সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বহরমপুর : মুর্শিদাবাদে ফের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। মাঝরাতে ব্যাগে পিস্তল ও গুলি নিয়ে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করার সময় হরিহরপাড়া থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার এক যুবক। ধৃতের নাম সাবির হোসেন (Sabir Hossain)। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, না কি আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের কোনও বড় চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি? উল্লেখ্য, রবিবার গভীর রাতে হরিহরপাড়া থানার (Hariharpara Police Station) সদানন্দপুর এলাকায় এই গ্রেফতারির ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন গোপন খবর আগেই পুলিশের কাছে ছিল। সেই অনুযায়ী সজাগ ছিল হরিহরপাড়া থানার পুলিশ। থানার আইসি অরূপ কুমার রায় (Arup Kumar Ray)-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিল।
ঠিক সেই সময় পুলিশের চোখে পড়ে একজন যুবক, তিনি পিঠে একটি ব্যাগ নিয়ে অস্বাভাবিক ভাবে এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করছিলেন। পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এগোতেই ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ দ্রুত তৎপরতা দেখিয়ে তাঁকে ধরে ফেলে। ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে একটি পিস্তল এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত সাবির হোসেনের বাড়ি হরিহরপাড়া থানার বহড়ান এলাকায়। প্রাথমিক জেরায় তিনি অস্ত্র রাখার কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। ফলে অস্ত্র আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, সাবির হয়তো নিজেই আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারে যুক্ত, আবার কেউ কেউ মনে করছেন তিনি কোনও বড় পাচারচক্রের ‘কুরিয়ার’ হিসেবেও কাজ করতে পারেন।
এই ঘটনায় আরও রহস্য ঘনীভূত হয়েছে কারণ, উদ্ধার হওয়া পিস্তল ও গুলি কোথা থেকে এল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানতে চাইছে, এই অস্ত্র কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না, নাকি অন্য কাউকে হস্তান্তরের জন্যই মাঝরাতে সাবির এইভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ধৃতকে জেরা করলে অস্ত্র সরবরাহের উৎস এবং সম্ভাব্য ক্রেতা বা গ্রাহকের নাম সামনে আসতে পারে। উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদ জেলায় সাম্প্রতিক কালে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে অস্ত্র পাচারের ঝুঁকি বরাবরই বেশি। সেই কারণেই প্রতিটি এমন ঘটনার পিছনে বড় কোনও নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায়ও শুধুমাত্র একজন যুবকের গ্রেফতারিতে সন্তুষ্ট থাকতে চাইছে না তদন্তকারী দল।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার ধৃত সাবির হোসেনকে বহরমপুর আদালতে (Berhampore Court) তোলা হয়। সেখানে তাঁর সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই সময়ের মধ্যেই তাঁকে জেরা করে অস্ত্রের উৎস, পাচারচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এর পিছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, সে সব তথ্য বের করার চেষ্টা করা হবে। এলাকাবাসীর মধ্যেও এই ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গভীর রাতে অস্ত্র নিয়ে একজন যুবকের ঘোরাঘুরি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার, যাতে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ আগেভাগেই রুখে দেওয়া যায়।অন্য দিকে, পুলিশ আধিকারিকদের মতে, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে সময়মতো অভিযান চালানো সম্ভব হওয়ায় বড় কোনও বিপদ এড়ানো গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত বেশি কিছু জানাতে নারাজ পুলিশ, তবে তারা আশাবাদী যে এই গ্রেফতারির সূত্র ধরেই অস্ত্র কারবারের বড় কোনও চক্রের পর্দাফাঁস হতে পারে।
প্রসঙ্গত, মাঝরাতে ব্যাগে পিস্তল ও গুলি নিয়ে ধরা পড়া এই যুবককে ঘিরে মুর্শিদাবাদ জেলায় ফের এক বার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। নাশকতার ছক ছিল, না কি শুধুই অস্ত্র পাচারের চেষ্টা, তার উত্তর মিলবে তদন্ত এগোনোর সঙ্গেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Raskadam : বাংলার রসকদম বা রসকদম্ব




