ethanol blending India, E20 fuel benefits | E20 পেট্রোলে মাইলেজ কমলেও ‘বড় লাভের’ দাবি কেন্দ্রের, দূষণ হ্রাস ও পারফরম্যান্সে জোর তেল মন্ত্রকের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশজুড়ে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, সেই সময় কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রক শুক্রবার স্পষ্ট করে জানাল, ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো পেট্রোল বা E20 ব্যবহারে কিছু গাড়িতে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি দক্ষতা কমতে পারে। তবে একই সঙ্গে মন্ত্রকের দাবি, এই সামান্য ক্ষতি অন্যান্য একাধিক সুবিধার তুলনায় অনেকটাই নগণ্য।

তেল মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত একটি প্রশ্নোত্তর নথিতে বলা হয়েছে, E20 পেট্রোলকে ‘উন্নত মানের ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘E20 ব্যবহারে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা উন্নত হয়, জ্বালানি দ্রুত জ্বলে, পিকআপ ভালো হয় এবং গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা আরও মসৃণ হয়।’ পাশাপাশি এই জ্বালানিতে উচ্চ অকটেন মান এবং উন্নত অ্যান্টি-নক বৈশিষ্ট্য থাকায় ইঞ্জিনের উপর চাপ কম পড়ে বলেও দাবি করা হয়েছে। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, E20 পেট্রোল চালুর আগে দীর্ঘ সময় ধরে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের কথায়, ‘দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি এবং পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরেই দেশজুড়ে E20 চালু করা হয়েছে।’ ইথানল মিশ্রণের পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। মন্ত্রকের বক্তব্য, এই কর্মসূচির সূচনা আজকের নয়, বরং ২০০১ সালে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর শুরু। ২০০৬ সালের মধ্যে দেশের কিছু অংশে ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রণ চালু হয়। যদিও ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই হার ছিল প্রায় ১.৫ শতাংশের কাছাকাছি, পরে ২০১৮ সালে জাতীয় বায়োফুয়েল নীতি (National Policy on Biofuels) চালু হওয়ার পর উৎপাদন বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : Donald Trump Avenue Hyderabad | হায়দরাবাদে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ নিয়ে বিতর্ক, তেলঙ্গানা সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন

চিনির আখের বাইরে গিয়ে ভুট্টা সহ অন্যান্য কাঁচামাল থেকেও ইথানল উৎপাদনের পথ খোলা হয়। এর ফলে উৎপাদন বাড়ে এবং ধাপে ধাপে মিশ্রণের হারও বৃদ্ধি পায়। ২০২২ সালে নির্ধারিত সময়ের আগেই ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ভারত। এরপর ২০২৫-২৬ ইথানল সরবরাহ বর্ষে ২০ শতাংশ মিশ্রণের লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে তেল মন্ত্রক। এই কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য দেশে একাধিক ইথানল উৎপাদন কেন্দ্র, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবহন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। মন্ত্রকের মতে, এই বিনিয়োগের ফলেই বৃহৎ পরিসরে E20 পেট্রোল সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন হল, পুরনো গাড়িতে এই জ্বালানির প্রভাব কী হতে পারে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, E20 চালুর আগে ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, জ্বালানি ব্যবস্থার সামঞ্জস্য, উপাদানের সহনশীলতা, ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নির্গমন, ইত্যাদি দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাদের দাবি, ‘বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, পুরনো বা ব্যবহৃত গাড়িতেও বড় কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি।’ গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরা হয়েছে এই নথিতে। মারুতি সুজুকি (Maruti Suzuki) ও হিরো মোটোকর্প (Hero MotoCorp)-এর মতো সংস্থার প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘E20 ব্যবহারের ফলে জং ধরা, অস্বাভাবিক ক্ষয় বা যন্ত্রাংশের আয়ু কমে যাওয়ার মতো সমস্যা সামনে আসেনি।’

তেল মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, E20 পেট্রোল ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত সুবিধাও পাওয়া যাবে। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব হবে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। যদিও মাইলেজ কমার প্রসঙ্গ নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবুও কেন্দ্রের মতে, উন্নত পারফরম্যান্স, কম দূষণ এবং দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির সুবিধা মিলিয়ে এই পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। তবে, বর্তমানে দেশে ধাপে ধাপে E20 পেট্রোলের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। আগামী দিনে এই জ্বালানি ব্যবস্থার আরও বিস্তার ঘটানো হবে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। কেন্দ্রের এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্প মহল।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Oilseeds Kisaan Mitra India, WhatsApp AI farming advisory | WhatsApp-এই কৃষি বিপ্লব! ‘কিষান মিত্র’ চালু, তেলবীজ চাষে ২৪ ঘণ্টার AI সহায়তা পাবে দেশের কৃষকরা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন