PM Narendra Modi | পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি : ‘অত্যন্ত উদ্বেগে’ নতুন দিল্লি, শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগে তৎপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত অবনতি হওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। সংঘাত থামাতে অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক। একই সঙ্গে আঞ্চলিক রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। মঙ্গলবার তিনি ফোনে কথা বলেন ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবা আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ -এর সঙ্গে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার জেরে একাধিক দেশে উত্তেজনা চরমে। বিশেষত, যে সব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলিতে ইরানের প্রত্যাঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওমান ও কুয়েত সেই তালিকায় থাকায় ভারত সরকারের নজর সেদিকেই বেশি। সরকারি সূত্রে খবর, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করেছেন।

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যে সংঘাতের সূত্রপাত, তা ক্রমেই বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে, বহু এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘দুর্ভাগ্যবশত পবিত্র রমজানের মাসেই ওই অঞ্চলে হিংসা বৃদ্ধি পেয়েছে দ্রুত এবং তা উদ্বেগজনক।’ উভয় পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। প্রসঙ্গত, গত শনিবার ভোরে তেহরানে যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি। এর পরেই ইরান পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে শুরু করে। সংঘাতের এই বিস্তার গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতিমধ্যেই একাধিক আরব রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বাহরিনের রাজা, সৌদি আরবের যুবরাজ, জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহিয়ান এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি হামলার নিন্দা করে উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন বলে উল্লেখ।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Republic Day | সাধারণতন্ত্র দিবসে কর্তব্যপথে নতুন ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদেশি অতিথিদের জন্য নিজেই ধারাভাষ্যকার হয়ে উঠলেন ভারতের কণ্ঠ

বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সংঘাত শুধু দুই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব আশপাশের দেশগুলিতেও পড়ছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ভারতের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। ফলে সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় কর্মরত ও বসবাসকারী। নির্মাণ, স্বাস্থ্য, পরিষেবা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান উল্লেখযোগ্য। চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যেই কয়েক জন ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর মিলেছে, আরও কয়েক জন নিখোঁজ বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। ফলে প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দ্রুত এই সংঘাতে ইতি টানতে আমরা সোচ্চার হচ্ছি। ইতিমধ্যে বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। সেই নিয়ে আমরা দুঃখিত।’ পাশাপাশি জানানো হয়েছে, যে সব দেশে পরিস্থিতি অস্থির, সেখানে ভারতীয় দূতাবাস ও উপদূতাবাস নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজনে সরিয়ে আনার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে নিয়মিত।

ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম এশিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির উপর নির্ভরশীল। ইজরায়েল ও আরব বিশ্ব উভয়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে নতু দিল্লি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই কৌশল আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে, সামরিক প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজাই একমাত্র কার্যকর উপায়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশীয় বাজারে। পাশাপাশি, সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হলে রপ্তানি-আমদানির উপরও চাপ তৈরি হবে। এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। সরকারি সূত্রে খবর, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে কেন্দ্র। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের মধ্যে ভারতের বার্তা পরিষ্কার হিংসার বদলে আলোচনা, সংঘাতের বদলে স্থিতিশীলতা। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকার উপরও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian AI Startups 2026, PM Narendra Modi AI Roundtable | ভারতের AI উদ্ভাবনে স্টার্টআপদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন