সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতায় ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায়। বুধবার সকাল থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় মধ্য কলকাতার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে (B.B. Ganguly Street)। একটি আসবাবপত্রের দোকানে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও দুইটি দোকানে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলবাহিনী (Kolkata Fire Services)। প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের লাগাতার প্রচেষ্টায় দমকলের মোট ১০টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টা নাগাদ ওই আসবাবের দোকানের ভেতর থেকে প্রথমে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন কর্মীরা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের ফুলকি দেখা যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দোকানের কর্মীরা তড়িঘড়ি দোকান ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। প্রাথমিক ভাবে দোকানে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। দোকানটির সঙ্গে লাগোয়া আরও দু’টি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় ঘনবসতি রয়েছে। দোকানগুলির আশেপাশেই রয়েছে একাধিক বহুতল আবাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, আগুনের লেলিহান শিখা বহুতলের একাধিক তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আগুন লাগার খবর পেয়ে একের পর এক দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রথমে বাইরে থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন দমকলকর্মীরা। এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি হওয়ায় দমকলকর্মীদের কাজ করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। সরু রাস্তা, দোকানের ভিতরে ঠাসাঠাসি করে রাখা জিনিসপত্র এবং দাহ্য সামগ্রীর আধিক্যের কারণে আগুন দ্রুত ছড়াতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসনও তৎপর হয়। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট দিয়ে যান চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়। তার জেরে মধ্য কলকাতার ওই অংশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের বহুতল থেকে বহু বাসিন্দা প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয়দের দাবি, যে আসবাবের দোকানে আগুন লাগে তার পিছনে একটি বড় গুদাম রয়েছে। সেই গুদামেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বলে তাঁদের আশঙ্কা। গুদামে বিপুল পরিমাণ কাঠ, প্লাস্টিক ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকায় আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যে দোকানে প্রথম আগুন লাগে, সেই দোকানের কর্মীরা ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জানান, ‘আমরা দোকানের ভিতরে কাঠের কাজ করছিলাম। হঠাৎই ভেতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখি। প্রথমে খুব ভয় পেয়ে যাই এবং দ্রুত বাইরে চলে আসি। তারপর দেখি দোকানের উপরের একটি টিনের অংশ দাউদাউ করে জ্বলছে। কয়েক জন মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। অন্য কর্মীরা দোকানের ভিতরে থাকা আসবাবপত্র বাইরে বার করে আনে।’ তবে এত চেষ্টা সত্ত্বেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
এই অগ্নিকাণ্ডের উৎস নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। কী ভাবে আগুন লাগল, তা তদন্ত করে দেখছে দমকল ও পুলিশ। দোকানগুলিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দমকলবাহিনী দ্রুততার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেনি, যার ফলে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দমকল কর্তৃপক্ষের দাবি, দোকানগুলি নানা দাহ্য জিনিসে ঠাসা থাকায় হোসপাইপ ঢোকানো ও জল ছড়ানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছন এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর সুমন সিংহ (Suman Singh)। তিনি জানান, প্রাথমিক ভাবে তাঁর অনুমান, ওই আসবাবের দোকানে থাকা একটি লেজ়ার মেশিন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার সঠিক কারণ নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানান দমকল আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দিন ধরেই কলকাতায় পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসছে। গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শহরের আনন্দপুরের (Anandapur) নোনাডাঙা (Nonadanga) এলাকায় মাতঙ্গিনী কলোনির বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেই ঘটনায় বস্তির একাধিক ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল দমকলের সাতটি ইঞ্জিন। তার পরের দিনই শহরে জোড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার সকালে নিউটাউনের (New Town) একটি বহুতলে আগুন লাগে। বহুতলের উপরের দিকে যাওয়ার সিঁড়ি বন্ধ থাকায় দমকলকর্মীদের প্রবেশে সমস্যা হয়। একই দিন বিকেলে ওয়েলিংটনের (Wellington) ভুটিয়া মার্কেটেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শহরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত পরিদর্শন ও কড়া নজরদারির আশ্বাস দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Sirmaur bus accident, Himachal Pradesh bus falls into gorge | হিমাচলের পাহাড়ি পথে, কুয়াশার গ্রাসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবোঝাই বাস, প্রাণ গেল আটজনের




