজিটাল ব্যবস্থায় পেনশন ব্যবস্থার যুগান্তকারী রূপান্তর, টেলিকম পেনশনভোগীদের জন্য আরও সহজ ও স্বচ্ছ পরিষেবা
ছবির আর একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা অনন্ত নাগ (Anant Nag) পেয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা। তাঁর মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার পারিশ্রমিকও নায়কের অঙ্কের তুলনায় অনেকটাই কম। সব মিলিয়ে ‘স্পিরিট’-এর কাস্টিং তালিকা এবং পারিশ্রমিকের হিসাব নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে তারকাদের বাজারদর এবং লিঙ্গভিত্তিক পারিশ্রমিকের ব্যবধান।
এই বিতর্কের মাঝেও নির্মাতারা আত্মবিশ্বাসী। জানা যাচ্ছে, ‘স্পিরিট’ মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের মে মাসে। প্যান-ইন্ডিয়া স্তরে এই ছবি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটির বড় পরিসরে রিলিজের কথা ভাবা হচ্ছে। সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গার পরিচালনা, প্রভাসের তারকাখ্যাতি এবং বিতর্কিত বিষয়বস্তু—সমস্ত কিছুর ভেতরেও ‘স্পিরিট’ যে মুক্তির আগেই অন্যতম আলোচিত ছবি হয়ে উঠেছে, মনে করছেন বি-টাউনের সিনে সমালোচকরা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Prabhas Fees, Triptii Dimri Spirit | স্পিরিট-এ পারিশ্রমিকের বিস্ময়কর ফারাক! প্রভাসের আকাশছোঁয়া অঙ্ক, তৃপ্তি ডিমরির পারিশ্রমিকে চমক বিনোদন মহলে




