Sirmaur bus accident, Himachal Pradesh bus falls into gorge | হিমাচলের পাহাড়ি পথে, কুয়াশার গ্রাসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবোঝাই বাস, প্রাণ গেল আটজনের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দেরাদুন : হিমাচল প্রদেশে (Himachal Pradesh) ফের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। পাহাড়ি রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেল যাত্রীবোঝাই একটি বাস। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১০ জনেরও বেশি যাত্রী বলে উল্লেখ। শুক্রবার সকালে সিরমৌর জেলায় (Sirmaur) এই দুর্ঘটনা ঘটে। সকাল শুরু হতেই শোক ও আতঙ্কে ছেয়ে যায় গোটা এলাকা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি বাস সোলান (Solan) থেকে হরিপুর (Haripur) অভিমুখে যাচ্ছিল। পাহাড়ি পথে একটি তীক্ষ্ণ বাঁক নেওয়ার সময় আচমকাই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তার পরেই সেটি রাস্তার রেলিং ভেঙে উল্টে খাদে পড়ে যায়। খাদটি বেশ গভীর হওয়ায় বাসটি পড়ে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার মুহূর্তেই বাসের ভিতরে থাকা যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ‘এক মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়, বাসটা চোখের সামনে খাদে পড়ে গেল।’ দুর্ঘটনার পর প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এবং রাস্তা সংকীর্ণ থাকায় উদ্ধারকাজে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছুটা অসুবিধা হয়। তবে তবুও ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়রা খাদে নেমে আহত যাত্রীদের বাইরে বের করার চেষ্টা করেন। তাঁদের অনেকেই গুরুতর জখম অবস্থায় বাসের ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। কিছু যাত্রীর শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লাগে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ একুশ-তম কিস্তি)

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল। সঙ্গে আসে অ্যাম্বুল্যান্স ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বাসটি খাদে পড়ে সম্পূর্ণ ভাবে তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিল। ফলে ভিতরে আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করতে বেশ সময় লাগে। কাঁচ ভেঙে, লোহার অংশ কেটে একে একে যাত্রীদের বাইরে বের করা হয়। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনাস্থলেই আটজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে মহিলা ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ঘন কুয়াশার কারণে চালক রাস্তার বাঁকটি ঠিকমতো বুঝতে পারেননি। পাহাড়ি এলাকায় শীতের সকালে কুয়াশা অত্যন্ত ঘন হয়ে যায়, ফলে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যায়। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ‘প্রাথমিক ভাবে কুয়াশার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে বাসের গতি, চালকের অভিজ্ঞতা এবং যান্ত্রিক ত্রুটি, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

হিমাচল প্রদেশে পাহাড়ি রাস্তায় এই ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। সরু রাস্তা, তীব্র বাঁক এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে প্রায়ই বড় দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়ি রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াতকারী বাসগুলির ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধি অনেক সময় মানা হয় না। তাঁদের কথায়, ‘প্রশাসনের আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন। নইলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।’ উল্লেখ্য যে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হিমাচল প্রদেশ সরকারের তরফেও শোকপ্রকাশ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানানো হয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছি।’

পাহাড়ি এলাকায় চলাচলকারী বাসগুলির ক্ষেত্রে নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং কুয়াশা বা খারাপ আবহাওয়ায় গতি সীমিত করার মতো ব্যবস্থা আরও কঠোর ভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। পাশাপাশি রাস্তার রেলিং ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড আরও শক্তপোক্ত করা দরকার বলে মত স্থানীয় বাসিন্দাদের। আবার, হিমাচলের সিরমৌরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও পাহাড়ি রাস্তায় নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতা বা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা যে কত বড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে, তা এই দুর্ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এখন দেখার, এই ঘটনার পর প্রশাসন ও পরিবহণ দফতর কতটা কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Kolkata BJP 20 seats target, BJP West Bengal assembly plan | কলকাতা-কেন্দ্রিক বিজেপিকে কড়া টার্গেট বেঁধে দিলেন অমিত শাহ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন