সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড (Brigade Parade Ground) -এ আসন্ন জনসভাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি তুঙ্গে। আগামী শনিবার সেখানে বিশাল সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর। রাজ্যে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ -এর সমাপ্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই সভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রস্তুতির মাঝেই বড় ধাক্কা দিল প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ বাহিনী স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (Special Protection Group বা SPG)। তাদের নির্দেশে ইতিমধ্যেই তৈরি করা সভামঞ্চ খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আয়োজকদের।সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রোটোকল মেনে মঞ্চের নিচের জমি এবং আশপাশের এলাকা নতুন করে পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে এসপিজি। সেই কারণেই বর্তমানে নির্মীয়মাণ মঞ্চ খুলে ফেলতে বলা হয়েছে। মাটি ও তার নিচের স্তর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা করে তবেই নতুন করে মঞ্চ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজ্য বিজেপির নেতারা জানিয়েছেন, রবিবার থেকেই ব্রিগেড মাঠে সভার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরে সেখানে বড়সড় কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চটি একটি বিশাল হ্যাঙার (Hangar Structure) -এর নিচে নির্মাণ করা হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই হ্যাঙারের উপরের আচ্ছাদন, দুই পাশ এবং পিছনের অংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তার ভেতরে লোহার খুঁটির উপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে মূল মঞ্চের কাঠামোও প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল পরিদর্শনে এসে এসপিজির আধিকারিকরা জানান, যেখানে মঞ্চ তৈরি হয়েছে সেই জায়গার মাটি আগে পরীক্ষা করা জরুরি। তাদের বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মাটির উপরে নয়, প্রয়োজনে মাটির গভীরেও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে কোনও ঝুঁকি নেই।’ এই নির্দেশের পরই সভার প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শুরু হয়। মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে এসপিজির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Raju Banerjee)। তিনি সভার মঞ্চ নির্মাণ এবং মাঠের সামগ্রিক প্রস্তুতির কাজ দেখভাল করছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির আরও দুই নেতা অনল বিশ্বাস (Anol Biswas) এবং কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় (Krishnendu Mukhopadhyay)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, এসপিজির কর্মকর্তারা রাজুকে সঙ্গে নিয়ে হ্যাঙারের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং মঞ্চের পিছনের অংশও খুঁটিয়ে দেখেন। সেখানে কিছুক্ষণ আলোচনা চলার পর মঞ্চ নির্মাণের কাজে নিযুক্ত সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, কাঠামো খুলে ফেলতে হবে। বিজেপি সূত্রে খবর, পুরো হ্যাঙার কাঠামো খুলে ফেলার নির্দেশ এখনও দেওয়া হয়নি। আপাতত শুধুমাত্র মঞ্চের নিচের কাঠামো খুলে মাটি পরীক্ষা করার কাজ করা হবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরীক্ষা শেষ হলে পুনরায় মঞ্চ তৈরি করা হবে।
এদিকে এই সিদ্ধান্তে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাজ্য বিজেপি শিবিরে। কারণ আগামী শনিবার অর্থাৎ ১৪ মার্চেই ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভা নির্ধারিত রয়েছে। হাতে সময় রয়েছে মাত্র কয়েক দিন। গত তিন দিন ধরে যে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল, সেটি খুলে আবার নতুন করে নির্মাণ করতে গেলে সময়মতো কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন আয়োজকেরা। যদিও প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত একাংশ নেতার দাবি, মঞ্চ পুনর্নির্মাণ করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তাঁদের মতে, মাঠের বাকি প্রস্তুতিই বেশি জটিল এবং সময় সাপেক্ষ। ব্রিগেড মাঠে ইতিমধ্যেই শালখুঁটি এবং বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাবেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠকে বিভিন্ন ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়াও অস্থায়ী লোহার স্তম্ভ তৈরি করে তার মাথায় সাউন্ড সিস্টেম ও মাইক বসানোর কাজও চলছে। আয়োজকদের মতে, এই সমস্ত প্রস্তুতির বড় অংশ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ব্রিগেড সমাবেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। কারণ রাজ্যে দলের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ -এর সমাপ্তি ঘটবে এই সভার মাধ্যমেই। বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার কর্মী ও সমর্থককে এই সভায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ব্রিগেডের এই কর্মসূচী শুধু রাজনৈতিক জনসভা নয়। প্রথমে একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। প্রশাসনিক সভার মঞ্চটি মূল জনসভামঞ্চের একটু পিছনের দিকে মাঠের এক প্রান্তে তৈরি করা হচ্ছে। এই ধরনের দ্বৈত কর্মসূচী সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সফরে দেখা গেছে। প্রশাসনিক প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের সভার আয়োজন করা হয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
এসপিজির কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল অবশ্য নতুন কিছু নয়। দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই বাহিনী অত্যন্ত কঠোর নিয়ম মেনে চলে। সভাস্থলের প্রতিটি অংশ, এমনকি মাটির নিচের অংশও প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা করা তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। ফলে ব্রিগেডে মঞ্চ খুলে ফেলার নির্দেশ রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করলেও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ‘রুটিন প্রটোকল’ -এরই অংশ। এখন নজর শনিবারের সভার দিকে। নিরাপত্তা পরীক্ষার পর কত দ্রুত মঞ্চ পুনর্নির্মাণ করা যায় এবং শেষ পর্যন্ত ব্রিগেড সমাবেশ কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi, AI Conference Delhi, Bharat Mandapam | ‘দেশের সাফল্য সহ্য হচ্ছে না’ : এআই সামিট বিতর্কে কংগ্রেসকে কটাক্ষ মোদীর




