অঙ্কন রাহা : একটি নিরপেক্ষ এবং ধর্মনিরপেক্ষ সরকার পরিচালনার মূল ভিত্তি হল আইনের শাসন এবং সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। একটি আদর্শ প্রশাসন বজায় রাখতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
নিরপেক্ষ ও ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা
বিভাজনের রাজনীতির অবসান: সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত জনকল্যাণ। জাতি, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে ঐক্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব।
সরকারি জমির সুরক্ষা: সরকারি জমি জনগণের সম্পদ। কোনো অবস্থাতেই সরকারি জায়গায় অনুমতিহীন বা বেআইনি নির্মাণ সহ্য করা উচিত নয়। জমি জবরদখল মুক্ত রেখে তা পরিকল্পিত উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে হবে।
ধর্মীয় উপাসনালয় স্থাপনে আইনি বাধ্যবাধকতা: ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু আইন সবার জন্য সমান। রাস্তা বা সরকারি জায়গা দখল করে কোনও বেআইনি মসজিদ, মন্দির বা অন্য কোনও উপাসনালয় নির্মাণ করতে দেওয়া যাবে না। ধর্মীয় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে আইনগত বৈধতাকে প্রাধান্য দেওয়া একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আরও পড়ুন : West Bengal BJP CM oath, Suvendu Adhikari cabinet | ব্রিগেডে ঐতিহাসিক শপথ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার, মন্ত্রিসভায় পাঁচ মুখ, দফতর বণ্টন এখনও বাকি
গণতান্ত্রিক পরিসর ও বিরোধী দল: একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা অপরিসীম। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের মতপ্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ বা ‘পলিটিক্যাল স্পেস’ দিতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতা এবং গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতাই একটি সরকারকে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক ও নিরপেক্ষ করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, যখন প্রশাসন কোনও পক্ষপাতিত্ব না করে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, তখনই একটি সফল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।
ছবি : সংগৃহীত




