Venezuela earthquake survivor, Hernan Gil rescue story | ৮ দিন মৃত্যুর মুখে লড়াই, ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপ ভেদ করে জীবিত উদ্ধার হার্নান গিল ভেনেজ়ুয়েলার ভূমিকম্পে চমকপ্রদ বেঁচে ফেরা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কারাকাস: ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজ়ুয়েলায় (Venezuela) ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে অলৌকিক ভাবে জীবিত উদ্ধার এক যুবককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন। প্রায় ১৪০ টন কংক্রিটের স্তূপের তলায় আটকে থাকার পর আট দিন পরে উদ্ধার হলেন হার্নান আলবার্টো গিল ফ্লোরেস (Hernan Alberto Gil Flores)। দীর্ঘ সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের শেষে তাঁকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন উদ্ধারকারীরা। তবে উদ্ধার মুহূর্তে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। উদ্ধারকারী দল জানায়, ধ্বংসস্তূপের মাঝে ক্ষীণ আলো ফেলতেই চোখের পলক পড়তে দেখা যায়। তখনই বোঝা যায়, ভিতরে কেউ জীবিত রয়েছেন। শুরু হয় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার অভিযান। কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে তাঁকে বাইরে আনতে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। কোস্টা রিকা (Costa Rica) -এর উদ্ধারকারী দলের সদস্য মিনইয়ার কোলাডো (Minyer Collado) জানান, ‘ওঁকে যখন বের করা হচ্ছিল, তখন তিনি খুব দুর্বল কণ্ঠে বার বার বলছিলেন, আমি বেঁচে আছি, এই খবরটা যেন স্ত্রীকে না জানানো হয়।’

আরও পড়ুন : Neymar donation, Venezuela earthquake news | ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজ়ুয়েলায় মানবিক নেমার, বিশ্বকাপের মাঝেই ২.৫ কোটি টাকার সাহায্য, মাঠের বাইরে নজির গড়লেন ব্রাজিল তারকা

এই অনুরোধ শুনে অবাক হয়ে যান উদ্ধারকারীরা। তাঁরা কারণ জানতে চাইলে গিল জানান, ‘এখন বেঁচে আছি ঠিকই, কিন্তু কতক্ষণ টিকতে পারব জানি না। তাই অযথা আশার কথা জানানো ঠিক হবে না।’ যদিও পরে তাঁর স্ত্রী গুসবিমান গোনজ়ালেজ (Gusbiman Gonzalez)-এর কাছে তাঁর বেঁচে ফেরার খবর পৌঁছে যায়। উল্লেখ্য, ২৪ জুন ভেনেজ়ুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং পরেরটি ৭.৫। এই বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রের খবর, গিল একটি বহুতল শপিং মলে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। ভূমিকম্পের সময় তিনি ওই ভবনের বেসমেন্টে ছিলেন। প্রবল কম্পনের জেরে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে গোটা ভবন। বেসমেন্টে থাকায় তিনি কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান। চারদিক অন্ধকার, বাতাসের স্বল্পতা, এই অবস্থায় বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যান তিনি। উদ্ধারের পর গিল জানান, ‘এক সময় মনে হয়েছিল কেউ হয়তো আমাকে খুঁজে পাবে না। আমি যে এখানে আটকে আছি, সেটাও কেউ জানতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফিরতে পারলাম।’ তাঁর এই বক্তব্য এখন বহু মানুষের মনে দাগ কেটেছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের মতে, এত ভারী ধ্বংসস্তূপের নীচে আট দিন বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তবুও গিলের মানসিক শক্তি এবং বাঁচার ইচ্ছাই তাঁকে টিকিয়ে রেখেছিল। তাঁকে উদ্ধারের সময় বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে ধাপে ধাপে কংক্রিট সরাতে হয়েছে। সামান্য ভুল হলেই বড় বিপদ হতে পারত বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।

এই ঘটনায় মানবিকতার আরেকটি দিকও সামনে এসেছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা অবস্থাতেও গিল নিজের পরিবারের কথা ভেবেছেন। তাঁর স্ত্রীর মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই এমন অনুরোধ করেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর ভেনেজ়ুয়েলায় এখনও উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে। বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্যকারী দল সেখানে পৌঁছেছে। আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক প্রচেষ্টাও সমান তালে চলছে। গিলের বেঁচে ফেরা এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে একটুখানি আশার আলো দেখিয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে এমন কিছু ঘটনা মানুষের মনকে নাড়া দেয়। হার্নান গিলের এই লড়াই সেই ধরনেরই এক অধ্যায়, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবে মানুষ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Instagram child abuse ads, Ashwini Vaishnaw IT Ministry | ইনস্টাগ্রামে শিশু নির্যাতন প্রচার নিয়ে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের, মেটাকে তলব আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন