Jay Shah on Women Cricket Policy, Motherhood and Cricket | মা হওয়ার পরও থামবে না ক্রিকেট, আইসিসির ১৬ সপ্তাহের বিশেষ পরিকল্পনা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ দুবাই: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (Cricket) বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি (ICC)। মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য এমন এক নতুন নীতি সামনে আনা হয়েছে, যা মাতৃত্ব এবং পেশাদার ক্রিকেট, এই দুইয়ের মধ্যে আর বেছে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা কমাতে পারে। মা হওয়ার পরও যাতে খেলোয়াড়েরা নির্বিঘ্নে ২২ গজে ফিরতে পারেন, তার জন্য ১৬ সপ্তাহের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কাঠামো ঘোষণা করেছে সংস্থা। এই উদ্যোগকে মহিলা ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Smriti Mandhana TIME 100, influential sports people 2026 | TIME 100 তালিকায় স্মৃতি মন্ধানা: বিশ্বের প্রভাবশালী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে একমাত্র ভারতীয়

মহিলা ক্রিকেটারদের শরীরে গর্ভাবস্থা এবং সন্তানের জন্মের পর নানা পরিবর্তন ঘটে। শারীরিক সক্ষমতা, ফিটনেস, মানসিক অবস্থার ওঠানামা—সব মিলিয়ে অনেকেই বাধ্য হন ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াতে। আইসিসির নতুন নির্দেশিকায় সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ পুনরাগমন পরিকল্পনা। লক্ষ্য একটাই মা হওয়ার পরও ক্রিকেটজীবন যেন থেমে না যায়। আইসিসি (ICC)-এর এই পরিকল্পনায় ১৬ সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শুরুতে স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, তারপর ধীরে ধীরে ফিটনেস বাড়ানো, অনুশীলনে ফেরা এবং শেষে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন, এই পুরো প্রক্রিয়াকে সাজানো হয়েছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ‘বিশেষ এই প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে মা হওয়ার পর ক্রিকেটারদের সুস্থতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং ধাপে ধাপে ম্যাচ ফিট হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা হবে।’

এই উদ্যোগে প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য আলাদা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। তিনি হতে পারেন চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্ট। সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি, পুনর্বাসনের ধাপ এবং মাঠে ফেরার প্রস্তুতি সব কিছুই তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেবেন। এর ফলে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের পুনরাগমন হবে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী।

শুধু শরীর নয়, মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে এই পরিকল্পনায়। মাতৃত্বের পর মানসিক চাপ, ক্লান্তি কিংবা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি—এই বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাচ্ছে আইসিসির নতুন নির্দেশিকায়। প্রয়োজন হলে মনোবিদের সহায়তাও নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। মাঠে ফেরার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রাখা হয়েছে পেশির সক্ষমতা যাচাই। নির্দিষ্ট মান পূরণ না হলে কোনও ক্রিকেটারকে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নামার অনুমতি দেওয়া হবে না। এতে করে আঘাতের ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘস্থায়ী ফিটনেস বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আইসিসির মেডিক্যাল পরামর্শদাতা কমিটির প্রধান ফিলিপ ইঙ্গে (Philip Inge) জানিয়েছেন, এই নীতিটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের আইন ও শ্রমনীতি মাথায় রাখা হবে। তিনি বলেন, ‘সদস্য দেশগুলির নিজস্ব নিয়মকানুন রয়েছে। সেগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নির্দেশিকা প্রয়োগ করা হবে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে মহিলারা ছয় মাসের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি পান, যা এই কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করেই ব্যবহার করা হবে।

আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah) এই উদ্যোগ নিয়ে বলেন, ‘অনেক সময় মহিলাদের দেশের হয়ে খেলা আর মাতৃত্বের মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়। আমরা সেই পরিস্থিতি বদলাতে চাই। ক্রিকেটের পরিবেশকে আরও সহায়ক করতে চাই, যাতে তাঁরা দুই দিকেই এগিয়ে যেতে পারেন।’ তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, সংস্থা মহিলা ক্রিকেটকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চায়। জয় শাহ (Jay Shah) আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মহিলা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। সেই জায়গায় ক্রিকেটারদের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যারা মাঠে এবং ব্যক্তিগত জীবনে দু’দিকেই সফল হতে চান, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।’ এই মন্তব্যে বোঝা যায়, শুধু খেলার উন্নয়ন নয়, খেলোয়াড়দের সামগ্রিক জীবনযাত্রাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে আইসিসি।

ক্রিকেট ইতিহাসে এমন উদাহরণ আগেও রয়েছে, যেখানে মা হওয়ার পরও ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সফল প্রত্যাবর্তন করেছেন। তবে সেই পথ কখনও সহজ ছিল না। অনেক সময় ব্যক্তিগত লড়াই, শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও সমর্থনের অভাব তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন এই কাঠামো সেই বাধাগুলি কমানোর দিকেই পদক্ষেপ। এই নীতি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মহিলা ক্রিকেটার দীর্ঘ সময় ধরে খেলায় যুক্ত থাকতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের কাছেও এটি একটি বড় বার্তা, ক্রিকেট ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনকে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আইসিসির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। শুধু প্রতিভা নয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও যে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এই উদ্যোগ সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। মা হওয়ার পরও যে স্বপ্ন থামে না, তা নতুন ভাবে পথ চলা শুরু, আইসিসির এই নীতিতে সেই বিশ্বাসই উঠে এল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : ODI World Cup 2027 schedule, ICC Cricket World Cup dates | অক্টোবরেই শুরু, নভেম্বরেই ফাইনাল! ২০২৭ এক দিনের বিশ্বকাপের দিনক্ষণ প্রকাশ্যে, বাড়ছে দেশের সংখ্যা ও ম্যাচের উত্তেজনা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন