West Bengal NDRF reserve force, Dilip Ghosh announcement NDRF | ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আর বাইরের ভরসা নয়! বাংলায় গড়ে উঠছে নিজস্ব এনডিআরএফ-ধাঁচের রিজার্ভ ফোর্স, ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পশ্চিম মেদিনীপুর : পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলার ছবিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পশ্চিমবঙ্গে গড়ে তোলা হচ্ছে নিজস্ব বিশেষ রিজার্ভ ফোর্স, যা জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ (NDRF)-এর ধাঁচে কাজ করবে। এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে অতীতের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতির রূপরেখা।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari budget news, WB economic policy | বাজেট পেশের পর আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু অধিকারী, নতুন পথের ইঙ্গিত রাজ্যের অর্থনীতিতে

দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী একটি ২০০ সদস্যের বিশেষ রিজার্ভ টিম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যারা দুর্যোগের সময়ে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নামবে।’ তিনি বলেন, ‘এই বাহিনীকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা এনডিআরএফের মতোই দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে।’ তাঁর দাবি, অতীতে রাজ্যে এই ধরনের পরিকাঠামো না থাকায় বহু ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বৃষ্টি বা জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত হয় সুন্দরবন (Sundarbans) ও উপকূলবর্তী এলাকা। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে বিলম্ব হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আগে ঝড় হলে রাস্তা পরিষ্কার করতে অন্য রাজ্যের সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন সেই পরিস্থিতি বদলাতে চাইছি।’

এই নতুন রিজার্ভ ফোর্সকে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে, সুন্দরবন, কলকাতা (Kolkata) এবং উপকূলীয় এলাকা। এই অঞ্চলগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়। তাই দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুত টিম থাকা প্রয়োজন বলেই মনে করছে প্রশাসন। দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হল, দুর্যোগের সময়ে যেন আর বাইরের সাহায্যের উপর নির্ভর করতে না হয়। নিজেদের শক্তি দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্যের স্বনির্ভরতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও তারা এই ধরনের উদ্যোগ নেয়নি।’

নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে আধুনিক সরঞ্জাম, বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই টিমগুলিকে জলে উদ্ধারকাজ, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ করে তোলা হবে। ফলে ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো পরিস্থিতিতে তারা তৎক্ষণাৎ কাজ শুরু করতে পারবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যদি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাহলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। সেই দিকটি মাথায় রেখেই এই রিজার্ভ ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত দল থাকলে প্রতিক্রিয়ার সময় অনেকটাই কমে আসবে। এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন বাস্তবায়ন নিয়ে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে, কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সুন্দরবনের মতো এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই ঝড়ের দাপট দেখা যায়। নদী ফুলে ওঠা, বাঁধ ভেঙে যাওয়া, ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়া, এই সব ঘটনা সেখানে নিত্যনৈমিত্তিক। ফলে ওই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে প্রশিক্ষিত দল থাকলে তা বাসিন্দাদের জন্য বড় স্বস্তি আনতে পারে। একই ভাবে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় অতিবৃষ্টি বা জল জমার সমস্যা মোকাবিলায়ও এই বাহিনী কাজে লাগতে পারে।

রাজ্যের এই উদ্যোগ জাতীয় স্তরেও নজর কাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য ইতিমধ্যেই নিজেদের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গও সেই পথে হাঁটছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হতে পারে। দিলীপ ঘোষের এই ঘোষণার পর এখন নজর থাকবে বাস্তবায়নের দিকে। কবে থেকে এই বাহিনী কাজ শুরু করবে, কীভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং কোন কোন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে, এই সব প্রশ্নের উত্তরই এখন জানতে চাইছে সাধারণ মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে কোনও সময় আঘাত হানতে পারে। সেই পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বাংলায় নিজস্ব এনডিআরএফ-ধাঁচের রিজার্ভ ফোর্স গঠনের এই উদ্যোগ সেই প্রস্তুতির দিকেই এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BJP training Mahaabhiyan 2026 West Bengal, cadre training BJP India | ক্ষমতায় এসে নতুন রণকৌশল বিজেপির! ‘প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান’-এ ২৪ ঘণ্টার আবাসিক শিবিরে গড়ে উঠবে দক্ষ কর্মী বাহিনী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন