সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফিনিশারদের একজন হিসেবে পরিচিত রিঙ্কু সিং (Rinku Singh)। শেষ ওভারে ঝোড়ো ব্যাটিং, ঠাণ্ডা মাথার সিদ্ধান্ত আর চাপের মুখে ম্যাচ বের করে আনার ক্ষমতা, এই তিনে মিলিয়েই তৈরি হয়েছে তাঁর পরিচিতি। কিন্তু আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সেই পরিচয়ের গণ্ডি ভাঙতেই যেন প্রস্তুত উত্তরপ্রদেশের এই ব্যাটার। শুধু শেষের দিকে নয়, দলের প্রয়োজনে যে কোনও ব্যাটিং পজিশনে নামতে তিনি সম্পূর্ণ তৈরি, এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন রিঙ্কু। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সিরিজে সুযোগ না পাওয়ায় ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কলকাতা নাইট রাইডার্সের (Kolkata Knight Riders) হয়ে আইপিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরেও জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। তবে নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর (Ajit Agarkar) নেতৃত্বাধীন নির্বাচকমণ্ডলী শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে রিঙ্কুকে রেখেছে। আর সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে মানসিক ও কারিগরি, দুই দিক থেকেই তিনি প্রস্তুত।
রিঙ্কু নিজেই মানছেন, দর্শক এবং সমর্থকদের চোখে তিনি মূলত একজন ফিনিশার। কারণ, দেশের হয়ে খেলা ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ১৪টিতেই তাঁকে ছয় বা তার নিচের নম্বরে ব্যাট করতে দেখা গিয়েছে। তবে বাকি ম্যাচগুলিতে চার ও পাঁচ নম্বরেও তাঁর ব্যাটিং নজর কেড়েছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, ‘আমি শুধু লোয়ার মিডল অর্ডারের জন্য নই। দলের প্রয়োজনে যে কোনও জায়গায় ব্যাট করতে পারি।’ একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিঙ্কু বলেন, ‘আমি সাধারণত যে জায়গায় ব্যাট করতে নামি, তাতে সমর্থকেরা আমাকে ফিনিশার হিসেবেই দেখে। কিন্তু আমি কেবল ওই ভূমিকায় সীমাবদ্ধ নই। ঘরোয়া ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশের হয়ে ওপেনিং থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার, সব জায়গাতেই ব্যাট করেছি। এমনকী ভারতের হয়ে পাওয়ার প্লেতেও ব্যাট করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে করা তিনটি অর্ধশতরানই এসেছে পাওয়ার প্লেতে ব্যাট করে।’
পরিসংখ্যানও রিঙ্কুর দাবিকে সমর্থন করে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে চার নম্বরে ব্যাট করে তাঁর গড় ৪৯, যা যেকোনও মিডল অর্ডার ব্যাটারের জন্য ঈর্ষণীয়। পাঁচ নম্বরে নামলে তাঁর গড় ৪০.৮৬। আইপিএলের মঞ্চে রিঙ্কুর ব্যাট আরও ভয়ংকর। কেকেআরের হয়ে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করা ১৩টি ম্যাচে তাঁর গড় ৪৫.২২ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৩৬। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, শুধু শেষের ওভার নয়, ম্যাচের মাঝের পর্যায়েও ইনিংস গড়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। বিশ্বকাপের আগে এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। কারণ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলগঠন অনেকটাই নির্ভর করে কম্বিনেশন ও পরিস্থিতির উপর। কখনও দ্রুত রান দরকার, কখনও আবার উইকেট পড়ে গেলে ইনিংস সামাল দিতে হয়। সেই জায়গায় বহুমুখী ব্যাটার হিসেবে রিঙ্কুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) কিংবা রাহুল দ্রাবিড়ের (Rahul Dravid) মতো টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা যে এমন নমনীয় ব্যাটারকে বিশেষ গুরুত্ব দেন, তা ক্রিকেট মহলে অজানা নয়।
রিঙ্কু নিজেও দলের কম্বিনেশন ও পরিকল্পনাকে সবার উপরে রাখছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়াই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা ভাগ্যের ব্যাপার। অনেক সময় দলের পরিকল্পনার জন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া যায় না, আবার কাউকে বাদ দিতে হয়। এতে ব্যক্তিগতভাবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দলের ভারসাম্য রক্ষা করাই আসল।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিঙ্কু মূল দলে ছিলেন না। তাঁকে রিজার্ভ খেলোয়াড় হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো তিনি বুঝেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা পাকা করতে হলে নিজেকে একাধিক ভূমিকায় প্রস্তুত রাখতে হয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে রান করে, আইপিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে আবার জাতীয় দলে ফেরা, এই পথটাই তাঁর মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ।ফিল্ডিংয়েও রিঙ্কু দলের ভরসা। বাউন্ডারির ধারে ক্যাচ ধরা হোক বা দ্রুত থ্রো সব ক্ষেত্রেই তিনি কার্যকর। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে অলরাউন্ড দক্ষতা জরুরি, সেখানে রিঙ্কুর এই বহুমুখী ক্ষমতা ভারতীয় দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।
তবে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিঙ্কু সিং আর শুধুই ‘ফিনিশার’ নন। তিনি এমন এক ব্যাটার, যিনি পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস গড়তে পারেন, আবার প্রয়োজনে শেষ ওভারে ঝড় তুলতেও পারেন। দলের প্রয়োজনে যে কোনও জায়গায় ব্যাট করার এই মানসিকতাই হয়তো তাঁকে ভারতের বিশ্বকাপ যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিতে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubman Gill dropped from T20 World Cup | টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুভমন গিল নেই কেন? নীরবতা ভাঙলেন না গৌতম গম্ভীর, নির্বাচনের বার্তায় ইঙ্গিত স্পষ্ট




