সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা : কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয়ের সাক্ষী থাকল ক্রিকেটবিশ্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ১৯৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলল ভারত। এই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson), তিনি ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করে দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেন। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে এই ইনিংস ভারতীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এদিন টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে ব্রেন্ডন কিংয়ের অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে নামেন শাই হোপ (Shai Hope) ও রস্টন চেজ় (Roston Chase)। পাওয়ার প্লে-তে উইকেট না হারালেও রান তোলার গতি ছিল নিয়ন্ত্রিত। একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হয়, যা ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারত। পরে বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy) হোপকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন দলকে।
শিমরন হেটমায়ার (Shimron Hetmyer) নামতেই ম্যাচে তেজ বাড়ে। দ্রুত কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। চাপ সামলাতে জসপ্রীত বুমরাহকে (Jasprit Bumrah) আক্রমণে আনেন সূর্যকুমার। বুমরাহ হেটমায়ার ও চেজ দু’জনকেই পরপর আউট করে ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুলে দেন। মাঝের ওভারগুলোয় হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) ও অর্শদীপ সিংহ (Arshdeep Singh) উইকেট তুললেও শেষ দিকে রভম্যান পাওয়েল (Rovman Powell) ও জেসন হোল্ডার (Jason Holder) ঝড় তোলেন। বিশেষ করে একটি ওভারে ২৪ রান উঠে ম্যাচে নাটকীয়তা বৃদ্ধি পেয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৯৫ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৫ রানের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া হিসেবে ইতিহাসে ঢুকে গেল। এর আগে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭৩ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। দীর্ঘ বিরতির পর সেই রেকর্ড ভাঙল। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়েতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারার স্মৃতিও যেন মুছে দিল এই জয়।
ভারতের শুরুটা ছিল অনিশ্চিত। অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না এবং দ্রুত বিদায় নেন। ঈশান কিশানও (Ishan Kishan) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পাওয়ার প্লে-তে দুই উইকেট হারালেও রানরেট ধরে রাখেন সঞ্জু। অন্য প্রান্তে সূর্যকুমার যাদব বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। ফলে দায়িত্ব-ভার আরও বৃদ্ধি পায় সঞ্জুর কাঁধে। অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস না দেখিয়ে আবার গার্ড নেন সঞ্জু। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনার। বড় শটের পাশাপাশি দৌড়ে রান তোলার ক্ষমতা ভারতকে ম্যাচে এগিয়ে রাখে। তিলক বর্মা (Tilak Varma) গুরুত্বপূর্ণ ২৭ রান যোগ করে চাপ কমান। শেষ ছ’ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬০ রান, হাতে ছিল সাত উইকেট। সমীকরণ কঠিন হলেও সঞ্জুর উপস্থিতি দলকে স্থির রাখে।
সোমবার ইডেনের এই ইনিংসের মাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত রেকর্ডও গড়েছেন সঞ্জু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে নেমে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোর এতদিন ছিল বিরাট কোহলি-এর (Virat Kohli) ৮২। সেই রেকর্ড ভেঙে অপরাজিত ৯৭* করেন সঞ্জু। বড় ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এমন ইনিংস দলের জন্য সময়োচিত বার্তা বয়ে আনল। তথাপি, জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও কয়েকটি বিষয় ভাবাচ্ছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে। স্পিন আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ফিল্ডিংয়ে ভুল এবং ওপেনিং জুটির অস্থিরতা সামনে বড় ম্যাচে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই দিকগুলোতে উন্নতি জরুরি বলে মনে করছেন ক্রিকেটবিশ্ব।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডিংও শেষ দিকে ভেঙে পড়ে। একটি সহজ ক্যাচ পড়ে গেলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। সঞ্জু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচ শেষ করেন চার বল বাকি থাকতেই। তাঁর ইনিংসকে অনেকেই ‘ক্লিনিক্যাল’ বলছেন, ঝুঁকিহীন অথচ আক্রমণাত্মক। এই জয় ভারতের সেমিফাইনাল যাত্রাকে নিশ্চিত করেছে এবং বিশ্বকাপ শিরোপা রক্ষার লক্ষ্যে আর এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও ইডেনের গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকেরা প্রত্যক্ষ করলেন কীভাবে সমালোচনার মুখে থাকা একজন ব্যাটার বড় মঞ্চে নিজের পরিচয় নতুন করে তুলে ধরতে পারেন। এখন লক্ষ্য বৃহস্পতিবারের ম্যাচের দিকে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই ফাইনালের দরজা খুলে যাবে ভারতের সামনে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Chota Chiku fan, Kohli | মাঠে ‘ছোটা চিকু’ দেখে থমকে গেলেন বিরাট! রোহিতকে ডেকে নিজের শৈশব দেখালেন কোহলি, উচ্ছ্বসিত আট বছরের গর্বিত




