SIR final voter list, election hearing controversy | ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তেজনার আবহে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের: অশান্তি হলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হবে শুনানি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া ঘিরে ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। নির্ধারিত সময়সীমা ১৪ ফেব্রুয়ারি থাকলেও, তা আরও অন্তত ১০ দিন বাড়তে পারে বলে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) -এর অন্দরমহলে জোর আলোচনা চলছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলাশাসকের উদ্দেশ্যে কড়া নির্দেশ পাঠাল কমিশন। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শুনানি কেন্দ্রগুলিতে যদি সামান্য অশান্তি বা বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে হবে শুনানি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় শুনানি চালু করা যাবে না।

আরও পড়ুন : West Bengal Assembly, Interim Budget 2026 | নির্বাচনের মুখে অন্তর্বর্তী বাজেট: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শেষ অধিবেশনে নজর মমতার বার্তা ও রাজনৈতিক কৌশলে

গত কয়েক দিনে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া (Chakulia) ও ইটাহার (Itahar), বাঁকুড়া (Bankura), মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত শুনানি কেন্দ্রগুলিতে অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও তর্কাতর্কি, আবার কোথাও রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে শুনানি। এই পরিস্থিতিতে কমিশন একাধিক জেলার কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে। সূত্রের খবর, কয়েকটি ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠে এসেছে। এই আবহেই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, শুনানি কেন্দ্রগুলিতে ভোটারদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যদি ভোটাররা আতঙ্কে শুনানিতে যোগ দিতে না পারেন, অথবা কোনও পক্ষের কারণে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তা হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের শুনানি অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে। কমিশনের বক্তব্য, ‘ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হওয়াই আমাদের লক্ষ্য। অশান্ত পরিবেশে কোনও শুনানি গ্রহণযোগ্য নয়।’

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষিতে কমিশন খোদ স্থানীয় বিধায়ক মনিরুল ইসলাম (Monirul Islam) -এর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেয়। কমিশনের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও রকম হস্তক্ষেপ বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।
সূত্রের খবর, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়তে পারে বলেই কমিশনের তরফে আপাতত সময় নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। সময়সীমা বাড়লে শুনানি দ্রুত শেষ করার তাগিদ কিছুটা কমবে। সেই কারণেই এখন কমিশনের নজর মূলত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দিকে। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘শুনানি হবে, তবে তা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। প্রয়োজনে কিছুদিন দেরি হলেও অশান্তির মধ্যে আমরা এই প্রক্রিয়া চালাব না।’

এই নির্দেশের আর একটি রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি পঞ্চায়েত বা ব্লক উন্নয়ন অফিসে করতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরই রাজ্য প্রশাসনের উপর কার্যত নতুন চাপ তৈরি করল নির্বাচন কমিশন। এক দিকে আদালতের নির্দেশ মেনে শুনানির ব্যবস্থা, অন্য দিকে কমিশনের কড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ, দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন রাজ্যের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে, আগামী শনিবার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির (Logical Discrepancy) তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এই তালিকা প্রকাশকে ঘিরে যাতে নতুন করে অশান্তি না ছড়ায়, সে জন্য আগাম সতর্কতা নিয়েছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব (Chief Secretary), রাজ্য পুলিশের ডিজি (Director General of Police) এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার (Police Commissioner, Kolkata) -এর কাছে আলাদা করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ, তালিকা প্রকাশের দিন পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং কোনও রকম রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে দেওয়া যাবে না।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেন, ‘শুনানি যদি এ ভাবে বন্ধ হতে থাকে, তা হলে ভোট পিছিয়ে যাবে। সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তখন রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তৃণমূল সেটাই চাইছে।’ তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। অন্য দিকে, তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার (Jayaprakash Majumdar) পাল্টা দাবি করেন, ‘বিজেপিই ইচ্ছাকৃত ভাবে অশান্তি ছড়াচ্ছে। ভোটারদের ভয় দেখিয়ে শুনানি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে।’ তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের উচিত নিরপেক্ষ ভাবে পরিস্থিতি বিচার করা। কিন্তু এটা স্পষ্ট, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ও প্রকাশের প্রক্রিয়া আর নিছক প্রশাসনিক বিষয় নেই, তা ক্রমেই রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হলেও, শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া কতটা মসৃণ ভাবে শেষ করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : SIR Hearing, Fake Voters India | এসআইআরের শুনানিতে ভুয়ো ভোটারের খোঁজ, চূড়ান্ত তালিকা থেকে আপাতত বাদ ১১ হাজারের বেশি নাম

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন