সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর- SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো নোটিস সত্ত্বেও তিন লক্ষের বেশি ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার নির্ধারিত শুনানিতে হাজির হননি বলে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে। এর জেরে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার, সর্বত্রই প্রশ্ন ও উদ্বেগ বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় মোট প্রায় ৩২ লক্ষ ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শুনানি প্রায় শেষের মুখে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে, মোট ডাকা ভোটারের প্রায় ১০ শতাংশ অর্থাৎ আনুমানিক ৩ লক্ষ ২০ হাজার ভোটার কোনওভাবেই হাজিরা দেননি। কমিশনের বক্তব্য, এঁরা ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে নিজেদের নামের কোনও যোগসূত্র বা লিঙ্ক দেখাতে পারেননি বলেই ‘নো-ম্যাপিং’ তালিকায় পড়েছেন।এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়ই কমিশন জানিয়েছিল, রাজ্যে মোট ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যা ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬। ওই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ধাপে ধাপে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল, নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত ভোটারদের তালিকায় রাখা এবং অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার সেই সুযোগ কাজে লাগাননি।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারদের পাশাপাশি যাঁদের তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ রয়েছে, তাঁদেরও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। নাম, বয়স, ঠিকানা বা একাধিক ভোটার কার্ড সংক্রান্ত গরমিল থাকলেই এই শ্রেণিতে পড়ছেন ভোটাররা। এই দুই ধরনের ভোটার মিলিয়ে মোট শুনানির আওতায় থাকা নামের সংখ্যা এক কোটিরও বেশি।
উল্লেখ্য, নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের শুনানির শেষ দিন। তার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। যদিও কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে এই সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘শুনানিপর্ব এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। যাঁরা এত দিন আসেননি, তাঁদের মধ্যে কেউ যদি শেষ মুহূর্তে অংশ নিতে চান, সেই সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু কেউ যদি একেবারেই হাজির না হন, তবে নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India) নির্দেশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালত তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সেই নির্দেশ মেনে শনিবার ওই তালিকা প্রকাশ করা হবে। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ নামের একটি বিশাল তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে কমিশন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল যে, গত ১৬ ডিসেম্বর কমিশন এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই খসড়া তালিকা থেকেই ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তখন অভিযোগ তোলে, প্রকৃত ভোটারদের নামও ভুলবশত বাদ যেতে পারে। কমিশন অবশ্য তখনই স্পষ্ট করেছিল, খসড়া তালিকা চূড়ান্ত নয় এবং শুনানির মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের সুযোগ দেওয়া হবে।কিন্তু এখন যদি শুনানিতে অনুপস্থিত থাকা প্রায় ৩ লক্ষ ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের নামও বাদ যায়, তবে মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬১ লক্ষে। এই সংখ্যাটা নিঃসন্দেহে রাজ্যের ভোটার তালিকার ইতিহাসে অন্যতম বড় সংশোধন হিসেবে চিহ্নিত হবে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ‘নো-ম্যাপিং’ সমস্যা মূলত পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের যোগসূত্র না থাকার ফল। ঠিকানা বদল, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় স্থানান্তর, কিংবা নথির ত্রুটির কারণেই বহু ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়। তাই শেষ মুহূর্তে হলেও ভোটারদের শুনানিতে হাজির হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মত তাঁদের। কিন্তু, এসআইআর প্রক্রিয়ার এই শেষ পর্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন এক দিকে যেমন তালিকা স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে বদ্ধপরিকর, তেমনই অন্য দিকে লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ ভোটাধিকারও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এখন নজর ৭ ফেব্রুয়ারির শুনানি শেষ হওয়া এবং তার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিকে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Dev SIR hearing | ভোটের আগে কমিশনের দরজায় দেব, অভিজ্ঞতার আড়ালে প্রবীণ ভোটারদের পক্ষে করজোড়ে বার্তা সাংসদ-অভিনেতার




