সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ১০ জুলাই : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে সাম্প্রতিক নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালুর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজে শনিবার সূর্যপুরে গিয়ে ওই পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। মাত্র চার দিনের মধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রশাসনিক তৎপরতা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পরিবারের সদস্যরা এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সূর্যপুর এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, অপরাধ ঘটনার পর দ্রুত পুলিশি সাহায্য পাওয়া যায় না, কারণ নিকটবর্তী থানায় যেতে বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করতে হয়। সেই পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্তরে একটি ফাঁড়ি গড়ে তোলার দাবি জানান তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রী সেই সময়েই আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি জানান, বিষয়টি রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের নজরে আনা হয়েছে। প্রয়োজনে ভাড়াবাড়িতে হলেও দ্রুত পুলিশ আউটপোস্ট চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে কাজ শুরু হয়ে যায়। এর পর মাত্র চার দিনের মধ্যেই সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়। শনিবার সেটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রায় ৪৫ মিনিটের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। তিনি প্রথমে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন। তারপর গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল (Indrajit Mondal) -এর বাড়িতেও যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে নতুন ফাঁড়ির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় ফিরবেন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার সূর্যপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় এক নাবালিকার দেহ। অভিযোগ, তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং সন্দেহভাজন এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ হতে পারেন এবং প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে সূর্যপুরে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও তা মূলত টহলদারি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহৃত হয়। অভিযোগ দায়ের বা তদন্ত সংক্রান্ত কোনও কাজের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বারুইপুর থানায় যেতে হয়। নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালু হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশকর্মী ও আধিকারিক মোতায়েন করা হবে। ফলে এলাকায় নিয়মিত টহলদারি বাড়ানো যাবে, অপরাধ দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে ও জরুরি পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ সাড়া দেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দারা ফাঁড়িতেই অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন এবং প্রাথমিক তদন্তও সেখান থেকেই শুরু করা যাবে। এ দিকে, নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল (Prabhas Mondal) পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেন ও পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পর পুলিশের পাল্টা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডি (CID)-র হাতে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ফরেনসিক দলও যুক্ত হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করছে। বাকি অভিযুক্তেরা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এতে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে দ্রুত প্রতিশ্রুতি পূরণ করার মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক গতিও সামনে এসেছে। বারুইপুরের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার জবাব দিতে প্রশাসন যে দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখন নজর থাকবে, নতুন ফাঁড়ি চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি কতটা বদলায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Baruipur incident news, Suvendu Adhikari statement | বারুইপুর কাণ্ডে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর! ‘চিপ ভিউ বাড়াতে উস্কানি, কেউ রেহাই পাবে না’ : ২০০ জন চিহ্নিত, ধরপাকড়ে জোর



