সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। এত দিন ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেয়ে আসা প্রাক্তন লোকসভা বিরোধী দলনেতার নিরাপত্তা হ্রাস করে তাঁকে ‘এক্স’ ক্যাটেগরিতে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে উল্লেখ। প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই নিয়মমাফিক পর্যালোচনার ফল, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও সমীকরণ? সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অধীর চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে থাকার কারণে উচ্চস্তরের নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন। বিশেষত লোকসভার বিরোধী দলনেতা থাকার সময় তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল আরও কড়া। সেই সময় ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরিতে একাধিক সশস্ত্র জওয়ান তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকতেন। তবে বর্তমানে তিনি না সাংসদ, না কোনও বিধায়ক পদে রয়েছেন। কংগ্রেসের সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তিনি শীর্ষস্তরের দায়িত্বে নেই, কেবল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের একাংশের মত, পদমর্যাদা ও ঝুঁকির মাত্রা বিচার করেই নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সময় সময়ে পুনর্বিবেচনা করা হয় ও সেই অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হয়। ফলে এই সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক বলে দেখার কারণ নেই। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিতে দেখছে। তাঁদের মতে, সময় নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে এই পদক্ষেপ ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। প্রসঙ্গত, প্রায় তিন বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) প্রকাশ্যে অধীরের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অধীরের সঙ্গে বিজেপির (BJP) ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই সময় অভিষেক বলেছিলেন, ‘দিদির পুলিশের উপর আস্থা না রেখে অন্য শক্তির উপর নির্ভর করছেন অধীর।’ এই মন্তব্য ঘিরে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
অভিষেকের সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেছিলেন, ‘যদি এতই আত্মবিশ্বাস থাকে, তা হলে নির্বাচনে লড়াই করুন। আমি হারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’ তাঁর এই বক্তব্য তখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট আবার সামনে আসতেই বর্তমান নিরাপত্তা হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan) -এর কাছে পরাজিত হন অধীর। দীর্ঘদিনের সাংসদ হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও সেই নির্বাচনের ফলাফল রাজনীতিতে তাঁর অবস্থানে প্রভাব ফেলে। তবুও প্রাক্তন সাংসদ হওয়ার পরেও তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের কিছু সময় পরেই এই পরিবর্তন সামনে আসায় সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে। কাকতালীয় ভাবে ওই দিনই মুর্শিদাবাদ সফরে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। যদিও দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি, তবুও রাজনৈতিক অন্দরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজের নিরাপত্তা কমানো নিয়ে অবশ্য নির্বিকার অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন মনে হয়েছে বলেই কমানো হয়েছে। আমি কোন ক্যাটেগরিতে আছি, তা নিয়েও মাথা ঘামাই না।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘নিরাপত্তা চেয়ে আমি কখনও কেন্দ্র বা রাজ্যের কাছে আবেদন করিনি।’ তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যায়, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও বিতর্কে যেতে চান না তিনি।
কিন্তু, নিরাপত্তা হ্রাসের এই সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের অন্দরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশের মতে, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নেতার ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা প্রয়োজন ছিল। অন্য দিকে, আরেক অংশ মনে করছে, প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই এই পরিবর্তন হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নিরাপত্তা ইস্যু প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। বিভিন্ন সময়ে শাসক ও বিরোধী দলের নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় অধীর চৌধুরীর নিরাপত্তা হ্রাসের ঘটনাও নতুন মাত্রা যোগ করল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ইস্যু ঘিরে আলোচনা যে আরও কিছু দিন চলবে, তা বলাই যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India mega refinery project, Narendra Modi announcement refinery | ৪০টি আইফেল টাওয়ারের সমান স্টিল! ভারতের মেগা রিফাইনারি প্রকল্পে নজর, মোদীর ঘোষণায় চর্চা তুঙ্গে




