Narendra Modi | ‘রাষ্ট্রপতিকে অপমান’ : পশ্চিমবঙ্গ ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল দেশের রাজনীতিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) রবিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে সফরে গিয়ে দেশের সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) চরম অবমাননার শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘নারী দিবসের আগের দিন একজন মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে’, যা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, দেশের সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও অবমাননা। উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। ওই দিন পশ্চিমবঙ্গে একটি আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় তখনই, যখন অভিযোগ ওঠে যে তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারের কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি নিজেও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : Prime Minister Seva Sankalp | ‘সেবা সংকল্প’ পুনর্নবীকরণে সার দপ্তরের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দর্শন সামনে রেখে কর্তব্য ভবনে শপথ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ প্রসঙ্গে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি বাংলায় লেখেন, ‘এটি লজ্জাজনক এবং অভূতপূর্ব। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নের পক্ষে থাকা মানুষজন এই ঘটনায় গভীরভাবে ব্যথিত। জনজাতি সমাজ থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত উদ্বেগ ও বেদনা দেশের মানুষের মনেও গভীর আঘাত করেছে।’ এরপর রবিবার একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি আরও কড়া ভাষায় পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্‌যাপিত হচ্ছে। আর ঠিক তার আগের দিন পশ্চিমবঙ্গে এক মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসী সমাজের উৎসবে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে যে সম্মান দেওয়া উচিত ছিল, তা দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই ঘটনা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অসম্মানের বিষয় নয়। তাঁর কথায়, ‘এটা শুধু রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, এটা সংবিধানের অপমান। সংবিধানের চেতনার অপমান। গণতন্ত্রের অপমান। যে সব নারী জীবনের নানা সংগ্রাম অতিক্রম করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন, তাঁদের প্রতিও এটা অসম্মান।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার যে, তিনি এই ঘটনাকে শুধুমাত্র প্রোটোকল সংক্রান্ত বিতর্ক হিসেবে দেখছেন না; এটিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আদিবাসী পরিচয় এবং তাঁর সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বিষয়টিকে সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিনিধিত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই অভিযোগের জবাবে জানিয়েছেন, তিনি সেই সময়ে রাজ্যের মানুষের দাবি নিয়ে ধরনায় বসেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘মানুষের অধিকারের জন্য আন্দোলনে থাকার কারণে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি।’ রাজ্য সরকারের তরফেও দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা আক্রমণ করে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই অতীতে রাষ্ট্রপতিকে যথাযথ সম্মান দেখাননি। তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ (Tanmay Ghosh) বলেন, ‘সংসদ ভবনের উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানাননি। সেটাই ছিল গণতন্ত্রের এক কালো দিন। এখন আবার ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ তাঁর আরও দাবি, ‘বাংলার মানুষের কাছে এই ধরনের রাজনৈতিক নাটক নতুন কিছু নয়। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করে থাকে।’

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে এই বিতর্ক কেবল প্রোটোকল বা সৌজন্যের প্রশ্ন নয়, তা আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই জাতীয় রাজনীতির বড় নেতাদের মন্তব্যে রাজ্যের ঘটনাবলি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দেশের প্রথম আদিবাসী নারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক যাত্রাপথ বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। সেই কারণেই তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি : ‘অত্যন্ত উদ্বেগে’ নতুন দিল্লি, শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগে তৎপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন