প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই: সমাজমাধ্যমের যুগে জনপ্রিয়তা আর সমালোচনা দুটোই হাত ধরাধরি করে চলে। এক মুহূর্তে প্রশংসার ঢেউ, পরের মুহূর্তেই তীব্র কটাক্ষ। এই চড়াই-উতরাইয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পরিচিত যাঁরা, তাঁদের মধ্যে অন্যতম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra)। সাফল্যের শিখরে থেকেও নিত্যদিন তাঁকে পড়তে হয় ট্রোল, সমালোচনা ও ব্যক্তিগত মন্তব্যের মুখে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, ‘অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ি’, তবে সেখান থেকেই আবার উঠে দাঁড়ানোর লড়াইটাই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়। মনে হয়, মানুষ এমন খারাপ কথা বলছেন কেন? তাঁরা তো আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন না। আমার জীবনের কোনও একটা ঘটনা থেকে আমাকে কী সত্যিই খারাপ মানুষ হিসাবে দাগিয়ে দেওয়া যায়?’ তাঁর কথায়, আলোয় থাকার পেশা বেছে নেওয়ার অর্থই হল সর্বক্ষণ নজরবন্দী থাকা। ছোট্ট ভুল বা ভুল ব্যাখ্যাও কখনও কখনও বড় বিতর্কে রূপ নেয়। সামাজিক মাধ্যমে মতামত জানানোর স্বাধীনতা থাকলেও, তা অনেক সময় ব্যক্তিগত আক্রমণে গিয়ে ঠেকে।

অভিনেত্রীর মতে, মানসিক দৃঢ়তা ছাড়া এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন। ‘মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ি। কিন্তু ফের উঠে দাঁড়াই। আসলে রাস্তা খুব সহজ নয়। প্রতি বার ঘুরে দাঁড়ানো বেশ কঠিন। আমি জীবনের ইতিবাচক দিক নিয়ে ভাবি ও নিজের কাজ নিয়ে থাকি।’ তাঁর এই স্বীকারোক্তি ভক্তদের কাছে বিশেষ মেসেজ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ গ্ল্যামারের আড়ালে যে চাপ, অনিশ্চয়তা ও মানসিক টানাপোড়েন থাকে, তা অনেক সময় চোখে পড়ে না। সমাজমাধ্যমের প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা জানান, জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বও বেড়েছে। কোটি কোটি অনুরাগীর সামনে প্রতিটি বক্তব্য, প্রতিটি ছবি বা ভিডিও খুঁটিয়ে দেখা হয়। প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও গ্রহণ করতে হয়। তবে নেতিবাচক মন্তব্যকে কীভাবে সামাল দেন? তাঁর উত্তর, ‘সব কথা হৃদয়ে নিই না। নিজের কাজ আর লক্ষ্যকে সামনে রাখি।’ এই মনোভাবই তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের জায়গা তৈরি করতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
বলিউড থেকে হলিউড দুই ক্ষেত্রেই সমান ভাবে কাজ করছেন প্রিয়াঙ্কা। বর্তমানে তিনি হলিউডে একাধিক প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত। আন্তর্জাতিক সিরিজ ও ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও আগ্রহী হয়েছেন তিনি। গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই সাফল্যের পথ অবশ্য একদিনে তৈরি হয়নি। বহু অডিশন, প্রত্যাখ্যান, সাংস্কৃতিক পার্থক্য সব পেরিয়ে আজকের অবস্থান। দীর্ঘ আট বছর পর ভারতীয় ছবিতে ফিরছেন প্রিয়াঙ্কা। ‘বারাণসী’ শিরোনামের নতুন ছবির মাধ্যমে আগামী বছর এপ্রিল মাসে বড় পর্দায় দেখা যাবে তাঁকে। ছবিটি ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ভারতীয় দর্শকের কাছে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার মাঝেও দেশের ছবিতে অভিনয় তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সংযোগেরই প্রমাণ।

জনপ্রিয়তার অন্য পিঠে যে মানসিক চাপ থাকে, তা নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বহু তারকা মুখ খুলেছেন। প্রিয়াঙ্কার কথায় উঠে এসেছে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন। ‘মানুষের কথা কখনও কখনও আঘাত করে,’ বললেও তিনি এটাও জানান, প্রতিটি আঘাত তাঁকে আরও সচেতন ও শক্ত করে তোলে। ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখাই তাঁর মূলমন্ত্র। অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজের উপর বিশ্বাস রাখা জরুরি। বাইরের আওয়াজ থামানো যায় না, কিন্তু নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে রাখা যায়। ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত সাফল্য এবং সমাজমাধ্যমের চাপে ভারসাম্য বজায় রাখার এই অভিজ্ঞতা তিনি অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন। যাই হোক, হলিউডে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয়াঙ্কা ভারতীয় সিনেমায় প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ‘বারাণসী’ মুক্তির পর আবারও দেশীয় দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষা। তবে একথা বলাই যায়, সমালোচনা, ট্রোল বা কটাক্ষ, এসব কিছুর মাঝেও নিজের কাজ আর আত্মবিশ্বাসকে হাতিয়ার করেই এগিয়ে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Battle of Galwan salary, Salman Khan remuneration | ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’ ঘিরে চমক: সলমনের পারিশ্রমিক ১১০ কোটি, গোবিন্দা থেকে চিত্রাঙ্গদা কে কত নিচ্ছেন?




