Donald Trump Avenue Hyderabad | হায়দরাবাদে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ নিয়ে বিতর্ক, তেলঙ্গানা সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হায়দরাবাদ : তেলঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদ (Hyderabad) ফের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে। মার্কিন কনস্যুলেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম পরিবর্তন করে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ (Donald Trump Avenue) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস (Congress) পরিচালিত তেলঙ্গানা সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি (Revanth Reddy)-এর এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সমাজমাধ্যম, সর্বত্র শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) -এর সঙ্গে হায়দরাবাদের সম্পর্ক কী, যে কারণে এমন সম্মান দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, আগামী ২৩ জুন হায়দরাবাদের ফিনান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটমুখী সড়কটির নতুন নামকরণ হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেলঙ্গানা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) -এর মধ্যে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই উদ্যোগ হায়দরাবাদকে বিশ্বের এমন কিছু শহরের তালিকায় স্থান দেবে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে।’ উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই প্রথম এই প্রস্তাব সামনে এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি।

আরও পড়ুন : India UNSC permanent seat, Slovakia support India, PM Narendra Modi Europe visit | UNSC-তে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদে স্লোভাকিয়ার সমর্থন, মোদীর সফরে বড় কূটনৈতিক সাফল্য

আর

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই বিরোধিতার ঝড় ওঠে। সমাজমাধ্যমে অনেকেই সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘হায়দরাবাদের উন্নয়নে ট্রাম্পের অবদান কী?’ কেউ কেউ আবার বলছেন, এটি স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করার সমান। নাগরিকদের একাংশের মতে, শহরের কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বা ঐতিহাসিক ঘটনার নামেই রাস্তার নামকরণ হওয়া উচিত ছিল। এই বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে। গত মাসের শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি (Washington D.C.)-তে অবস্থিত ‘জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস’ (John F. Kennedy Center for the Performing Arts) -এর নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতা সামনে আসে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফেডারেল আদালত সেই প্রচেষ্টায় বাধা দেয়। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছিল, ‘এই ধরনের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।’ বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কেনেডি সেন্টারের সমস্ত জায়গা থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলতে হয়। এই ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘আমার এতে কিছু আসে যায় না। প্রতিষ্ঠানটিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।’

এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে হায়দরাবাদে ট্রাম্পের নামে রাস্তা করার সিদ্ধান্ত আরও বেশি নজর কাড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, এটি অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ডেকে আনছে। তেলঙ্গানা সরকারের পক্ষ থেকে যদিও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘হায়দরাবাদ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে। সেই কারণেই বৈশ্বিক স্তরে পরিচিত ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানানো হচ্ছে।’ তাঁদের মতে, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে। অন্য দিকে, বিরোধী দলগুলিও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। বিজেপি (BJP) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই এই ধরনের ঘোষণা করা হচ্ছে।

শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও মতভেদ দেখা যাচ্ছে। কেউ এই সিদ্ধান্তকে ‘গ্লোবাল কানেক্টিভিটি’-র অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিদেশি নেতাদের নামে রাস্তার নামকরণ নতুন নয়। কিন্তু কোনও বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সব সময়েই প্রশ্ন তোলে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবন ও বিতর্কিত মন্তব্যের ইতিহাস থাকায় এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, ২৩ জুন নির্ধারিত অনুষ্ঠানের আগে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়। সরকার কি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে, নাকি জনমতের চাপে কোনও পরিবর্তন আসবে, সেটাই নজরে রয়েছে। হায়দরাবাদের এই রাস্তার নামকরণ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং স্থানীয় আবেগ, সব কিছুর মিলিত প্রতিফলন হয়ে উঠেছে। ফলে আগামী দিনেও এই ইস্যু রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Donald Trump Global Tariff 15 Percent | সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুল্ক বাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! ১০% থেকে ১৫% ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ ঘোষণা, নজরে দিল্লি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন