সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu & Kashmir) -এর উধমপুর জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার সকালে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাসটি রামনগর (Ramnagar) থেকে উধমপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কানোতে (Kanote) গ্রামের কাছে পাহাড়ি রাস্তার একটি বিপজ্জনক মোড় ঘোরার সময় হঠাৎই চালক বাসটির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে একেবারে খাদে গড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০০ ফুট নিচে পড়ে গিয়ে বাসটি একাধিকবার পাহাড়ে ধাক্কা খেতে খেতে থামে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশে-পাশের গ্রাম থেকে মানুষ ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় এসডিআরএফ (State Disaster Response Force – SDRF) -এর দলও। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, অনেক যাত্রী বাসের ভেতরে আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের বের করতে বেশ সময় লেগেছে বলে জানা যাচ্ছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ‘একটা বিকট শব্দ শুনে আমরা ছুটে যাই। গিয়ে দেখি বাসটা নিচে পড়ে আছে, চারদিকে ধোঁয়া আর চিৎকার।’ আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উধমপুরের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর জখমদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh) এই দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ‘উধমপুরের ডেপুটি কমিশনারের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠছে পাহাড়ি রাস্তায় নিরাপত্তা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। বহু ক্ষেত্রে রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, এই সব কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কানোতে গ্রামের আশপাশের রাস্তা অত্যন্ত সরু এবং বিপজ্জনক বলে বহু দিন ধরেই অভিযোগ উঠছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালকের কোনও ত্রুটি ছিল কি না, কিংবা যান্ত্রিক কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং চালকের অভিজ্ঞতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতার কামনাও করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মতো পাহাড়ি এলাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে। বিশেষ করে বর্ষা বা শীতকালে রাস্তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। যদিও এই দুর্ঘটনাটি গ্রীষ্মের শুরুতেই ঘটেছে, তবুও পাহাড়ি বাঁক ও সরু রাস্তার কারণে ঝুঁকি থেকেই যায়। অন্যদিকে, ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও যাত্রীদের খোঁজ চলছে। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি সম্ভাব্য জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’ পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, পাহাড়ি রাস্তায় সামান্য অসতর্কতাও কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেই মনে করছেন অনেকে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৭



