Nandini Sharma WPL hat-trick | দিল্লির জার্সিতে বোলিংয়ে আগুন ঝরালেন নন্দিনী

SHARE:

সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগে (Women’s Premier League -WPL) রবিবার রাতটা স্মরণীয় হয়ে রইল চণ্ডীগড়ের তরুণ জোরে বোলার নন্দিনী শর্মার (Nandini Sharma) জন্য। গুজরাত জায়ান্টসের বিরুদ্ধে দুরন্ত বোলিং করে ডব্লিউপিএলের ইতিহাসে নিজের নাম তুলে ধরলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের (Delhi Capitals) এই পেসার। ম্যাচে দিল্লি জয় না পেলেও নন্দিনীর ব্যক্তিগত কীর্তি ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ৩৩ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি হ্যাটট্রিক করে দিল্লির প্রথম বোলার হিসেবে ডব্লিউপিএলে তিনি ইতিহাস গড়লেন। গত রবিবার নিজের শেষ ওভারে পরপর তিন বলে গুজরাত জায়ান্টসের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন নন্দিনী। কণিকা আহুজা (Kanika Ahuja), রাজেশ্বরী গায়কোয়াড় (Rajeshwari Gayakwad) এবং রেণুকা সিংহ ঠাকুর (Renuka Singh Thakur) একে একে এই তিন ব্যাটারকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নন্দিনী হলেন ডব্লিউপিএলের চতুর্থ বোলার, তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) ইসি ওং (Issy Wong), ইউপি ওয়ারিয়র্জ়ের (UP Warriorz) গ্রেস হ্যারিস (Grace Harris) এবং দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma)।

২৪ বছরের নন্দিনী শর্মা ভারতের প্রতিশ্রুতিমান জোরে বোলারদের মধ্যে অন্যতম নাম। চণ্ডীগড় এবং উত্তরাঞ্চলের হয়ে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে গত কয়েক মরসুম ধরেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছেন। মহিলাদের জাতীয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই নিলামে ২০ লক্ষ টাকায় তাঁকে দলে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। মূলত পেস বোলার হলেও, প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন নন্দিনী, এই বহুমুখিতাই তাঁকে দলের কাছে আরও মূল্যবান করে তুলেছে। হ্যাটট্রিকের পর নন্দিনী নিজেই জানিয়েছেন, এই কীর্তির পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে দিল্লির অধিনায়ক জেমাইমা রদ্রিগেজ় (Jemimah Rodrigues) এবং ওপেনার শেফালি বর্মার (Shafali Verma)। ম্যাচের পর নন্দিনী বলেন, ‘প্রতিটা বলের আগে জেমাইমা আর শেফালি আমার সঙ্গে কথা বলেছে। কোথায় বল করা উচিত, কী ভাবে লাইন আর লেংথ ধরে রাখতে হবে, ওরা সব সময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছে।’ তাঁর কথায়, বিশেষ কোনও জটিল পরিকল্পনা ছিল না। ‘আমি শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় বল ফেলার চেষ্টা করেছি। ওরা বারবার বলছিল, উইকেট আসবে। তবে হ্যাটট্রিক হবে, সেটা ভাবিনি,’ বলেছেন নন্দিনী।

নিজের বোলিং নিয়ে আরও খোলাখুলি কথা বলেছেন এই তরুণ পেসার। প্রথম ওভারের পর বুঝতে পারেন, ব্যাটারেরা তাঁর স্টক বল পড়ে ফেলছে। তখনই সামান্য বৈচিত্র আনার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত কাজে আসে। নন্দিনীর কথায়, ‘কপাল ভাল, সেই পরিবর্তনটাই কাজ করেছে।’ মাঠে তাঁর পরিবার উপস্থিত থাকাও নন্দিনীর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। মা, ভাই এবং কয়েক জন বন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে এসেছিলেন। পরিবারের বাকিরা টেলিভিশনে খেলা দেখেছেন। নন্দিনী বলেন, ‘বাড়ির সবাই সব সময় পাশে থাকে। সেই সমর্থন থাকলে নিশ্চিন্তে ক্রিকেট খেলতে পারি।’ উল্লেখ্য, এই মরসুমে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে শুরু থেকেই নজর কেড়েছেন নন্দিনী। প্রথম ম্যাচেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৩ ওভার বল করে ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। দুই ম্যাচে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৭। পরিসংখ্যানই বলছে, দিল্লির বোলিং আক্রমণে নন্দিনী এখন অন্যতম ভরসার নাম। আসলে, ডব্লিউপিএল শুধু ভারতের মহিলা ক্রিকেটারদের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চেও নিজেকে প্রমাণ করার বড় সুযোগ। নন্দিনী শর্মার মতো তরুণদের পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, ভবিষ্যতের ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। রবিবার রাতের হ্যাটট্রিক শুধু একটি ব্যক্তিগত কীর্তি নয়, বরং ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubman Gill dropped from T20 World Cup | টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুভমন গিল নেই কেন? নীরবতা ভাঙলেন না গৌতম গম্ভীর, নির্বাচনের বার্তায় ইঙ্গিত স্পষ্ট

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন