সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দল গঠন, নেতৃত্ব ও কোচিং কৌশল নিয়ে। একের পর এক হারের ধাক্কায় চাপে পড়েছে টিম ইন্ডিয়া, আর সেই চাপ সরাসরি এসে পড়েছে কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)-এর উপর। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) -এর অন্দরে ইতিমধ্যেই তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের হার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোনও টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ভারত দু’টির বেশি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের পর আবার ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ় হারতে হল ভারতকে। এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ০-২ ব্যবধানে সিরিজ় হারতে হয়েছিল শ্রেয়স আইয়ারদের (Shreyas Iyer) দলকে। পরপর এই ব্যর্থতা বোর্ডের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বোর্ডের চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বোর্ড সূত্রে খবর, আপাতত কোচ পরিবর্তনের কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও, পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে বিস্তারিতভাবে। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিক ফলাফল না আসায় উদ্বেগ বেড়েছে। বোর্ডের এক কর্তা একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘এখনই কোচ বদলের কথা ভাবা হচ্ছে না। কিন্তু একই ধরনের ব্যর্থতা বার বার হলে সেটাকে হালকা ভাবে নেওয়া যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলে পরিবর্তনের কথা বার বার বলা হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি সিরিজ়েই এই ব্যাখ্যা সামনে আসছে, যা আমাদের সন্তুষ্ট করছে না।’
গম্ভীর নিজে একাধিকবার জানিয়েছেন, দল নতুন করে তৈরি হচ্ছে ও তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর যুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য পরিবর্তন জরুরি। তবে বোর্ডের একটি অংশ এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বর্তমান দলে একাধিক পরিবর্তন হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দলের তুলনায় এখনকার স্কোয়াডে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) ও জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) -এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি অধিনায়কত্বেও পরিবর্তন হয়েছে। ওপেনিং জুটিতেও স্থিরতা নেই।
তরুণ ক্রিকেটারদের ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে দলে। বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) -এর মতো কমবয়সী ক্রিকেটার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রিন্স যাদব (Prince Yadav)-এর মতো নতুন মুখও দলে জায়গা করে নিয়েছেন। হর্ষিত রানা (Harshit Rana) চোট কাটিয়ে ফিরে এসেছেন। তবে এই পরিবর্তনের মাঝেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শ্রেয়স আইয়ার, তিলক বর্মা (Tilak Varma), অভিষেক শর্মাদের (Abhishek Sharma) মতো ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স না আসায় সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা দলের হারের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বোলিং বিভাগেও শেষ মুহূর্তে চাপ সামলাতে না পারার অভিযোগ রয়েছে।
বোর্ডের একাংশ মনে করছে, পরিবর্তন প্রয়োজন হলেও তার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি। শুধুমাত্র নতুন মুখ এনে দল সাজালে তাৎক্ষণিক ফল নাও আসতে পারে। তাই কৌশলগত দিক থেকেও কোচিং স্টাফের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। এ দিকে, ক্রিকেটমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে বোর্ড এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে পারফরম্যান্স রিভিউয়ের ফলাফলের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। সামনে আরও আন্তর্জাতিক সিরিজ রয়েছে, সেখানে দলের ফলাফলই ঠিক করে দেবে পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রসঙ্গত, ভারতীয় ক্রিকেটের মতো উচ্চ প্রত্যাশার পরিবেশে ধারাবাহিক ব্যর্থতা সহজে মেনে নেওয়া হয় না। সমর্থক থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটার সবাই নজর রাখছেন দলের উপর। এখন দেখার, টিম ইন্ডিয়া দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না ও কোচ গৌতম গম্ভীরের কৌশল কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : ICC Hall of Fame, Sourav Ganguly cricket career | ‘হল অফ ফেম’-এ সৌরভ, জন্মদিনেই এল বিশ্বমঞ্চের স্বীকৃতি, জয় শাহকে ধন্যবাদ দাদার



