Dayanidhi Maran women empowerment remark | নারী ক্ষমতায়নের মঞ্চে উত্তর-দক্ষিণ বিতর্ক, দয়ানিধি মারানের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নারী ক্ষমতায়নের উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়ে উত্তর ভারতের প্রসঙ্গ টেনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিলেন ডিএমকে সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দয়ানিধি মারান (Dayanidhi Maran)। তামিলনাড়ুর একটি কলেজে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করতে গিয়ে তাঁর করা মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তর-দক্ষিণ রাজনৈতিক বিভাজনের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি (BJP) এই মন্তব্যকে উত্তর ভারতের মানুষ ও নারীদের অপমান বলে কটাক্ষ করেছে। অন্য দিকে, ডিএমকে (DMK) শিবিরের বক্তব্য, তামিলনাড়ুর নারী ক্ষমতায়নের মডেল বোঝাতেই এই তুলনা টানা হয়েছে।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দয়ানিধি মারান। ছবি: সংগৃহীত

চেন্নাই সেন্ট্রালের চার বারের সাংসদ দয়ানিধি মারান সম্প্রতি একটি সরকারি অনুষ্ঠানে কলেজছাত্রীদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন (Udhayanidhi Stalin)। মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দয়ানিধি বলেন, এই ল্যাপটপ শুধু একটি প্রযুক্তিগত সহায়তা নয়, বরং মেয়েদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার প্রতীক। তাঁর কথায়, তামিলনাড়ুতে মেয়েদের পড়াশোনা, চাকরি ও স্বনির্ভরতার উপর জোর দেওয়া হয়, যা রাজ্যের উন্নতির অন্যতম ভিত্তি।এই প্রসঙ্গেই তিনি উত্তর ভারতের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘উত্তরে মেয়েদের কী বলা হয়? ওদের বলা হয়, কাজ করতে যেয়ো না, ঘরে বসে থাকো, রান্না করো আর সন্তান প্রসব করো। কিন্তু এটা তামিলনাড়ু। এই মাটি কলাইনর (Kalaignar M. Karunanidhi), আন্না (C. N. Annadurai) এবং এম কে স্ট্যালিনের (M. K. Stalin) মাটি।’ দয়ানিধির এই বক্তব্যের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বক্তৃতায় দয়ানিধি মারান আরও বলেন, মেয়েরা যত এগোবে, তামিলনাড়ুও তত এগোবে। তাঁর মতে, এই কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা চেন্নাইয়ে (Chennai) বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কারণ, এখানে কর্মশক্তি শিক্ষিত, শুধু তামিল ভাষায় নয়, ইংরেজিতেও সাবলীল। এই শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদই তামিলনাড়ুর অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি বলে তিনি দাবি করেন।

দয়ানিধির বক্তব্যের একটি অংশ নিয়েই আপত্তি তুলেছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের অভিযোগ, উত্তর ভারতের মেয়েদের ও সমাজকে একপেশে ও অবমাননাকর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তামিলনাড়ু বিজেপির মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপতি (Narayanan Thirupathy) কড়া ভাষায় বলেন, ‘দয়ানিধি মারান আবার উত্তর ভারতের মানুষকে অপমান করলেন। এই ধরনের মন্তব্য ডিএমকের কাছে নতুন নয়। প্রায় প্রতিদিনই এ রকম কথা শোনা যায়। একজন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ বিজেপির আরও অভিযোগ, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ডিএমকে ইচ্ছাকৃত ভাবে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চাইছে। তাঁদের মতে, নারী ক্ষমতায়ন কোনও একটি রাজ্যের একক কৃতিত্ব নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই মেয়েরা শিক্ষায়, কর্মক্ষেত্রে ও সমাজে এগিয়ে আসছেন। উত্তর ভারতের মেয়েদের ‘ঘরবন্দি’ বলে চিহ্নিত করা বাস্তবতার বিকৃতি বলেও দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।

আরও পড়ুন : Chennai Crime, Sexual Assault | চেন্নাইয়ে বাইক ট্যাক্সি চালকের নৃশংসতা: যৌন নির্যাতনের পর বাড়িতে ফেলে পালাল অভিযুক্ত, গ্রেপ্তার শিবকুমার 

অন্য দিকে, ডিএমকে শিবির এই সমালোচনা উড়িয়ে দিয়েছে। দলের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, দয়ানিধি মারান কোনও নির্দিষ্ট রাজ্য বা জনগোষ্ঠীকে আক্রমণ করেননি। বরং তিনি তামিলনাড়ুর সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাস ও নারী স্বাধীনতার ঐতিহ্য তুলে ধরতে চেয়েছেন। ডিএমকের দাবি, কলাইনর এম করুণানিধি ও সিএন আন্নাদুরাইয়ের সময় থেকেই এই রাজ্যে নারী শিক্ষা ও স্বাধিকারের প্রশ্নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।এই বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন একাধিক বার ‘হিন্দি আধিপত্য’ এবং উত্তর ভারতকেন্দ্রিক নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। জাতীয় শিক্ষানীতির (National Education Policy) বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু সরকার নিজস্ব রাজ্য শিক্ষানীতি চালু করেছে, যেখানে তামিল ও ইংরেজি এই দুই ভাষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ডিএমকের মতে, ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করেই সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। দয়ানিধি মারানের মন্তব্য সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেরই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, লোকসভা ভোটের আগে এই ধরনের বক্তব্য ডিএমকের আঞ্চলিক পরিচয় ও আদর্শকে আরও জোরালো করে তুলছে। অন্য দিকে, বিজেপি এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে ডিএমকের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে।

এই বিতর্কের মাঝেই নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্নটি ফের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। একদিকে যেমন তামিলনাড়ুর সামাজিক সূচকে মেয়েদের শিক্ষার হার ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হচ্ছে, অন্য দিকে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিও তাদের সাফল্যের উদাহরণ সামনে আনছে। ফলে দয়ানিধি মারানের মন্তব্য শুধু একটি বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ না থেকে উত্তর–দক্ষিণ রাজনৈতিক ও সামাজিক তুলনার নতুন অধ্যায় খুলে দিল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।প্রসঙ্গত, নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্নে এই মন্তব্য যেমন সমর্থন ও বিরোধিতা, দু’দিক থেকেই প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, তেমনই তা ডিএমকে ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও প্রকাশ্য করে তুলেছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bihar Gang Rape, Purnia Crime News | অভিযুক্তের মোবাইলেই আর্তনাদ, বিহারে নর্তকী গণধর্ষণ কাণ্ডে শিউরে উঠল পুর্ণিয়া 

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন