সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ কলকাতা : FIFA World Cup 2026-এর মঞ্চে ফলাফল হয়তো তাদের পক্ষে যায়নি, কিন্তু আচরণ ও মানবিকতায় নজির গড়ল জর্ডান (Jordan)। ফুটবল বিশ্বে বহু দিন ধরেই জাপান (Japan) দলের একটি অনন্য প্রথা প্রশংসিত, ম্যাচ শেষে সাজঘর ঝকঝকে করে রেখে যাওয়া। এ বার সেই একই পথ অনুসরণ করল জর্ডান দলও। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দিন স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে নিজেদের ড্রেসিং রুম পরিষ্কার করে দিয়ে গেলেন জর্ডানের ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফরা। শুধু তাই নয়, স্টেডিয়ামের কর্মীদের জন্য রেখে গেলেন স্থানীয় মিষ্টি এবং একটি কৃতজ্ঞতার বার্তাও। ঘটনাটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলমহলে আলোড়ন তুলেছে। ফিফা (FIFA) নিজেই এই উদ্যোগের ভিডিয়ো তাদের সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা জর্ডানের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
জানা গিয়েছে, আলজেরিয়া (Algeria)-র কাছে পরাজয়ের পরই জর্ডানের বিশ্বকাপ যাত্রা কার্যত শেষ হয়ে যায়। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। তবে সেই হতাশার মুহূর্তেও দলের শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধে কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি। ম্যাচ শেষে সাজঘর এমনভাবে পরিষ্কার করে রাখা হয়, যেন তা ব্যবহারের আগের অবস্থায় ফিরে গিয়েছে। এর পাশাপাশি জর্ডানের পক্ষ থেকে একটি ছোট্ট নোটও রেখে যাওয়া হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমরা এখানে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী থেকেছি। যারা আমাদের দেখভাল করেছেন, তাদের দায়বদ্ধতা, পেশাদারিত্ব এবং আপ্যায়নে আমরা মুগ্ধ।’ এই কয়েকটি লাইনের মধ্যেই ফুটে উঠেছে দলের কৃতজ্ঞতা ও সম্মানবোধ। বিশ্বকাপে এটি জর্ডানের প্রথম অংশগ্রহণ। এশিয়ার এই দেশটির জন্য এই মঞ্চে খেলা নিজেই একটি বড় অর্জন। যদিও মাঠের লড়াইয়ে সাফল্য আসেনি। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়া (Austria)-র বিরুদ্ধে ১-২ ব্যবধানে হারতে হয় তাদের। পরের ম্যাচেও একই ব্যবধানে হার আলজেরিয়ার কাছে। ফলে শেষ ম্যাচে জয় পেলেও সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী হিসেবে এগোনোর সম্ভাবনা আর থাকছে না।
এখন তাদের সামনে শেষ ম্যাচ, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা (Argentina)। সেই ম্যাচ শুধুই মর্যাদার লড়াই। তবুও এই ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে মরিয়া জর্ডান শিবির। দলের কোচ জামাল সেলামি (Jamal Sellami) খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আলজেরিয়া কিছু পরিবর্ত খেলোয়াড় নামিয়েছিল, যা ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়। ওদের আক্রমণে লম্বা একজন ফুটবলার ছিল, যার প্রভাব পড়েছে। আমাদের অনভিজ্ঞতার কারণে দু’টি কর্নার থেকে গোল খেতে হয়েছে। তবুও আমরা ভাল লড়াই করেছি, এই পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব করা উচিত।’ এই মন্তব্যে ফুটে উঠেছে, হার সত্ত্বেও দলের লড়াইয়ের মান নিয়ে কোচ খুশি। নতুন দল হিসেবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা যে সহজ নয়, তা ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে।
ফুটবল কেবল ফলাফলের খেলা নয়, এই সত্য আবারও মনে করিয়ে দিল জর্ডান। মাঠের বাইরের আচরণ, প্রতিপক্ষ ও আয়োজকদের প্রতি সম্মান, এই বিষয়গুলোই একটি দলের প্রকৃত পরিচয় গড়ে তোলে। জাপান বহু বছর ধরে এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল জর্ডানের নাম। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন ছোট ছোট উদ্যোগই অনেক সময় বড় বার্তা দেয়। জর্ডানের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য দলগুলিকেও একই পথে হাঁটার উৎসাহ জোগাতে পারে। দর্শকদের কাছেও এটি এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়ে যাবে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ জর্ডানের যাত্রা হয়ত দীর্ঘ হয়নি, কিন্তু তাদের এই মানবিক উদ্যোগ দীর্ঘদিন মনে রাখবে ফুটবল দুনিয়া। শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তারা কী করে, তা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও, ইতিমধ্যেই তারা মন জয় করে নিয়েছে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :



