সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা ৮ জুলাই : বারুইপুর (Baruipur) -এর সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কড়া অবস্থান নিলেন। আইনশৃঙ্খলা ভাঙচুর, গুজব ছড়ানো ও সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন তিনি। এদিন প্রশাসনিক বৈঠক ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যে বা যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে প্রশাসন এখন পুরোপুরি অ্যাকশনে নামতে চলেছে।
আরও পড়ুন : Om Birla West Bengal | বিধানসভায় শেখার পাঠ : ওম বিড়লার প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
গণপিটুনিতে মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমায় যা জানিয়েছে, আমি তদন্তকারী সংস্থা নই। তবে যিনি মারা গিয়েছেন তিনি নিরীহ ছিলেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমি দেখা করেছি। তাঁকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।’ তাঁর এই বক্তব্যে মৃতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস মিলেছে। এই ঘটনার পাশাপাশি বারুইপুরে গণধর্ষণের অভিযোগ নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘এই ধরনের অপরাধে যারা জড়িত তাদের কোনও রকম রেয়াত করা হবে না।’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। যদিও তিনি সরাসরি কোনও দলের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও বক্তব্যে তৃণমূল (Trinamool Congress) ও সিপিএম (CPM)-এর দিকে পরোক্ষ আক্রমণ শোনা গিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘পিছন থেকে যারা উস্কানি দিয়েছে, তারা রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক বা অন্য কেউ, কাউকে ছাড়া হবে না। যারা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে কিংবা ক্ষমতা হারিয়েছে, তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ মিডিয়ায় প্রচারের লোভে, সোশ্যাল মিডিয়ায় চিপ ভিউ বাড়ানোর জন্য উস্কানি দিয়েছেন। তাঁদেরও ভুগতে হবে। আইন নিজের পথে চলবে।’ এই মন্তব্যের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে তদন্তে নেমেছে পুলিশ এবং বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF)। বিভিন্ন কল রেকর্ডিং, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘ডিজিপি (DGP) -এর নেতৃত্বে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কারা কোথা থেকে নির্দেশ দিয়েছে, কারা উস্কানি দিয়েছে, সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর নিয়েও তিনি কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘রেললাইন উপড়ে ফেলা, গাড়ি ভাঙচুর, এসব কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইন নিজের কাজ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা পুলিশের উপর হামলা চালাবে, তাদেরও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।’ উল্লেখ্য, অতীতেও এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী অবস্থানে থাকাকালীন সময়েও তিনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এখন প্রশাসনের দায়িত্বে থেকে একই বিষয়ে আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বারুইপুরের এই ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর। এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও কম নয়। রাজ্যের বিভিন্ন মহলে এই নিয়ে আলোচনা চলছে। শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্বের আবহে এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে প্রশাসনের তরফে বারবার জানানো হচ্ছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের ফলে আগামী দিনে আরও গ্রেফতারি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই চিহ্নিতদের তালিকা তৈরি হয়েছে। তদন্ত এগোলে আরও নাম সামনে আসতে পারে বলেই সূত্রের খবর। বারুইপুর কাণ্ড এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত বিষয়। একদিকে গণপিটুনিতে মৃত্যু, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ভাঙচুর, এসব মিলিয়ে পরিস্থিতি সংবেদনশীল বলে উল্লেখ। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal land records, free khatian download | বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর : বিনামূল্যে মিলবে খতিয়ান ও প্লট ইনফরমেশন, জমির নথি এখন এক ক্লিকেই



