সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পুণে : পুণের বহুল আলোচিত কেতন অগ্রবাল (Ketan Agrawal) হত্যা মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চমকে দেওয়া তথ্য। প্রেম, প্রতারণা এবং পরিকল্পিত অপরাধ এই তিনের জটিল জালে জড়িয়ে পড়েছে এক তরুণ ব্যবসায়ী পরিবারের কাহিনি। এবার তদন্তকারীদের হাতে এসেছে এমন কিছু ডিজিটাল প্রমাণ, যা এই মামলার মোড় আরও ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন পোস্ট, জন্মদিনের ছবি, আর খুনের ঠিক আগে তোলা একটি ভিডিও, সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়ঙ্কর চিত্র। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কেতন অগ্রবালের মৃত্যুর পর তাঁর বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল (Siya Goyal) যে আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন, তা আসলে ছিল পরিকল্পনারই অংশ। ওই পোস্টে একটি জন্মদিনের ছবি দেখা যায়, যেখানে টেবিলের উপর কেক, জ্বলন্ত মোমবাতি এবং হাঁটু গেড়ে ‘প্রপোজ়’-এর দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সেই ছবির সঙ্গে সিয়া লেখেন, ‘আমার জন্মদিনে তুমি নেই। আমাকে একা করে দিয়ে তুমি চলে গেলে এ ভাবে।’ এই পোস্টটি কেতনের মৃত্যুর পরপরই করা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা বলে মনে হয়, এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

শুধু এই একটি পোস্ট নয়, আরও একাধিক আবেগপূর্ণ লেখা শেয়ার করেছিলেন সিয়া। তিনি লিখেছিলেন, ‘তুমি এ ভাবে ছেড়ে চলে গেলে? আমাদের বিয়ে যখন ঠিক হয়ে গেল, সেই সময়ে তোমার হঠাৎ চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছি না।’ আরও একটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি এখনও বুঝতে পারছি না, কেন তুমি এমন করলে। আমার অনেক স্বপ্ন ছিল তোমাকে নিয়ে।’ এই সব লেখায় শোক, বিস্ময় এবং ভালবাসার প্রকাশ থাকলেও তদন্তকারীদের মতে, এগুলি ছিল সন্দেহ এড়ানোর কৌশল। এদিকে, মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে একটি ভিডিও ফুটেজ। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি গাড়ির সামনের আসনে বসে রয়েছেন কেতন। চালকের পাশের সিটে তিনি, আর পিছনের আসনে বসে রয়েছেন সিয়া। ভিডিওতে তাঁদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা, কথোপকথন চলতে দেখা যায়। কেতনকে খুব স্বাভাবিক এবং আনন্দিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি খুনের ঠিক আগের মুহূর্তের ভিডিও। অর্থাৎ, ঘটনার আগে কোনও অশান্তির চিহ্ন ছিল না, বরং সব কিছু স্বাভাবিক ছিল।
এই সমস্ত তথ্য সামনে আসার পর তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। তাঁদের ধারণা, ১৮ জুন লোনাভালার (Lonavala) লোহাগড় দুর্গে (Lohagad Fort) ট্রেকিংয়ে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিত ভাবে কেতনকে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীকে (Chetan Chaudhary)। সূত্রের খবর, তদন্তে জানা গিয়েছে, কেতন ও সিয়ার বিয়ে শীঘ্রই হওয়ার কথা ছিল। পরিবারও প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই সিয়ার সঙ্গে চেতনের সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সম্পর্কই পরবর্তীতে এই অপরাধের দিকে নিয়ে যায় বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, কেতনকে সরিয়ে দিলে সিয়া নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করতে পারবেন, এই ধারণা থেকেই এই পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার পরপরই সিয়ার আচরণ তদন্তকারীদের নজরে আসে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর পোস্টগুলি। একদিকে তিনি শোক প্রকাশ করছেন, অন্য দিকে তদন্তে উঠে আসছে তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ এই দ্বৈত আচরণই সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। এরপরই শুরু হয় বিস্তারিত অনুসন্ধান। পুলিশ ইতিমধ্যেই সিয়া গয়াল এবং চেতন চৌধরীকে গ্রেফতার করেছে। আদালতের নির্দেশে সিয়াকে ২৯ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে, আর চেতনকে এক সপ্তাহের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
সূত্রের আরও খবর, তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই পরিকল্পনা কত দিন ধরে চলছিল এবং আরও কেউ এতে যুক্ত ছিল কি না। মোবাইল কল রেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি, লোকেশন ডেটা সব কিছু বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট এবং ভিডিও ফুটেজ এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। এই ঘটনা আবারও দেখাল, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত আবেগ সব সময় সত্যের প্রতিফলন নয়। কখনও কখনও তা হয়ে উঠতে পারে অপরাধ ঢাকার হাতিয়ার। কেতন অগ্রবাল হত্যাকাণ্ড সেই দিক থেকেই এক নজিরবিহীন উদাহরণ হয়ে উঠছে, যেখানে ডিজিটাল উপস্থিতি তদন্তের কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kultoli: Awakening Hope for Education In A Quiet Corner of the Sundarbans



