সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মেলবোর্ন : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় নেই। তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার দল ঘোষণা ঘিরে সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্যাট কামিন্স (Pat Cummins) -এর অনুপস্থিতি। শুধু একজন তারকা পেসার নন, কামিন্স অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও একদিনের দলের অধিনায়কও বটে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, শুধুই কি চোট, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর কোনও কারণ? বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিলেন কামিন্স। তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং টেস্ট ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা।
আরও পড়ুন : Sunil Gavaskar | অস্ট্রেলিয়ায় ‘কাগুজে বাঘ’! সুনীল গাভাসকর কড়া আক্রমণে ইংল্যান্ডের বাজবল
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কামিন্স জানান, তিনি কোনও ভাবেই ঝুঁকি নিতে চাননি। তাঁর ভাষায়, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক একটা পরিস্থিতি। হাতে একেবারেই সময় ছিল না। এখনও কয়েক সপ্তাহ বিশ্রাম দরকার। এই অবস্থায় বিশ্বকাপে খেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তাই ঝুঁকি নেওয়াটা ঠিক মনে করিনি।’ তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ থেকেও সরে দাঁড়াতে তিনি দ্বিধা করেননি, যদি তাতে ভবিষ্যতের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। মূলত পিঠের চোটই এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্র। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় (West Indies) সফরের সময় চোট পান কামিন্স। সেই চোট পুরোপুরি না সারতেই শুরু হয়ে যায় অ্যাশেজ় (Ashes)। সেখানে তিনি মাত্র একটি টেস্ট খেলতে পেরেছিলেন। অ্যাডিলেড টেস্টের পর থেকেই তাঁর শরীর আর সঙ্গ দিচ্ছিল না। কামিন্স নিজেই জানিয়েছেন, ‘অ্যাডিলেড টেস্টের পরেই বুঝে গিয়েছিলাম, হাড়ের চোট সারতে আরও চার থেকে আট সপ্তাহ লাগবে। তার পরেই কেবল অনুশীলন শুরু করা সম্ভব হবে। প্রথমে মনে হয়েছিল, চার সপ্তাহেই ঠিক হয়ে যাব। কিন্তু স্ক্যানের পর বোঝা যায়, সময় আরও বেশি লাগবে। কবে পুরোপুরি সুস্থ হব, সেটাও এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’ এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সামনে এসে দাঁড়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। শরীর পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকা সত্ত্বেও খেললে যে চোট আরও গুরুতর হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন। তাই নিজের পাশাপাশি দলের ভবিষ্যতের কথাও ভেবে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন অজি তারকা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হলেই শুরু হবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL বা Indian Premier League)। সেখানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad) -এর অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আইপিএলে তাঁকে পাওয়া যাবে তো? কামিন্সের কথাবার্তা শুনে সেই বিষয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। তিনি তা নিয়ে স্পষ্ট করে না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইপিএলের আগে পুরো সুস্থ হওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজির সমর্থকদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে। কিন্তু, শুধু চোট নয়, কামিন্সের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি বড় কারণ, সেটি টেস্ট ক্রিকেট। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট ক্রমশ প্রাধান্য পাচ্ছে, সেখানে কামিন্স এখনও টেস্টকেই নিজের আসল মঞ্চ বলে মনে করেন। তাঁর সাফ বক্তব্যে, অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ভবিষ্যৎ তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে বড় সুযোগ রয়েছে ২০২৫-২০২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (World Test Championship) -এর ফাইনালে ওঠার। যদি তারা সেখানে পৌঁছয়, তা হলে পর পর তিনবার ফাইনাল খেলার দৃষ্টান্ত গড়বে অস্ট্রেলিয়া। সেই মঞ্চে আবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কামিন্স। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠব। কারণ, সম্পূর্ণ সুস্থ না হলে টেস্ট খেলা সম্ভব নয়। আমি চাই, দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলে যেতে।’ এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তাঁর অগ্রাধিকার তালিকা। এদিকে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কামিন্সের এই সিদ্ধান্ত আধুনিক ক্রিকেটে বিরল হলেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বকাপ বা আইপিএলের মতো বড় মঞ্চ হাতছাড়া হলেও তিনি বড় লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে একজন পেসারের ক্ষেত্রে পিঠের চোট মারাত্মক হতে পারে। সেটিকে অবহেলা করলে পুরো কেরিয়ারই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সেই বাস্তবতাই বুঝেছেন কামিন্স। কিন্তু, ক্রিকেট মহলের মত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে প্যাট কামিন্সের সরে দাঁড়ানো শুধুই একটি টুর্নামেন্ট মিস করা নয়। এটি তাঁর ক্রিকেট দর্শনের প্রতিফলন। টি-টোয়েন্টির চেয়ে টেস্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, শরীরকে সময় দেওয়া এবং দেশের সাফল্যের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখাই তাঁর লক্ষ্য। এখন দেখার, কত দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি আবার মাঠে ফিরতে পারেন এবং অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্বপ্নপূরণে কতটা বড় ভূমিকা নিতে পারেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sourav Ganguly coach, SA20 final | ব্রেভিসের শতরানেও অধরা ট্রফি, কোচ সৌরভের স্বপ্নভঙ্গ; এসএ২০-তে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ



