সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কোচ বিহার : কোচবিহার শহরের শ্যামাপ্রসাদপল্লী এলাকায় এক গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছেন স্বামী। অভিযুক্ত পেশায় শিক্ষক এবং স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মৃতের নাম অম্বালিকা সরকার। অভিযুক্ত রাজদীপ বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামাপ্রসাদপল্লী এলাকায়। সোমবার গভীর রাতে বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকার ও গোলমালের শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। স্থানীয়দের বক্তব্য, ওই পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। তাই প্রথমে তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে গোঙানির শব্দ কানে আসতেই সন্দেহ হয়। বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, অম্বালিকা রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় কোচবিহার এমজেএম হাসপাতালে (Cooch Behar MJM Hospital)। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত রাজদীপ বড়ুয়া স্থানীয় ১৭৭ নম্বর বুথের BLO হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ঘটনায় এলাকার মানুষ স্তম্ভিত। অনেকেই বলছেন, ‘যিনি ভোট প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বিশ্বাস করা কঠিন।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, রাজদীপের নেশার অভ্যাস দীর্ঘদিনের। প্রায় প্রতিদিনই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন বলে অভিযোগ। তার জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। সোমবার রাতেও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ঢুকে তিনি ঝগড়া শুরু করেন। এরপরই ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। মৃতার কাকা বলেন, ‘প্রতিদিন মদ খেয়ে এসে অশান্তি করত। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাড়িতে ঢুকেই ঝগড়া শুরু করে। তারপর ঘরের মধ্যেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে গলায় কোপ দেয়।’ পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন অম্বালিকা।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে যায়। অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারাল অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তা জানার জন্য মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, শ্যামাপ্রসাদপল্লী এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের কথায়, ‘অনেকবার চিৎকার শুনেছি। কিন্তু এমন পরিণতি হবে ভাবিনি।’ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠছে। একজন শিক্ষক ও BLO পদে থাকা ব্যক্তি কীভাবে এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়লেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় BLO-দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটার তালিকা হালনাগাদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব তাঁদের ওপর থাকে। সেই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রশাসনিক মহলেও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অম্বালিকার মৃত্যুর খবরে তাঁর আত্মীয়স্বজন ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের দাবি, বহুবার সমস্যার কথা জানানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। তাঁদের কথায়, ‘এভাবে প্রাণ যাবে ভাবিনি।’ উল্লেখ্য, কোচবিহার শহরে এই ঘটনা নতুন করে গার্হস্থ্য হিংসা ও নেশাজনিত অপরাধ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাজকর্মীদের একাংশ বলছেন, পরিবারে অশান্তির ঘটনা অবহেলা না করে দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রতিবেশীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
অভিযুক্ত রাজদীপ বড়ুয়াকে আদালতে তোলা হবে। পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ঘটনার সময় আর কেউ বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন কি না এবং পূর্বপরিকল্পনার কোনও ইঙ্গিত ছিল কী না! এদিকে এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শোক ও ক্ষোভের আবহ কাটেনি। গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় কোচবিহারবাসী হতবাক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর আবারও সামনে এল পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র। আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : West Bengal Cabinet Meeting, Mamata Banerjee Nabanna Recruitment Decision | Assembly Election 2026-এর আগে নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় -এর মন্ত্রিসভা বৈঠক, নিয়োগ ও বিনিয়োগে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত




