সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শিলিগুড়ি : টানা বর্ষণে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত জলমগ্ন। তার মধ্যেই ভয় বাড়াচ্ছে তিস্তার (Teesta River) জলস্তর। নদীর জল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তাবাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের তরফে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে তিস্তাবাজার থেকে দার্জিলিং (Darjeeling)-এর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক জায়গায় ধস নামায় পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দার্জিলিং, কালিম্পং (Kalimpong) এবং উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে আগামী দু’দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিস্তাবাজার এলাকায় তিস্তার জল বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে রাস্তার ধার ঘেঁষে বইতে শুরু করেছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তিস্তাবাজার-দার্জিলিং সড়কটি পাহাড়ি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। এই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটক, সকলেই সমস্যার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে বর্ষার মরসুমে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়, তবে এবারের জলস্তর বৃদ্ধির গতি অনেকের নজর কাড়ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই রাস্তা বন্ধই থাকবে।
অন্য দিকে, শিলিগুড়ি (Siliguri) থেকে সিকিম (Sikkim)-গামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কেও ধস নেমেছে। ২০ মাইল এলাকায় ধসের জেরে যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সিকিমের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধের মুখে। জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলিও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে বিকল্প রাস্তা খোঁজার চেষ্টা চলছে, তবে পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না। পাহাড়ি অঞ্চলে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে পর্যটন শিল্পে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা পর্যটকদের সতর্ক করছে। তাদের তরফে বলা হচ্ছে, ‘বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে কালিম্পং ও সিকিম এড়িয়ে চলাই ভালো।’ বর্ষার সময় পাহাড়ে ধস নামা বা রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়শই ঘটে, তবে এবার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত অবনতি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যটন সংস্থাগুলির মতে, যারা এই সময়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তারা বিকল্প হিসেবে ডুয়ার্স (Dooars) বা দার্জিলিংকে বেছে নিতে পারেন। যদিও দার্জিলিংয়েও বৃষ্টির প্রভাব রয়েছে, তবুও সেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত। অন্য দিকে ডুয়ার্সে পর্যটকদের ভিড় ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। প্রকৃতির সবুজ সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই সেই দিকেই ঝুঁকছেন। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। নদীর জলস্তর, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং ধসপ্রবণ এলাকা, সব কিছুই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নদীর ধার বা ধসপ্রবণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাও এই পরিস্থিতিতে প্রভাবিত হয়েছে। বাজারে যাতায়াত, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ, সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। এদিকে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে তিস্তার জলস্তর যদি আরও বাড়ে, তা হলে আশপাশের এলাকায় বন্যার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। সেই কারণে আগাম সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে, আবহাওয়ার আপডেট দেখে তবেই যাত্রা পরিকল্পনা করুন। পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে, তাই সাবধানতা অবলম্বনই একমাত্র উপায়। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের এই পরিস্থিতি এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তিস্তার জলস্তর, ধস এবং বন্ধ রাস্তা, এসব মিলিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে এক অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, তা নিয়ে নজর রয়েছে সকলের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India petrol export Russia, Russia fuel crisis India oil trade | তেলের খেলায় উল্টে গেল হিসাব! রাশিয়াই এখন ভারতের পেট্রোল ক্রেতা, বিশ্ববাজারে চমকপ্রদ পালাবদল




