Wayanad landslide 2026, Kerala disaster news | ওয়ানাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭, এখনও নিখোঁজ ১, নদীর ধারে মিলল আরও একটি দেহ ঘিরে জল্পনা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়ানাড়: কেরলের ওয়ানাড় (Wayanad) জেলায় ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭। শুক্রবার উদ্ধারকারী দল নদীর ধারের কাছ থেকে আরও একটি দেহ উদ্ধার করেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে ওই দেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, ফলে নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। বর্তমানে এখনও একজনের খোঁজ চলছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ছিলেন দু’জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা রাকেশ গুচাইত (Rakesh Guchait) এবং হিমাচল প্রদেশের বিক্রম রানা (Vikram Rana)। উদ্ধার হওয়া নতুন দেহটি কার, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এক আধিকারিক জানান, ‘নদীর ধারের কাছ থেকে একটি দেহ পাওয়া গিয়েছে, কিন্তু এখনও শনাক্তকরণ সম্পূর্ণ হয়নি।’ এই পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন : Uttarkashi landslide 2026, Gangotri road update | টানা বৃষ্টি ও ধসের দাপট, বারবার বন্ধ গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়ক, আটকে পড়ছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা

গত ৭ জুলাই আনাক্কম্পয়িল-মেপ্পাডি (Anakkompoyil-Meppadi) টানেল প্রকল্প এলাকায় এই ধস নামে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ওয়ানাড় ও কোঝিকোড (Kozhikode) জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা। তবে প্রবল বৃষ্টি এবং পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্বল মাটির কারণে আচমকা ধস নেমে প্রকল্প এলাকায় কাজ করা শ্রমিক ও কর্মীরা বিপদের মুখে পড়েন। ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। চতুর্থ দিনে শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force), দমকল বাহিনী এবং পুলিশ একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়। ভারী যন্ত্রের সাহায্যে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। এক উদ্ধারকর্মীর কথায়, ‘মাটির স্তর খুবই পুরু হয়ে আছে, তাই ধীরে ধীরে সরিয়ে খোঁজ চালাতে হচ্ছে।’ এর আগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৬টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। শুক্রবার নতুন করে একটি দেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭ হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই ধরনের দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় মাটি সরে গিয়ে বড় অংশ ঢেকে দিলে তল্লাশি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাছাড়া বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে থাকায় নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও থেকে যায়, যা উদ্ধারকারীদের কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ধসের সময় প্রকল্প এলাকায় বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই পাহাড়ের অংশ ভেঙে পড়ে, ফলে অনেকে চাপা পড়ে যান। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। অন্যদিকে, নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের কাছে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের আশা, দ্রুত নিখোঁজদের খোঁজ পাওয়া যাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনার পর নির্মীয়মাণ টানেল প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাহাড়ি এলাকায় বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়ানাড়ের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষাকালে ভূমিধসের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। প্রতি বছরই এমন ঘটনা সামনে আসে, যা স্থানীয় মানুষ ও শ্রমিকদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সতর্কতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আরও সামনে আসছে। বর্তমানে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হল নিখোঁজ ব্যক্তিকে দ্রুত খুঁজে বের করা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। ওয়ানাড়ের এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল পাহাড়ি অঞ্চলে কাজ করার সময় কতটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। উদ্ধারকাজ শেষ হলে পুরো ঘটনার তদন্ত করে কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Jalalabad to Parshurampuri, UP city name change | জালালাবাদ থেকে পরশুরামপুরী! যোগী সরকারের সিদ্ধান্তে নতুন নাম, ইতিহাস-রাজনীতির টানাপোড়েনে উত্তরপ্রদেশে জোর চর্চা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন