সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) জমির মালিকদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জমির খতিয়ান (Record-of-Rights) ও প্লট ইনফরমেশন (Plot Information) সংগ্রহ করতে আর কোনো আবেদন ফি বা এনকোয়ারি চার্জ দিতে হবে না, এই ঘোষণা সামনে আসতেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে জমির নথি সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে আর্থিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো সাধারণ মানুষকে, সেই প্রক্রিয়ায় এবার বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘নাগরিক পরিষেবাকে স্বচ্ছ, সহজ এবং সবার নাগালে পৌঁছে দিতে আমাদের সরকার দায়বদ্ধ। সেই লক্ষ্যেই খতিয়ান ও জমির দাগ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য নেওয়া সমস্ত ফি তুলে দেওয়া হল।’ তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে রাজ্যের যে কোনও নাগরিক অনলাইনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডিজিটালি স্বাক্ষরিত খতিয়ান ও প্লটের তথ্য ডাউনলোড করতে পারবেন। এর জন্য কোনো প্রমাণীকরণ ফি বা অতিরিক্ত চার্জ ধার্য করা হবে না। আগে যেখানে একটি খতিয়ান বা প্লটের তথ্য পেতে আবেদন ফি, প্রিন্ট চার্জ কিংবা অন্যান্য খরচ যুক্ত হতো, এখন সেই সব খরচ সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন কৃষকরা, বিশেষ করে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। জমির কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজে তাঁদের প্রায়ই ব্লক অফিস বা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে (Land & Land Reforms Department) যেতে হত। অনেক সময় অনলাইন আবেদন করলেও নানা ধরনের ফি দিতে হতো, যা তাঁদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াত। নতুন ব্যবস্থায় সেই সমস্যা আর থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
জমির খতিয়ান ও প্লট ইনফরমেশন শুধু মালিকানার প্রমাণ হিসেবেই নয়, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জমি বিক্রি, বন্ধক রাখা কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এই নথির প্রয়োজন হয়। আগে এই নথি সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই সময় ও অর্থ দুই-ই ব্যয় করতেন। এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হয়ে গেল। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই উদ্যোগের ফলে দালাল চক্রের প্রভাবও কমে আসবে। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দালালদের সাহায্য নিতে হতো, কারণ তাঁরা নিজেরা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে পারতেন না। অনলাইন পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়ে যাওয়ায় এখন মানুষ নিজেই নিজের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে পারবেন।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জমির নথি ডিজিটাল ফরম্যাটে সহজলভ্য হওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে গতি আসবে। একই সঙ্গে গ্রাম ও শহর, উভয় ক্ষেত্রেই নাগরিকদের সুবিধা মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে। কৃষক সংগঠনগুলির একাংশ এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমির নথি সংগ্রহ করতে গিয়ে যে সমস্যার মুখে পড়তে হতো, তা অনেকটাই কমবে।’ সাধারণ কৃষকরাও এই সিদ্ধান্তে খুশি। তাঁদের দাবি, ‘এতে খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং ঝামেলাও কম হবে।’
এই নতুন পরিষেবার ফলে এখন ঘরে বসেই মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় জমির তথ্য। ফলে সরকারি দফতরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজনও অনেকটাই কমে যাবে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও আধুনিক করে তুলবে বলেই মত অনেকের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁর বার্তায় আরও জানান, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হল প্রতিটি নাগরিক পরিষেবাকে আরও সহজ এবং দ্রুত করে তোলা। জমির তথ্য সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ। আগামী দিনে ভূমি সংক্রান্ত আরও পরিষেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, এর ফলে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জমির নথি সহজে পাওয়া গেলে লেনদেনের গতি বাড়বে এবং আইনি জটিলতাও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, খতিয়ান ও প্লট ইনফরমেশন বিনামূল্যে পাওয়ার এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের জন্য এক বড় পরিবর্তন নিয়ে এল। জমির নথি সংগ্রহের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যার একটি বড় অংশের সমাধান মিলতে চলেছে। ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে এই উদ্যোগ রাজ্যের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নতুন স্বস্তি এনে দেবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari women help desk, cyber help desk | রাজ্যের সব থানায় মহিলা ও সাইবার হেল্প ডেস্ক চালু, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর




