সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) নির্মাণকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা, বিতর্ক ও রাজনৈতিক স্রোত তৈরি হয়েছে, তাতে একটুও পিছিয়ে যাননি তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। নানা সমালোচনা ও প্রশ্নের মাঝেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে। চারদিক ঘিরে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সেই অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে রাজ্যের নজরকাড়া ধর্মীয় আয়োজনে অন্যতম। হুমায়ুন কবীর শুরু থেকেই বলেছিলেন, এই শিলান্যাস হবে এক ‘ঐতিহাসিক জমায়েত’ এবং তার বক্তব্য সত্যি করতেই ভিড় জমেছে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষের। ইসলামের পবিত্র শহর মদিনা (Madina) থেকে দুইজন কাজির আগমন অনুষ্ঠানটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। রবিবার সকালেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিশেষ কনভয়ে তাদের বেলডাঙায় আনা হয়। শিলান্যাসের সময়ে তাঁদের উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
অনুষ্ঠানস্থলে যেদিকে চোখ যায়, দেখা গিয়েছে ভিড়, ব্যস্ততা, প্রস্তুতির ছাপ। সন্দেশখালি, ক্যানিং, লালগোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রান্তের সংখ্যালঘু মানুষ মাথায় ইট নিয়ে হেঁটে এসে অংশ নেন এই অনুষ্ঠানে। তাঁদের মতে, ‘এটি শুধু একটা মসজিদের শিলান্যাস নয়, এটি একতার প্রতীক।’ একদিকে ধর্মীয় শোভা, অন্যদিকে বিশাল খাবার আয়োজন, সব মিলিয়ে জায়গাটি পরিণত হয়েছিল উৎসবের মাঠে। এনডিটিভির প্রতিবেদনকে সূত্র ধরে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় এক লক্ষ মানুষের জন্য ‘শাহী বিরিয়ানি’ তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল মুর্শিদাবাদের সাতটি বড় ক্যাটারিং সংস্থাকে। হুমায়ুন কবীরের ঘনিষ্ঠ এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা প্রায় ৪০ হাজার বিশেষ অতিথির জন্য আলাদা বিরিয়ানি প্যাকেট তৈরি করেছি। সঙ্গে আরও ২০ হাজার প্যাকেট থাকবে এলাকার বাসিন্দাদের জন্য। শুধু খাবারেই ৩০ লক্ষ টাকার মতো খরচ হচ্ছে। এমন আয়োজন মুর্শিদাবাদে খুব কম দেখেছে।”
অনুষ্ঠানের কেন্দ্রে ছিল ১৫০ ফুট দীর্ঘ একটি মঞ্চ, যেখানে ৪০০ অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়। মঞ্চ তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা, যা আয়োজকদের হিসেব অনুযায়ী ‘সামগ্রিক বাজেটেরই একটি অংশ মাত্র।’ পুরো অনুষ্ঠান মিলিয়ে সমস্ত খরচ ৬০-৭০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা স্থানীয় প্রশাসনের। শুধু ভিড় সামলানো নয়, নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গোটা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই, যা প্রতিদিনই ব্যস্ত রাস্তা হিসেবে পরিচিত। তাই বেলডাঙা ও রানিনগর থানার মোট ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন ছিল। এছাড়াও ১৯টি অতিরিক্ত বাহিনীও ব্যবহার করা হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য কোনও উত্তেজনা এড়াতে।
বিকেল ৪টার মধ্যে এলাকা খালি করার নির্দেশ ছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে, যাতে অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে চাপ সৃষ্টি না হয়। সারা দিন ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন ছিল যে, অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘এত বড় আয়োজন এখানে আগে কখনও দেখিনি।’ যদিও পুরো আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কটূক্তি ও বিতর্ক কম হয়নি, হুমায়ুন কবীর তা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে রাজি নন। তাঁর কথায়, “মানুষের জন্য, মানুষের বিশ্বাসের জন্য কাজ করছি। কেউ চাইলে সমালোচনা করুক। আমার লক্ষ্য স্পষ্ট, এলাকার উন্নয়ন আর সমন্বয়ের মন্দির গড়া।”
অনেকের ধারণা, মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে এই আয়োজন ভবিষ্যতের সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আপাতত বেলডাঙা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই, মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠান কতটা বিশাল ছিল এবং বিরিয়ানি থেকে নিরাপত্তা, সব কিছুতেই যে ছিল রাজকীয় ছাপ, তা স্পষ্ট বুঝেছেন উপস্থিত প্রত্যেকেই। এই অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় জৌলুস নয়, তা সাংগঠনিক দক্ষতা, অর্থবহ বার্তা ও মানুষের একতার প্রতিচ্ছবি হিসেবেই মনে রাখবে মুর্শিদাবাদ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit Syed Mushtaq Ali Trophy | মুস্তাক আলিতে ফেরার ইঙ্গিত রোহিতের! অবসরের পরেও ছোট ফরম্যাটে কেন বাড়ছে তার আগ্রহ




