West Bengal Cabinet Meeting, Mamata Banerjee Nabanna Recruitment Decision | Assembly Election 2026-এর আগে নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় -এর মন্ত্রিসভা বৈঠক, নিয়োগ ও বিনিয়োগে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (Assembly Election 2026) সামনে রেখে ফের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভোট ঘোষণার আগেই মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার নবান্নে (Nabanna) বসছে এই বৈঠক, যা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা বৈঠক। এর আগে ১৭ তারিখ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে নির্বাচন ঘোষণার আগে এটিই শেষ পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা বৈঠক হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এই বৈঠকের আয়োজন। বিশেষ করে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে শূন্যপদ পূরণ, নতুন পদ তৈরি, শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে আর্থিক অনুমোদন, এই সব বিষয়েই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনের অন্দরমহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ‘ভোটের আগে ইতিবাচক প্রশাসনিক বার্তা দিতে চায় সরকার’।

আরও পড়ুন : Anubhav Sinha Mamata Banerjee biopic |বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বড়পর্দায় আনতে চান অনুভব! কেন আকর্ষণীয় চরিত্র মমতা?

রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক পদ, সব ক্ষেত্রেই নিয়োগের প্রশ্নে বিরোধীদের চাপ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইলগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ‘সরকার চাইছে দ্রুত শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে, যাতে কর্মসংস্থানের বার্তা স্পষ্ট হয়।’ শুধু নিয়োগ নয়, শিল্পে বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রেও একাধিক নতুন প্রস্তাব আলোচনায় থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন শিল্পপার্ক গঠন, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে সুবিধা বৃদ্ধির মতো বিষয়ও এই বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থ দফতরের অনুমোদন সাপেক্ষে কয়েকটি বড় প্রকল্পে আর্থিক ছাড়পত্র দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোটের আগে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানোই সরকারের কৌশল। বিশেষত গ্রামীণ পরিকাঠামো, রাস্তা, সেচ, পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র উন্নয়নের মতো প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, ‘সরকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। নির্বাচন সামনে থাকলেও প্রশাসনিক কাজ থেমে থাকবে না।’ রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচন ঘোষণার আগে এই বৈঠক কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর নির্বাচন আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গেলে বড় প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তার আগেই একাধিক প্রকল্প ও নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিরোধী দলগুলিও এই বৈঠকের দিকে কড়া নজর রাখছে। তাদের দাবি, ‘ভোটের আগে জনমুখী ঘোষণা করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটাই দেখার।’

কিন্তু, শাসক শিবিরের বক্তব্য যে এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। একজন তৃণমূল নেতা বলেন, ‘রাজ্য সরকারের কাজ নিয়মমাফিক চলবে। নির্বাচন আসছে বলে উন্নয়ন বন্ধ রাখা যায় না।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে যদি বড়সড় নিয়োগ বা বিনিয়োগ ঘোষণা হয়, তবে তা ভোটের আগে সরকারের ভাবমূর্তি মজবুত করতে সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে রাজ্য সরকার একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে জোর দিয়েছে। মহিলা, কৃষক, ছাত্রছাত্রী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচী চালু বা সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে নতুন কোনও সামাজিক প্রকল্পের অনুমোদন আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। তবে, বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026) -এর প্রাক্কালে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর ডাকা মন্ত্রিসভার বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। নিয়োগ, বিনিয়োগ, উন্নয়ন এবং আর্থিক অনুমোদন, এই চারটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভোট ঘোষণার আগে সরকার কী বার্তা দেয় এবং কোন কোন সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে স্পষ্ট হবে, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে রাজ্য সরকার কোন কৌশলকে সামনে রেখে এগোতে চায়। তবে আপাতত নবান্নমুখী নজর গোটা রাজ্যের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nabanna FIR, Election Commission directive | নবান্নের বড় পদক্ষেপ: কমিশনের সময়সীমা মেনেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর, চিঠিতে জানালেন নন্দিনী চক্রবর্তী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন