কৌশিক রায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের উঁকি দিচ্ছে সম্ভাব্য জোটের আলোচনার ঝড়। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (Indian Secular Front – ISF) বিধায়ক তথা সংগঠনের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি (Nawsad Siddiqui) চিঠি পাঠিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে(Biman Bose) বলে উল্লেখ। এই পদক্ষেপকে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। সূত্রের খবর, এই চিঠিতে নওশাদ ফের জোটের বার্তা দিয়েছেন, যেখানে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের (Congress) সঙ্গে একজোট হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহেই ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল এই চিঠি। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করলেও তিনি প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট বার্তার কথা জানাননি। তবে ঘনিষ্ঠ মহল জানাচ্ছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের সঙ্গে হাত মেলানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। যদিও চিঠি বিমান বসুর হাতে পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। তাই নওশাদ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুজফ্ফর আহমেদ ভবনে গিয়ে নিজে হাতে আবেদনপত্র তুলে দেবেন এবং মৌখিকভাবে মতামত জানাবেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং আইএসএফ একজোট হয়ে ‘সংযুক্ত মোর্চা’ গঠন করেছিল। কিন্তু ফলাফল ছিল হতাশাজনক। গোটা জোটের মধ্যে কেবলমাত্র ভাঙড়ে জয়ী হন নওশাদ সিদ্দিকি। অন্যদিকে বাকি প্রার্থীরা একেবারেই ফল করতে পারেননি। এই ব্যর্থতার পর থেকে তিনটি দলকে একসঙ্গে লড়াই করতে আর দেখা যায়নি।পরে কয়েকটি উপনির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস জোট করে লড়লেও আইএসএফ এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভরাডুবির শিকার হয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেই অভিজ্ঞতার পরেই নওশাদ বুঝতে পেরেছেন এককভাবে লড়াই করলে ফল শোচনীয় হবে। তাই ফের জোটের পথে হাঁটার জন্য এই চিঠি পাঠানো।

রাজনৈতিক কারবারিরা বলছেন, সম্ভাব্য সংযুক্ত মোর্চার লক্ষ্য থাকবে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে দখল ফেরানো। কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে সংখ্যালঘুদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রেখেছে। লোকসভা ভোটে তার প্রমাণও মিলেছে। যেমন মালদহ দক্ষিণে জয় ছাড়াও, রায়গঞ্জ, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ এবং জঙ্গিপুরে কংগ্রেস প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পান।
অন্যদিকে, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির মতো জেলায় ফুরফুরা শরিফের প্রভাব যথেষ্ট প্রবল। ফুরফুরা শরিফের উত্তরাধিকারী হওয়ায় নওশাদ সেখানে স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রভাব রাখেন। ফলে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফ একজোট হলে সংখ্যালঘু ভোট ফের টানতে পারবে বলেই মনে করা হচ্ছে।কংগ্রেসের দিকেও জোটবার্তা
বামফ্রন্ট ছাড়াও, কংগ্রেসের প্রতিও জোটের আহ্বান জানাতে চাইছে আইএসএফ। জানা গেছে, নওশাদ বিমান বসুকে সরাসরি দেখা করার পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকেও (Shuvankar Sarkar) লিখিত জোটবার্তা পাঠাবেন। এক্ষেত্রে নওশাদের দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, “আমরা বিশ্বাস করি, বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফ যদি আবার একসঙ্গে লড়াই করে, তা হলে বড় রকমের প্রভাব তৈরি হবে।”
রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নওশাদের এই চিঠি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ২০২৬ সালের ভোটের আগে বড় রাজনৈতিক সমীকরণের বার্তা বহন করছে। ২০২১ সালের ব্যর্থতা সত্ত্বেও আইএসএফের মতো নবীন দল বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সঙ্গে ফের যুক্ত হলে তাদের ভোটব্যাঙ্ক মজবুত হবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটের উপর ভিত্তি করে রাজ্যে তৃতীয় ফ্রন্ট হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করবে। তবে এখনও বামফ্রন্ট বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সব নজর এখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে নওশাদ-বিমান সাক্ষাতে। এই বৈঠকই বলে দেবে, বাংলার রাজনীতিতে সংযুক্ত মোর্চা ফের গঠিত হবে কি না।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Meenakshi Mukherjee : লাল ঝণ্ডার মুখ: মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়




