সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : পৌষ পার্বণ মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে নতুন ফসলের আনন্দ, পিঠে-পুলির ঘ্রাণ আর সামাজিক সৌহার্দ্যের উষ্ণ আবহ। ঠিক সেই আবহেই বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। পৌষ পার্বণের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এই লোকজ উৎসবের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে তুলে ধরেছেন। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ফুটে উঠেছে কৃষিভিত্তিক সমাজের আনন্দ, ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে তোলার আহ্বান।সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে অসমের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘সবাইকে জানাই পৌষ পার্বণের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। পিঠে-পুলির এই উৎসব আপনার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। নতুন ফসলের আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটি ঘর, আর পারস্পরিক সৌহার্দ্যে আরও দৃঢ় হোক আমাদের সমাজ।’ তাঁর এই শুভেচ্ছাবার্তায় গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষকের পরিশ্রম এবং সামাজিক বন্ধনের কথাও উঠে এসেছে বলে মত রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের।
পৌষ পার্বণ মূলত ফসল ঘরে তোলার উৎসব। বছরের এই সময়ে ধান কাটার পর কৃষিজীবী সমাজ এক নতুন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। সেই আনন্দই রূপ পায় পিঠে-পুলির নানা স্বাদে। চালের গুঁড়ো, নতুন গুড়, নারকেল ও ক্ষীরের মেলবন্ধনে তৈরি পিঠে শুধু খাদ্য নয়, এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তায় সেই ঐতিহ্যের প্রতিই শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। উল্লেখ্য, অসম ও বাংলা, দুই রাজ্যের মধ্যেই রয়েছে বহু সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য। বিশেষ করে পৌষ পার্বণের মতো লোকজ উৎসব দুই রাজ্যের মানুষকেই এক সুতোয় বেঁধে রাখে। অসমে মাঘ বিহু (Magh Bihu) যেমন নতুন ফসলের উৎসব, তেমনই বাংলায় পৌষ পার্বণ। মুখ্যমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছা বার্তা সেই মিলনের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বার্তা আঞ্চলিক সংস্কৃতির প্রতি প্রশাসনের সংবেদনশীল মনোভাবকে প্রকাশ করে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে শাসকের দূরত্ব কমাতে সাহায্য করে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্ট প্রকাশের পরেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। বহু মানুষ মন্তব্যে তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। কেউ লিখেছেন, ‘পিঠে-পুলির গন্ধেই ফিরে আসে শৈশব’, আবার কেউ বলেছেন, ‘এমন উৎসবই আমাদের এক করে রাখে।’ এই প্রতিক্রিয়াগুলিই প্রমাণ করে, একটি ছোট্ট শুভেচ্ছা বার্তা কীভাবে বৃহত্তর সামাজিক আবেগকে নাড়া দিতে পারে।বর্তমান সময়ে যখন রাজনীতি প্রায়শই বিভাজনের অভিযোগে বিদ্ধ, তখন লোকজ উৎসবকে কেন্দ্র করে এমন ইতিবাচক মেসেজ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর পোস্টে কোথাও রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেননি, সম্পূর্ণভাবে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘পারস্পরিক সৌহার্দ্যে আরও দৃঢ় হোক আমাদের সমাজ’ তাঁর এই বাক্যটি বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন অনেকেই।
প্রসঙ্গত, পৌষ পার্বণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নারীদের ভূমিকা। ঘরের উঠোনে বসে পিঠে তৈরি, পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে বসে খাওয়ানো, এই প্রথা এখনও গ্রামবাংলা ও শহরতলিতে টিকে আছে। মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তায় ‘প্রতিটি ঘর নতুন ফসলের আনন্দে ভরে উঠুক’ এই উচ্চারণ আসলে সেই ঘরোয়া আনন্দকেই স্বীকৃতি দেয়। এটি কেবল একটি উৎসবের শুভেচ্ছা নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের প্রতি এক ধরনের সম্মান প্রদর্শন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ধরনের মেসেজ রাজ্যের বাইরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী যখন বাঙালির একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবের শুভেচ্ছা জানান, তখন তা বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক ভারতের ধারণাকেই আরও মজবুত করে। এতে বোঝা যায়, সংস্কৃতি ও উৎসব রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে কাছাকাছি আনে। উল্লেখ যে, পৌষ পার্বণ উপলক্ষ্যে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শুভেচ্ছা বার্তা সৌহার্দ্যপূর্ণ সামাজিক বার্তা হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। পিঠে-পুলির স্বাদ যেমন প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে আনে আনন্দ, তেমনই তাঁর এই বার্তা মনে করিয়ে দেয় উৎসবই পারে মানুষকে একসূত্রে বাঁধতে, বিভাজনের ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Women child welfare portal, Pankhudi CSR platform | নারী ও শিশুকল্যাণে ডিজিটাল যুগের নতুন দিশা, ‘পঙ্খুড়ি’ পোর্টাল উদ্বোধন কেন্দ্রের




