শ্রেয়সী মজুমদার ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : তাঁরা কারও কাছে রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা, কারও কাছে নিছক অন্ধবিশ্বাসের প্রতীক। তবে একথা অনস্বীকার্য যে তাঁদের বলা বহু ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছে ইতিহাসের নানা অধ্যায়ে। বুলগেরিয়ার অন্ধ নারী ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা (Baba Vanga) ও ষোড়শ শতকের ফরাসি জ্যোতিষী নস্ত্রাদামুস (Nostradamus) দীর্ঘদিন ধরেই মানুষকে ভাবিয়েছেন তাঁদের ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে। ইংল্যান্ডের রাজকুমারী ডায়ানা (Princess Diana) -এর করুণ মৃত্যু থেকে শুরু করে আমেরিকার মাটিতে ৯/১১ হামলা কিংবা সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ মহামারী সবকিছুর ইঙ্গিত তাঁরা আগেই দিয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তাঁদের অনুগামীরা।
২০২৫ সালকে ঘিরেও নাকি রয়েছে ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত। বাবা ভাঙ্গার কথায় নাকি ইউরোপে বড় যুদ্ধ আসন্ন, যা পশ্চিমা দুনিয়াকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। অনেক ভক্ত মনে করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই ভবিষ্যদ্বাণীরই বাস্তব রূপ। তবে এখানেই শেষ নয়। নস্ত্রাদামুসের প্রাচীন রচনাতেও নাকি ২০২৫ সালের জন্য লেখা আছে ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, যা শুধুমাত্র ইউরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে গোটা বিশ্বে। সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হবে ইংল্যান্ড এমনটাই দাবি নস্ত্রাদামুসের অনুসারীদের। ষোড়শ শতকের এই ভবিষ্যদ্রষ্টার লেখা শতাব্দী জুড়ে নানা সময়ে আলোচিত হয়েছে। তাঁর অনুসারীরা বলেন, হিটলার (Hitler) -এর উত্থান কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (World War II) -এর ইঙ্গিতও তিনি কয়েকশো বছর আগেই দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সূত্র ধরে এখন অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) -এর উত্থান ও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের পরিস্থিতি নস্ত্রাদামুসের লেখা অনুযায়ী মিলেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বাবা ভাঙ্গা (Baba Vanga), তিনি শৈশবে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে এখনও নানা বিতর্ক থাকলেও অনেকের কাছে তা অবিশ্বাস্যভাবে সত্যি হয়ে ওঠে। ভাঙ্গার অনুসারীরা দাবি করেন, তিনি ইউরোপে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ও বিশ্ব রাজনীতির রদবদল অনেক আগেই বলেছিলেন। তাঁর একটি বিখ্যাত ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, ‘ইউরোপ একদিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।’ বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতি দেখে অনেকেই মনে করছেন, সেই ভবিষ্যদ্বাণী ক্রমশ বাস্তব হয়ে উঠছে। কিন্তু এ নিয়ে মতভেদও প্রবল। একদল গবেষক ও ইতিহাসবিদ মনে করেন, নস্ত্রাদামুস কিংবা বাবা ভাঙ্গার লেখা মূলত অস্পষ্ট, প্রতীকী ও বহু অর্থবাহী। তাই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে মেলাতে গিয়ে অনুগামীরা নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে নেন। তাঁদের মতে, এইসব ভবিষ্যদ্বাণী নিছকই কাকতালীয়, এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
তবুও বিতর্ক থেমে থাকেনি। যতবার পৃথিবীতে বড় কোনও রাজনৈতিক সঙ্কট, যুদ্ধ বা মহামারী দেখা দিয়েছে, ততবারই বাবা ভাঙ্গা ও নস্ত্রাদামুসের নাম সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ভবিষ্যৎ জানার কৌতূহল চিরন্তন, তাই এই দুই ভবিষ্যদ্বক্তার লেখা আজও আলোচিত।সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি এবং ইউরোপের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখে অনেকেই আবারও নস্ত্রাদামুস ও বাবা ভাঙ্গার সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, ২০২৫ সাল মানব ইতিহাসে আরেকটি কঠিন সময়ের সাক্ষী হতে পারে। যদিও অনেকে একে নিছক ‘ভয় দেখানো গল্প’ বলেই উড়িয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু সত্যি যাই হোক না কেন, ইতিহাস সাক্ষী যে তাঁদের নাম প্রতিবারই ফিরে আসে পৃথিবীর সংকটের মুহূর্তে। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়,২০২৫ সত্যিই কি এক অন্ধকার অধ্যায় হয়ে উঠবে? নাকি এটি কেবলই কল্পনার খেলা? সময়ই তার উত্তর দেবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Numerology| জন্ম সংখ্যা ১ ও ২৮ তারিখে জন্মালে কেমন কাটবে জীবন?




