প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কোয়েম্বত্তূর: দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে সমান্থা রুথ প্রভু (Samantha Ruth Prabhu) ও তাঁর স্বামী রাজ নিদিমোরু (Raj Nidimoru)। বিয়ের বয়স সবে ছ’মাস, তার মধ্যেই এক প্রকাশ্য মঞ্চে স্ত্রীকে ‘আই লাভ ইউ’ বলতে অস্বীকার করলেন পরিচালক রাজ। ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির অন্দর সর্বত্র শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর কোয়েম্বত্তূরে এক ঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠানে রাজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সমান্থা। এর আগে অভিনেতা নাগ চৈতন্য (Naga Chaitanya) -এর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আলোচনায় ছিলেন। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর একাধিক সাক্ষাৎকারে সমান্থা জানিয়েছিলেন, ‘মনের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, নতুন করে ভালবাসা হয়তো আর সম্ভব নয়।’ তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জীবনে ফের আসে নতুন অধ্যায়, আর সেই অধ্যায়ের কেন্দ্রেই রাজ।

বিয়ের পর এই প্রথম বড় মাপের কোনও প্রচার মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেল এই তারকা দম্পতিকে। সমান্থার আসন্ন ছবি ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ (Maa Inti Bangaram) -এর প্রচার উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজও, যিনি এই ছবির প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত। মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্ত্রী তথা অভিনেত্রীর কাজের প্রশংসা করতে শোনা যায় তাঁকে। কিন্তু সেই সময়েই ঘটে যায় এমন একটি মুহূর্ত, যা ঘিরে এখন চর্চা তুঙ্গে। অনুষ্ঠান চলাকালীন দর্শকাসন থেকে অনুরোধ আসে, রাজ যেন মঞ্চেই সমান্থাকে ‘আই লাভ ইউ’ বলেন। প্রথমে বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতে না পারলেও পরে সঞ্চালকের ব্যাখ্যায় বিষয়টি স্পষ্ট হয় তাঁর কাছে। কিন্তু প্রত্যাশিত রোম্যান্টিক প্রতিক্রিয়া না দিয়ে একেবারে ভিন্ন সুরে জবাব দেন রাজ। তিনি বলেন, ‘সমান্থাকে তো অনেকেই “লাভ ইউ” বলেন, এখনও দর্শকদের মধ্য থেকেও সেই আওয়াজ আসছে। তাই এই কথায় আলাদা কিছু নেই।’ এই মন্তব্যের পরই তিনি সমান্থার দিকে তাকিয়ে তাঁর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। রাজের কথায়, ‘ওর মতো একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করা সত্যিই রোমাঞ্চকর। প্রতিবার নতুন কিছু দেয়। এই মুহূর্তে আমি ওকে অভিনেত্রী হিসাবেই দেখছি।’
রাজের এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা। কেউ বলছেন, তিনি হয়তো ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। আবার অনেকের মতে, এই মন্তব্যে সম্পর্কের কোনও সূক্ষ্ম টানাপোড়েনের ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি সমান্থা। সমান্থার জীবনযাত্রা গত কয়েক বছরে একাধিক কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের মানসিক চাপের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পেশিপ্রদাহজনিত অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। সেই সময় একাধিকবার তাঁকে ভেঙে পড়তে দেখা গেলেও, ধীরে ধীরে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন এই অভিনেত্রী। নিজের জীবন ও কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও এসেছে পরিবর্তন। এখন বেছে বেছে কাজ করছেন তিনি, এবং ব্যক্তিগত সময়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি।
‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ ছবিটি সমান্থার কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রজেক্ট বলে মনে করা হচ্ছে। এই ছবির মাধ্যমে তিনি আবারও দর্শকদের সামনে এক নতুন রূপে ধরা দিতে চলেছেন। ছবির প্রচারেই এখন ব্যস্ত তিনি। সেই মঞ্চেই রাজের এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা নতুন কিছু নয়। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সমান্থা ও রাজের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অনেকেই মনে করছেন, একটি মুহূর্তের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
রাজ নিদিমোরু মূলত তাঁর কাজের জন্যই পরিচিত। ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ (The Family Man) -এর মতো জনপ্রিয় সিরিজের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বরাবরই কিছুটা সংযত। তাই প্রকাশ্য মঞ্চে আবেগঘন মন্তব্য এড়িয়ে যাওয়া তাঁর স্বভাবসিদ্ধ বলেও মনে করছেন অনেকেই। অন্যদিকে, সমান্থা বরাবরই নিজের অনুভূতি প্রকাশে খোলামেলা। তাই তাঁদের এই ভিন্ন স্বভাবও আলোচনার একটি কারণ হয়ে উঠেছে। তবে তাঁদের সম্পর্কের ভিত কতটা মজবুত, তা সময়ই বলবে। এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ সমর্থন করেছেন রাজের ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখার সিদ্ধান্তকে, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর মন্তব্যের ধরন নিয়ে। তবে সমান্থা বা রাজ কেউই এখনও এই বিতর্ক নিয়ে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। বিয়ের ছ’মাসের মাথায় এমন একটি মুহূর্ত নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে। তবে এটি শুধুই এক প্রকাশ্য ঘটনার প্রতিক্রিয়া, না কি এর পিছনে অন্য কোনও গল্প রয়েছে, সেই উত্তর এখনও অজানা। আপাতত নজর রয়েছে তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এবং সমান্থার নতুন ছবির সাফল্যের উপর।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samantha comeback, Samantha personal life | বড় তারকা হওয়ার দৌড়েই হারাচ্ছিলেন শান্তি, অকপটে সামান্থা রুথ প্রভু



