প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউড ছেড়ে হলিউডে পাড়ি। বহু বছর ধরেই এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা জল্পনা, বিতর্ক ও কৌতূহল। অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra)। ‘দেশি গার্ল’ স্পষ্ট জানালেন, ‘আমি কখনওই স্বেচ্ছায় বলিউড ছেড়ে যেতে চাইনি।’ তাঁর এই মন্তব্য ফের আলোচনায় এনে দিল হিন্দি চলচ্চিত্রজগত ছেড়ে বিদেশমুখী হওয়ার নেপথ্য কাহিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি মনে করি না যে আমি কোনও দিন বলিউড ত্যাগ করতে চেয়েছিলাম। পরিস্থিতিই আমাকে অন্য পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে।’ অভিনেত্রীর কথায় উঠে এসেছে পেশাগত সীমাবদ্ধতার অনুভব। তিনি জানান, ‘এক সময় মনে হত, এখানে আমার কাজের পরিসর খুব ছোট হয়ে যাচ্ছে। শিল্পী হিসেবে নিজেকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করতে চাইছিলাম।’

২০০০ সালে মিস ওয়ার্ল্ড (Miss World) খেতাব জয়ের পর বলিউডে তাঁর যাত্রা শুরু। একের পর এক হিট ছবি ‘ফ্যাশন’, ‘ডন’, ‘বাজিরাও মস্তানি’ তাঁকে প্রথম সারির অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তবু সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়েও কেন বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি এমন কাজের খোঁজে ছিলাম যা আমাকে নতুন করে উত্তেজিত করবে। একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চাইনি।’ হলিউডে তাঁর প্রথম বড় ব্রেক ছিল জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’ (Quantico)। সেই সিরিজ তাঁকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলে। পরে একাধিক ইংরেজি ছবি ও ওয়েব প্রজেক্টে অভিনয় করেন তিনি। তবে এই পথ মোটেই সহজ ছিল না। প্রিয়াঙ্কার স্বীকারোক্তি, ‘বিদেশে গিয়ে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হয়েছে। ভাষা, সংস্কৃতি, কাজের ধরন সবটাই আলাদা ছিল। প্রথম কয়েক বছর খুব কঠিন লেগেছে।’

বলিউড ত্যাগ প্রসঙ্গে নানা সময়ে শোনা গিয়েছিল, ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা ‘ক্যাম্প কালচার’ -এর কারণেই তিনি দূরে সরে যান। যদিও প্রিয়াঙ্কা সরাসরি কোনও ব্যক্তির নাম নেননি, তবু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ‘কিছু পরিস্থিতি এমন ছিল, যেখানে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছিল।’ তাঁর কথায়, ‘আমি নিজের আত্মসম্মান ও সৃজনশীল স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিয়েছি।’ প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যে বলিউডে আবারও ‘নেপোটিজম’ ও সুযোগের অসম বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ কাজ নয়। একজন ভারতীয় অভিনেত্রীর পক্ষে তা আরও কঠিন। তবু প্রিয়াঙ্কা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং সফলও হয়েছেন।
১২ বছর পর নিজের সফরের দিকে ফিরে তাকিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘এই যাত্রা মোটেই মসৃণ ছিল না। বহুবার ভেঙে পড়েছি, আবার উঠে দাঁড়িয়েছি।’ তাঁর মতে, শিল্পীর জীবনে পরিবর্তন অপরিহার্য। ‘নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার না করলে স্থবিরতা আসে,’ মন্তব্য করেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এখন আবার ভারতীয় সিনেমায় তিনি প্রত্যাবর্তনের পথে। তবে সরাসরি বলিউডে নয়, দক্ষিণী ছবির মাধ্যমে। ‘বারাণসী’ (Baranasi) নামের একটি ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে। প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, ‘আমি ভারতীয় সিনেমাকে ভালবাসি। এই ছবিতে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত।’ বলিউড ও দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে বেছে নিতে বলা হলে তাঁর সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘আমি কোনও একটি বেছে নিতে পারব না। দুই জগতেই আমার সমান টান।’

বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও মন দিচ্ছেন। তাঁর মতে, ‘কনটেন্টই এখন আসল। ভাষা বা দেশের গণ্ডি ভেঙে গল্প পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বদর্শকের কাছে।’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসারও শিল্পীদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার ব্যক্তিজীবনও কম আলোচিত নয়। মার্কিন গায়ক নিক জোনাস (Nick Jonas) -এর সঙ্গে বিবাহের পর তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বেড়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ব্যক্তিগত জীবন নয়, পেশাগত আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে বিদেশমুখী করেছে। ‘আমি নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছি,’ বলেন অভিনেত্রী। প্রসঙ্গত, বলিউডে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। অনুরাগীদের একাংশ চান, আবারও তাঁকে হিন্দি ছবিতে দেখা যাক। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তিনি এখন এক গ্লোবাল আইকন। ফলে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তই আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বক্তব্য, বলিউড ছেড়ে যাওয়া ছিল না স্বেচ্ছা নির্বাসন, বরং পেশাগত পরিসর বাড়ানোর প্রয়াস। সীমাবদ্ধতার গণ্ডি ভেঙে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার যে লড়াই তিনি শুরু করেছিলেন, তা আজও অব্যাহত। তাঁর কথায়, ‘আমি কখনওই ছেড়ে যেতে চাইনি, কিন্তু নিজের স্বপ্নের জন্য নতুন রাস্তা বেছে নিয়েছি।’
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nick Jonas on good husband, Priyanka Chopra Nick Jonas marriage | ভাল স্বামী হওয়ার মানে কী? প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের দাম্পত্য দর্শন খোলসা করলেন নিক জোনাস




