সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : অযোধ্যার (Ayodhya) রামমন্দিরকে ঘিরে ওঠা অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশে। এই বিতর্কের আবহে শুক্রবার কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। দেওরিয়া (Deoria)-তে এক জনসভা থেকে তিনি জানালেন, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা এসআইটি (SIT)-এর রিপোর্ট হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘যারা দোষী, তাদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না।’ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘অযোধ্যা আমাদের সবার বিশ্বাসের প্রতীক, সনাতন ধর্মের আত্মার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এই জায়গার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কেউ যদি এর দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকায়, তা মেনে নেওয়া হবে না।’ গত ১৯ জুন অযোধ্যায় দেওয়া নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যোগ করেন, ‘তখনই বলেছিলাম, এসআইটি গঠন করা হয়েছে এবং রিপোর্ট এলেই ব্যবস্থা শুরু হবে। রিপোর্ট এসেছে, আর সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
এই ঘটনার সূত্রপাত রামমন্দিরে প্রাপ্ত অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, বিপুল পরিমাণ দানের টাকা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে তা বেআইনি পথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের তদন্তে রাজ্য সরকার একটি এসআইটি গঠন করে। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে কিছু নাম উঠে আসার পরই প্রশাসন সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট (Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra Trust)-এর সদস্য কৃষ্ণ মোহন (Krishna Mohan)-এর উদ্যোগে। অভিযোগে মোট আট জনের নাম রয়েছে। শুক্রবার প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এফআইআরে নাম থাকা আট জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
অযোধ্যার সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ গৌরব গ্রোভার (Gaurav Grover) জানান, ‘অভিযুক্তরা এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে তাদের আদালতে পেশ করা হবে।’ তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও সূত্রের খবর। যোগী আদিত্যনাথ এদিন তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কেউ খেলা করতে পারবে না। যে-ই এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাকে তার ফল ভোগ করতেই হবে। এখানে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না।’ তাঁর এই মন্তব্যে প্রশাসনের কড়া অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, এত বড় একটি ধর্মীয় প্রকল্পে অনুদান ব্যবস্থাপনায় কীভাবে এমন অনিয়ম ঘটতে পারে। অন্যদিকে, শাসকদল দাবি করছে, অভিযোগ উঠতেই দ্রুত তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হচ্ছে না।
রামমন্দির ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত। দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা এখানে অনুদান প্রদান করেন। সেই অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কিছুটা স্বস্তি দিলেও পুরো ঘটনার উপর নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে, তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, অনুদানের অর্থের লেনদেনের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা সত্যকে আলাদা করব এবং মিথ্যাকে সামনে আনব। যে অপরাধ করেছে, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।’ তাঁর এই অবস্থান প্রশাসনিক কঠোরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অযোধ্যার মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়েছে জাতীয় স্তরে। ধর্মীয় আবেগ, রাজনীতি এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা, এই ঘটনা এখন দেশের অন্যতম আলোচিত ইস্যু। তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ সামনে আসে, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। তবে আপাতত প্রশাসনের তরফে বার্তা পরিষ্কার, বিশ্বাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কোনওরকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Yogi Adityanath mafia statement | ‘মাফিয়াদের শেষ করাই পছন্দ’ : যোগী আদিত্যনাথ -এর মন্তব্যে নতুন বিতর্ক, উত্তরপ্রদেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জোর আলোচনা



