Project Cheetah India, Kuno National Park cheetah cubs | কুনো জাতীয় উদ্যানে চিতার সংখ্যা বেড়ে ৫৩, নামিবিয়ার চিতা জ্বালার পাঁচ শাবক জন্মে উচ্ছ্বাস

SHARE:

মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে নামিবিয়ার চিতা জ্বালা পাঁচটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। ফলে ভারতে চিতার সংখ্যা বেড়ে হল ৫৩।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতে বহু দশক পর ফের চিতার উপস্থিতি ফিরিয়ে আনার উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ ‘প্রোজেক্ট চিতাকে (Project Cheetah)’ ঘিরে নতুন আশার খবর এল মধ্যপ্রদেশ থেকে। কুনো জাতীয় উদ্যান (Kuno National Park) -এ আবারও বেড়েছে চিতার সংখ্যা। নামিবিয়া থেকে আনা স্ত্রী চিতা জ্বালা (Jwala) সম্প্রতি পাঁচটি নতুন শাবকের জন্ম দিয়েছে। ফলে বর্তমানে কুনোতে চিতার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩-এ। এই খবরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে বন দফতর এবং বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৯ মার্চ কুনো জাতীয় উদ্যানে চিতার সংখ্যা গণনা করা হয়। সেই সময়ই দেখা যায় নতুন শাবকদের জন্মের ফলে চিতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বন দফতরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ‘নামিবিয়া থেকে আনা স্ত্রী চিতা জ্বালা পাঁচটি সুস্থ শাবকের জন্ম দিয়েছে। মা এবং শাবকেরা এখন নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছে।’

আরও পড়ুন : Narendra Modi Brigade rally, SPG security check Kolkata | ব্রিগেডে মোদীর সভার আগে নিরাপত্তা সতর্কতা, মাটির নিচে পরীক্ষা করতে মঞ্চ খুলতে বলল এসপিজি

চিতার সংখ্যা বৃদ্ধির এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা। কারণ ভারতের মাটিতে চিতার সংখ্যা বাড়ানোই ছিল কেন্দ্র সরকারের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যপূরণের পথে এই নতুন জন্ম বড় ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহনকুমার যাদব (Mohan Kumar Yadav)। তিনি বলেন, ‘নামিবিয়া থেকে কুনোতে আনার পর থেকেই জ্বালা এখানকার পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিয়েছে। সে শুধু মানিয়ে নিয়েছে তা নয়, সফলভাবে বংশবিস্তারও করছে। এটি প্রজেক্ট চিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের আশাবাদী করছে।’ আরেকটি বিষয় হল, জ্বালা নামের এই স্ত্রী চিতার আগের নাম ছিল সিয়ায়া (Siaya)। ২০২২ সালে যখন নামিবিয়া থেকে আটটি চিতা ভারতে আনা হয়, তখন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল এই চিতা। সেই সময় পাঁচটি স্ত্রী এবং তিনটি পুরুষ চিতাকে বিশেষ বিমানে করে ভারতে আনা হয়েছিল এবং কুনো জাতীয় উদ্যানে ছাড়া হয়। চিতার এই পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজের জন্মদিনেই কুনো জাতীয় উদ্যানে চিতা ছেড়ে তিনি এই প্রকল্পের সূচনা করেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এটি ভারতের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন।’

কিন্তু প্রকল্পের পথ একেবারেই সহজ ছিল না। শুরুতে বেশ কিছু চিতার মৃত্যু হওয়ায় এই প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। বিরোধী মহল থেকে সমালোচনাও করা হয়েছিল যে ভারতের আবহাওয়া এবং পরিবেশে আফ্রিকার চিতারা ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারবে কি না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সেই আশঙ্কাকে অনেকটাই দূর করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ জ্বালা ইতিমধ্যেই তিনবার শাবকের জন্ম দিয়েছে। এই নতুন পাঁচটি শাবক নিয়ে তার সন্তানসংখ্যা আরও বেড়ে গেল। এর আগে ২০২৩ সালে জ্বালা চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। তবে সেই চারটির মধ্যে তিনটি শাবকের মৃত্যু হয়েছিল। মাত্র একটি শাবক বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে আবার তিনটি শাবকের জন্ম দেয় জ্বালা। এবার ২০২৬ সালের শুরুতেই পাঁচটি নতুন শাবকের জন্ম দিয়ে সে আবারও আলোচনায় এসেছে।

বন দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন শাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ‘মা চিতা এবং শাবকদের উপর একটি বিশেষ পর্যবেক্ষক দল নজর রাখছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমেও তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে,’ জানিয়েছেন একজন বন আধিকারিক। কুনো জাতীয় উদ্যানে চিতাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বিশাল সংরক্ষিত এলাকা। সেখানে পর্যাপ্ত শিকার, জল এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে চিতারা ধীরে ধীরে নিজেদের নতুন আবাসস্থলে মানিয়ে নিতে পারছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও আরও ১২টি চিতা আনা হয়েছিল কুনোতে। এর ফলে প্রকল্পের আওতায় মোট চিতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে কয়েকটি চিতার মৃত্যু হওয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জ্বালার নতুন শাবকদের জন্ম প্রকল্পের জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা। বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘যদি চিতারা স্বাভাবিকভাবে বংশবিস্তার করতে শুরু করে, তবে তা প্রমাণ করে যে তারা নতুন পরিবেশে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে।’

ভারতে একসময় এশীয় চিতা ব্যাপকভাবে দেখা যেত। কিন্তু অতিরিক্ত শিকার এবং বাসস্থানের অভাবে ১৯৫২ সালে দেশ থেকে চিতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। প্রায় সাত দশক পরে আফ্রিকা থেকে চিতা এনে পুনরায় এই প্রজাতিকে ভারতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়। প্রোজেক্ট চিতার মূল লক্ষ্য হল আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ভারতে স্থায়ী চিতা জনসংখ্যা তৈরি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রাকৃতিকভাবে জন্মের হার বাড়ে এবং মৃত্যুর হার কম থাকে, তবে আগামী কয়েক বছরে কুনো জাতীয় উদ্যান ভারতের চিতার অন্যতম বড় আবাসস্থল হয়ে উঠতে পারে। নতুন পাঁচ শাবকের জন্ম সেই সম্ভাবনাকেই আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। এখন বন দফতরের প্রধান লক্ষ্য হল মা ও শাবকদের সুস্থভাবে বড় হয়ে ওঠার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi | ‘রাষ্ট্রপতিকে অপমান’ : পশ্চিমবঙ্গ ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন