সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফরেই প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সাড়া ফেললেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম একাধিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিলেন তিনি। জনসভা এবং প্রশাসনিক বৈঠক দুই মঞ্চ থেকেই তাঁর বক্তব্যে উঠে এল একটাই সুর, ‘হিংসার দিন শেষ, আইনের শাসনই চলবে।’ একই সঙ্গে সোমবার থেকে রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হওয়ার ঘোষণা করে অপরাধ দমনে তিনি সরকারের কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের তাকিপুর হাই মাদ্রাসা স্কুল মাঠে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ট্রেন পোড়ানো, বাসে আগুন, পুলিশকে আক্রমণ, এ সব আর চলবে না। নারী সুরক্ষা এবং পাচার রোধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। শমসেরগঞ্জ বা ধুলিয়ানে যা ঘটেছে, সেই পরিস্থিতি আর হতে দেওয়া হবে না।’ তাঁর এই মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে যায়, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনওরকম শিথিলতা দেখাতে রাজি নয় সরকার।
এ দিনের বক্তব্যে তিনি নাম না করেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-কে কড়া সতর্কবার্তা দেন। সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘থানার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে, এই করব, ওই করব, বা জেলে জায়গা নেই বলে হুমকি দেয় এ ধরনের ভাষণ আর দেওয়া উচিত নয়।’ রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও, সরাসরি কারও নাম উচ্চারণ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম নিয়েও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প ও সংখ্যালঘু স্কলারশিপে ভুয়ো উপভোক্তার অভিযোগ সামনে আসায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত চলছে। কেউ যদি অনিয়ম করে থাকে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডিও জড়িত থাকলে তাঁকে জেলে যেতে হবে, বিএমওএইচ হলে চাকরি যাবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’ তিনি আরও জানান, যাচাই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই বহু ভুয়ো নাম উঠে এসেছে। ‘ডেটা যাচাই করতে গিয়ে প্রায় ৬০০ ভুয়ো উপভোক্তা ধরা পড়েছে। আধার লিঙ্ক, কেওয়াইসি যাচাই করতে গিয়ে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসছে। আরও সময় দিন, সব পরিষ্কার হবে,’ বলেন তিনি।
এ ছাড়াও ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ইস্যুতেও প্রশাসনকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ উঠেছে, অন্তত ৩৪টি ক্ষেত্রে ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনিক মহলে তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় ভাঙন সমস্যা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, দুই জেলার নদীভাঙন রোধে প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে নজর দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্য দিকে, শুভেন্দুর মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে কথা বলার অধিকার সবার আছে। কেউ যদি বক্তব্য রাখে, সেটাকে ভাষণবাজি বলা ঠিক নয়।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘যদি পুলিশ অন্যায় করে, তা হলে মানুষ অভিযোগ জানাবে। দেখা যাক, সেই অভিযোগে কতটা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়ক বা সাংসদদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আজ নির্দিষ্ট কর্মসূচি ছিল। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সকলকে ডাকা হবে।’ তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। মুর্শিদাবাদ সফরে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি রোধ এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এই তিনটি ক্ষেত্রেই সরকারের কঠোর অবস্থান সামনে এসেছে। সোমবার থেকে গুন্ডাদমন আইন চালুর ঘোষণা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal anti social activities bill 2026, Suvendu Adhikari new law details | ‘গুন্ডাদমনে’ কড়া পথে বাংলা! এক বছর আটক, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত : নতুন আইনে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের




