Samir Putatunda Death, PDS Leader | দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের অবসান: প্রয়াত পিডিএস নেতা সমীর পুততুণ্ড

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত হলেন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা, পিডিএস-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সমীর পুততুণ্ড (Samir Putatunda)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পারিবারিক সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রবিবার রাত সওয়া ১১টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ। সমীর পুততুণ্ডের মৃত্যুতে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশেষ করে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্মৃতি ফিরে এসেছে বহু মানুষের মনে। সেই আন্দোলনের সময় যাঁরা সামনে থেকে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন সমীর। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

১৯৫২ সালে জন্ম সমীর পুততুণ্ডের। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। সিপিএমের (CPIM) ছাত্রসংগঠনের হাত ধরে রাজনীতিতে উত্থান সমীরের। ধীরে ধীরে সংগঠনের ভিতরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। একসময় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ছিলেন দলের শীর্ষ স্তরের নেতৃত্বেও। সংগঠক হিসেবে যেমন পরিচিতি ছিল, তেমনই তাত্ত্বিক রাজনীতিবিদ হিসেবেও সমীরের খ্যাতি ছিল রাজ্যজুড়ে।জনসংযোগেও জনপ্রিয় ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিপিএমের রাজনৈতিক লাইন ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে তাঁর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতবিরোধ তৈরি হয়। সেই সময়ই সিপিএমের ভিতরে আলোড়ন তুলেছিলেন যে তিনজন বিদ্রোহী নেতা সুভাষ চক্রবর্তী (Subhas Chakraborty), সমীর পুততুণ্ড এবং স‌ইফুদ্দিন চৌধুরী (Saifuddin Chowdhury)। প্রয়াত নেতা সুভাষ চক্রবর্তী একসময় দল ছাড়ার কথা ভাবলেও শেষ মুহূর্তে জ্যোতি বসুর (Jyoti Basu) অনুরোধে পিছিয়ে যান। কিন্তু সমীর পিছু হটেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি দল ত্যাগ করেন এবং সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করে।

এরপর বহিষ্কৃত নেতা স‌ইফুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মিলিত হয়ে সমীর গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল, পিডিএস (PDS)। এই দলের মাধ্যমে তাঁরা বাম রাজনীতির ভিন্ন ধারার কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। সমীরের স্ত্রী অনুরাধা পুততুণ্ড (Anuradha Putatunda) নিজেও ছিলেন সিপিএমের সর্বক্ষণের কর্মী। স্বামীর সঙ্গে তিনিও দল ছাড়েন এবং পিডিএসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময় তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলেন সমীর ও অনুরাধা। সিঙ্গুরে আন্দোলনের মঞ্চে পুততুণ্ড দম্পতিকে নিয়মিত দেখা যেত। সেই সময় কৃষকদের জমি রক্ষার লড়াইয়ে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। পরবর্তী কালে রাজনৈতিক কারণে মমতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও আন্দোলনের স্মৃতি রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে উজ্জ্বল।

সমীর পুততুণ্ডের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘একদা বাম আন্দোলনের শক্তিশালী নেতা সমীর পুততুণ্ডকে হারিয়ে আমি খুবই মর্মাহত। মনে হচ্ছে, আমি নিজের কাউকে হারালাম। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম। অনুরাধাদিকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা নেই, তবুও সর্বদা পাশে আছি।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা রাজনৈতিক মতভেদ ছাপিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আন্দোলনের স্মৃতিকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে, তাত্ত্বিক রাজনীতিবিদ হিসেবে সমীর পুততুণ্ডের আলাদা পরিচিতি ছিল। ভারতের ইতিহাস, বিশেষ করে মার্ক্সবাদী আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক বাম রাজনীতি নিয়ে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। নিয়মিত পড়াশোনা ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি নিজের মতাদর্শ তুলে ধরতেন। যদিও তাঁর গড়া দল পিডিএস নির্বাচনী রাজনীতিতে তেমন সাফল্য পায়নি, তবু আদর্শগত স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছিল। কোনও বৃহৎ দলের সঙ্গে কখনও মিশে যাননি সমীর ও অনুরাধা। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তাঁরা প্রতি বছর একটি শারদ সংখ্যা প্রকাশ করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। উল্লেখ যে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সিপিএমের সঙ্গে সমীরের রাজনৈতিক সম্পর্ক তিক্তই ছিল। কিন্তু, দলের প্রথম সারির কিছু নেতার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক অটুট ছিল বলে রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা যায়। একসময় যে তিন বিদ্রোহী সিপিএমের ভিতর ঝড় তুলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সুভাষ ও স‌ইফুদ্দিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন। এ বার সেই অধ্যায়ের শেষ নামটিও মুছে গেল। সমীর পুততুণ্ডের প্রয়াণের মধ্য দিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :  home loan rules India, SARFAESI Act limit | ২০ লক্ষের কম গৃহঋণে বাড়ি কেড়ে নেওয়া বেআইনি, বড় রায় কলকাতা হাই কোর্টের, সরফেসি আইনে লাগাম আর্থিক সংস্থার ক্ষমতায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন