সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের আবহে অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসকে সময় দিল নির্বাচন কমিশন। আগামী সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটে নাগাদ দিল্লির নির্বাচন সদনে কমিশনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। কমিশনের তরফে চিঠি পাঠিয়ে এই সময়সূচির কথা জানানো হয়েছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবার নিজেই দিল্লিতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং একাধিক সাংসদ।

তৃণমূল সূত্রের খবর, এই প্রতিনিধিদল কেবল দলীয় নেতৃত্বেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁরা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করছেন, তাঁদের মধ্যেও কয়েক জনকে সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি ‘জীবিত হয়েও যাঁদের নাম কমিশনের খাতায় মৃত’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও এই প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সর্বোচ্চ ১৫ জনের প্রতিনিধিদল নির্বাচন সদনে প্রবেশের অনুমতি পাবে। মূলত পশ্চিমবঙ্গে শুরু হওয়া এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই এই বৈঠক। গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শুরু হয়। সেই সময় থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পনাহীন এবং তড়িঘড়ি এই প্রক্রিয়া চালু করে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এসআইআর-এর কারণে বহু মানুষ ভয় ও মানসিক চাপে ভুগেছেন। এমনকি কয়েকটি ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যার জন্য পরিবারের তরফে এসআইআর আতঙ্ককেই দায়ী করা হয়েছে।

এসআইআর ইস্যুতে প্রথম থেকেই সরব তৃণমূল নেতৃত্ব। একাধিক জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কলকাতার রাজপথে দলীয় মিছিলেও একসঙ্গে হেঁটেছেন তাঁরা। অভিযোগ উঠেছে, এসআইআর-এর নামে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তৃণমূলের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপির ‘সমঝোতা’ রয়েছে। এই ইস্যুতে একাধিক বার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন অসঙ্গতি, অভিযোগ ও সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে তৃণমূল সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত সেই চিঠিগুলির কোনও লিখিত জবাব কমিশনের তরফে পাওয়া যায়নি। এর পরেই দিল্লি গিয়ে সরাসরি কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, বুধবারই এসআইআর ইস্যুতে সর্বভারতীয় স্তরে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। সিঙ্গুরে জনসভা শেষে রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও আচমকা পরিস্থিতি বদলে যায়। বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar) বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেন মমতা। পাশাপাশি আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথাও উল্লেখ করে নবান্ন থেকে তাঁর দিল্লি সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘দু’এক দিনের মধ্যেই’ তিনি দিল্লি যাবেন। তার পরেই বিকেলে নির্বাচন কমিশনের তরফে সময় দেওয়ার খবর আসে।
তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকায় ভুল ভাবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। কোথাও জীবিত ভোটারকে মৃত দেখানো হয়েছে, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে ভোট দেওয়া নাগরিকের নাম হঠাৎ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক সভায় এই ধরনের ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে বলেছেন, ‘ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত কখনও মেনে নেওয়া যায় না।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এই মুখোমুখি বৈঠক রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের অবস্থান কী হয় এবং তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে তারা কী ব্যাখ্যা দেয়, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। সোমবারের বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই দিল্লি ও কলকাতা, দু’জায়গাতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : SIR final voter list, election hearing controversy | ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তেজনার আবহে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের: অশান্তি হলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হবে শুনানি



