Kunal Ghosh contempt case | কলকাতা হাইকোর্টে কুণাল ঘোষ দোষী: আদালত অবমাননায় জরিমানা, আইনজীবী ঘেরাও বিতর্কে নতুন মোড়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আদালত অবমাননার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন তৃণমূল কংগ্রেস -এর মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবীদের চেম্বার ঘেরাও ও বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত, যা শেষ পর্যন্ত আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণে পৌঁছায়। ঘটনার সূত্রপাত এসএসসি (SSC) -এর শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা বিভাগে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত মামলাকে ঘিরে। অভিযোগ ছিল, অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে বেআইনি ভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim)। মামলায় একাংশ চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Biswajit Basu) এই মামলায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, কীভাবে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা আদালতে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন : Trisha Krishnan Vijay relationship, Vijay oath ceremony Trisha | শপথের মঞ্চে আবেগ, পোস্টে ভালবাসার ইঙ্গিত, বিজয়-তৃষা নিয়ে নতুন জল্পনা

এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। সেই সময় কুণাল ঘোষের নেতৃত্বে আইনজীবীদের চেম্বার ঘেরাও করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকী বিচারব্যবস্থাকে লক্ষ্য করেও কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করে কলকাতা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত কুণাল ঘোষকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ২০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করে। যদিও এই শাস্তির পরিমাণ আর্থিক দিক থেকে খুব বড় না হলেও, আদালতের পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক ও আইনি মহলে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই রায়ের পর কুণাল ঘোষ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি, ‘ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম না। পুরো ঘটনাকে আমি নিন্দা করেছি। তবুও আমাকে জরিমানা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করি। কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর উত্তেজনার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, তা মেনে নিয়ে আইনগত পথেই পরবর্তী পদক্ষেপ করব।’ তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্য দিকে, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ক্রিমিনাল কনটেম্পটের ক্ষেত্রে এই ধরনের দোষী সাব্যস্ত হওয়া সচরাচর দেখা যায় না। আদালত দেখিয়ে দিল বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই রায় প্রমাণ করেছে যে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে শাসকদলকে আক্রমণ শুরু করেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিচারব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছিল। যদিও তৃণমূলের তরফে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞ মহলে এই রায় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালত অবমাননার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আদালতের এই অবস্থান বিচারব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য ও আচরণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এই মামলার মাধ্যমে আবারও সামনে এল আদালতের স্বাধীনতা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা। আদালত যে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বা চাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে পারে, এই বার্তাই উঠে এসেছে এই রায়ে। কিন্তু, এখন দেখার বিষয়, কুণাল ঘোষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যান কি না, অথবা আইনি পথে অন্য কোনও পদক্ষেপ নেন কি না। তবে আপাতত এই রায় রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana performance Lord’s, Kranti Goud five wicket haul India Women | লর্ডসে ইতিহাসের গন্ধ! মন্ধানার ব্যাটে জ্বলে উঠল ভারত, ক্রান্তির পাঁচ উইকেটে ভেঙে পড়ল ইংল্যান্ড

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন